,

শ্রীপুরে মামলা থেকে রেহাই পেতে শিক্ষকের কাণ্ড

এমদাদুল হক, নিজস্ব প্রতিবেদক:
এক ছাত্রীর দায়ের করা মামলা থেকে রেহাই পেতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন করতে বাধ্য করলেন। ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা চত্তরে। উপজেলার তেলিহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী মুনসুর মানিক এ কর্মকাণ্ডের নায়ক।

প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ৪ঘন্টা আটকে রেখে এক ছাত্রীকে বেত্রাঘাতের ঘটনায় হওয়া মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই স্কুলের শিক্ষকদের নিজস্ব উদ্যোগে মানববন্ধন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে স্কুলের সকল ক্লাস বন্ধ রেখে ৪টি বাসে করে শিক্ষার্থীদের উপজেলা চত্তরে নিয়ে আসেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।

মুনসুর মানিক নানা কারণে গাজীপুরের শ্রীপুরে বেশ আলোচিত-সমালোচিত। অভিযোগ রয়েছে ক্ষমতার ‘দাপট’ দেখিয়ে স্কুলের অর্থ আত্মসাৎ,ছাত্র-ছাত্রীদের মারধর করার। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে রয়েছে নিজের স্ত্রীর স্থানে প্যারা শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে সরকারি বেতন তোলাসহ বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ। তেলিহাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের এই প্রধান শিক্ষক আবার তেলিহাটী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। এটাই তার প্রধান পরিচয়। অভিযোগ রয়েছে এই পরিচয়ই তাকে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক বানিয়েছে। জৈনাবাজার এলাকায় বিশাল বাড়িসহ বেশ কয়েকটি স্থানে কিনেছেন স্ত্রী ও নিজের নামে জমিও। সেই শিক্ষক এবার জন্মদিলেন আরেক চাঞ্চল্যকর ঘটনার। সম্প্রতি স্কুলে পাঠদান চলাকালে বিদ্যালয়ের মাঠে দুই ছাত্রের হাতাহাতি হয়। সহপাঠীদের হয়ে ঘটনাটি জানাজানি হয় শিক্ষকদের মধ্যে। শিক্ষকরা ঘটনা জানতে চাইলে ওই দুই ছাত্রই জানায়, তারা দুজনই এক মেয়েকে পছন্দ করে। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি হয় । অবশ্য তাদের একতরফা পছন্দের কথা ওই মেয়েটি জানেও না। এ তথ্য জানার পরও দুই ছাত্রকে ছেড়ে ধরে আনা হয় মেয়েটিকে।‘শাস্তি’ হিসেবে অফিসকক্ষে অন্যান্য শিক্ষকের সামনে প্রায় চার ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। ওই সময় কয়েকজন শিক্ষকের নানা অশালীন মন্তব্য আর গালাগালে অসুস্থ হয়ে পড়লেও রেহাই মেলেনি ওই মেয়েটির। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক ‘বেশ্যা’ অপবাদ দিয়ে মেয়েটিকে বেত্রাঘাত করেন।
ওই মেয়ের বাবা বলেন,আমার মেয়েকে বেত্রাঘাত করেছে সমস্যা নেই,অচেতন হওয়ার পরও যে ভাবে মারপিট করেছে,সেটা অভিভাবক হিসেবে মানা দায়। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি,বাবা আর মামার সামনে বিদ্যালয়ে যেতেও নিষেধ করেন আলী মুনসুর মানিক। এ ঘটনায় সোমবার রাতে প্রধান শিক্ষক আলী মুনসুর মানিক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামানকে আসামি করে মামলা করা করেন বাবা। মামলা হওয়ার খবর পেয়ে ওই দুই শিক্ষক গা ঢাকা দিয়েছেন বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এত্ত কিছুর পরও মামলা ভিন্ন খাতে প্রভাহিত করার জন্য স্কুলের পাঠ কার্যক্রম বন্ধ করে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের সামনে শিক্ষার্থীদের দিয়ে মানববন্ধন করান ওই স্কুলের শিক্ষকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, জোড় করে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে মানববন্ধন করান। আ’লীগের নেতা বলে তার কোন বিচার হয় না। গত কয়েক দিন আগেও রেজিস্ট্রেশনের নামে অর্থ আত্মসাৎ করার কথাও তিনি বলেন।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক আলী মুনসুর মানিক বলেন, এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে বলেন তিনি ফোন কেটে দেন।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)আসাদুজ্জামান বলেন,ওই স্কুলের দুই শিক্ষকের নামে ছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে মামলা করেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আকতার জনান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Print Friendly, PDF & Email

© ARTEEBEE Inc. 2016 ‐ 2018 Version: 20180213t091722

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *