রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন



চুনারুঘাটে আকল হত্যায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রুবেল গ্রেফতার

চুনারুঘাটে আকল হত্যায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রুবেল গ্রেফতার



 

নিজস্ব প্রতিনিধি ॥

জেলার চুনারুঘাট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি ও আহলে সুন্নাতওয়াল জামাত উপজেলার সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হোসেন আকল মিয়া হত্যাকান্ডের ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রুবেলকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। ৩১ মার্চ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা শহর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এনিয়ে এ মামলায় সাইফুল ইসলাম রুবেল, শামীম, সিএনজি চালক সুমনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া জড়িত বাকী আসামীদেরকেও গ্রেফতার করতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চুনারুঘাট থানার ওসি কেএম আজমিরুজ্জামান বলেন, এ মামলাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশ। তার সাথে মাঠে রয়েছে একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। মামলাটির তদন্তের স্বার্থে অনেকই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এরমধ্যে এ সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকেও আটক করার কথা শুনেছি। তবে বিষয়টি পুরোপুরি ডিবি পুলিশ বলতে পারবে।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ওসি শাহ আলমের সাথে মোবাইলে যোগে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি। এদিকে সাইফুল ইসলাম রুবেলকে আটককের খবরে শহরজুড়ে আলোচনার ঝড় বইছে।

এসপি বিধান ত্রিপুরা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রুবেলের গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন রবিবার প্রেসব্রিফিং করে বিস্তারিতদ জানানো হবে। এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ বৃহস্পতিবার ভোর অনুমান সাড়ে ৫টায় আবুল হোসেন আকল মিয়া নিজ বাসা থেকে হেটে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য বাল্লা রোডস্থ স্থানীয় আল মদিনা মসজিদে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা এ্যালোপাতারি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করলে সিলেট উসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

২ মার্চ শুক্রবার দিবাগত রাতে নিহতের ছেলে নাজমুল ইসলাম বকুল বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত আরো ৬ জনের নামে চুনারুঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাজারের ব্যবসায়ী রঞ্জন পাল, পৌর কাউন্সিলর চন্দনা গ্রামের কুতুব আলী ও শহরের মধ্যবাজারে উচ্ছেদকৃত মা ভেরাইটিজ স্টোরের মালিক জসিম উদ্দিন শামীম এবং আমকান্দি গ্রামের সুমন মিয়াকে আসামী করা হয়েছে।

পুলিশ ঘটনার দিন সকালে একটি অটোরিক্সাটি (সিএনজি) শহরের সতং রোড এলাকা থেকে উদ্ধার করে। সিএনজিটি আটকের ২ দিনের মাথায় সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। ঐ সিএনজিটি সুমনের ভাড়াকৃত বলে পুলিশ জানিয়েছে। হাজী আবুল হোসেন আকল মিয়া হত্যার পর থেকেই চুনারুঘাট শহরে এক ধরনের অজানা আতংক বিরাজ করছে। সন্ধার পরই শহরে মানুষের আনাগোনা কমে যায়। তবে ঘটনার দিন থেকেই র‌্যাব, পিবিআই, ডিবি, ডিএসবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা রহস্য উদঘাটনে শহরে সাদা পোষাকে চলাফেরা করছে। ইতিমধ্যে সিলেটের অতিরিক্ত ডিআইজি জয়দেব কুমার ভদ্র ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও নিহতের পরিবারের সদস্যর সাথে কথা বলেছেন এবং সান্তনা দিয়েছেন। মামলার বাদী নাজমুল ইসলাম বকুল বলেন তার পিতা চুনারুঘাট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও আহলে সুন্নাতওয়াল জামাত চুনারুঘাট উপজেলার সভাপতিসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত থেকে দীর্ঘদিন যাবত চুনারুঘাট থানার একজন বিশিষ্ট মুরব্বী হিসাবে বিভিন্ন শালিস বিচারে বিচারকের ভুমিকা পালন করে আসছিলেন। তার পিতার চুনারুঘাট বাজারে আল মদিনা মার্কেট, স’মিলসহ বিভিন্ন দোকান ঘর ও জমি রয়েছে। প্রায় এক বছর যাবত চুনারুঘাট বাজারের বাল্লা রোড গ্রীণ সুপার মার্কেট সংলগ্ন মৌজা- বড়াইল, জেএল নং ৬৬, খতিয়ান নং-৪০৪৭, সাবেক দাগ ১৩১৩/১৩০৯ বর্তমান ৪০০১এর মধ্যে ০.৫৫৬ শতক ভূ’মি নিয়ে চুনারুঘাট বাজারের বাল্লা রোডের মৃত রবীন্দ্র চন্দ্র পালের ছেলে ব্যবসায়ী রঞ্জন পাল (৪৮) পৌর শহরের চন্দনা গ্রামের মৃত আজগর আলীর ছেলে মোঃ কুতুব আলী (৪৮) (বর্তমান পৌর কাউন্সিলর), মৃত শামছুদ্দীন চৌধুরীর ছেলে জমিম উদ্দিন শামীম (৩২) ও পৌর শহরের উত্তর আমকান্দি গ্রামের মুজিবুল হকের ছেলে সুমনসহ (২০) স্থানীয় বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সাথে চরম বিরোধ ও মনোমালিন্য চলে আসছিল।

জনৈক আছমা বেগম ও শিরিন আক্তার বাদী হয়ে অতিরিক্ত জেলা হাকিম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৪ ধারায় মামলা ও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমল আদালত নং ২ এ মামলা দায়ের করলে উক্ত মামলা দুটি বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আবুল হোসেন আকল মিয়াকে হত্যার পিছনে জমি সংকান্ত বিরোধ থাকতে পারে বলে অনেকেরই ধারণা।

খবরটি শেয়ার করুন..








© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com
Desing & Developed BY W3Space.net