বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮, ০৪:২৯ অপরাহ্ন




মাধবপুরে শিক্ষক সায়েদুলের রমরমা প্রাইভেট বাণিজ্য

মাধবপুরে শিক্ষক সায়েদুলের রমরমা প্রাইভেট বাণিজ্য




মাধবপুর প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের মাধবপুরে কিছু অসাধু ও অর্থলোভী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা অবৈধ ভাবে প্রাইভেট বাণিজ্য করে বাধা গ্রস্থ করছে সুনাম অর্জনকারী একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। তারা সরকারের নীতি মালা লঙ্ঘন করে তাদের প্রতিষ্টানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বেপরোয়া প্রাইভেট বাণিজ্যনিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। যদিও নিজ প্রতিষ্টানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট বাণিজ্য বেআইনী।

তারপরও উপজেলার শাহজাহানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে কিছু অসাধু শিক্ষক ক্লাশের পূর্বে ও পরে বিদ্যালয়ের ভেতরে ও বাসায় প্রাইভেট কোচিং সেন্টার খোলে তারা নির্বিচারে প্রাইভেট বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। যার কারনে শিক্ষকের খাচাঁয় বন্ধি স্কুলের কমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা।

অনুন্ধানে দেখা গেছে, শাহজাহানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিএসসি শিক্ষক মোঃ সায়েদুল হক সহ বিভিন্ন শিক্ষক বিদ্যালয়ের ভিতরেই প্রাইভেট করাচ্ছেন এবং শাহজাহানপুর ইউপি অফিসের দক্ষিণ দিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ফজল মিয়ার বাড়িতে কোচিং সেন্টার খোলে বিদ্যালয়ের ক্লাস ফাঁকি দিয়েই চালিয়ে যাচ্ছেন প্রাইভেট বানিজ্য। অভিযোগ রয়েছে, যেখানে ৩০দিনে মাস চলছে সায়েদুলের কাছে প্রাইভেট পড়লেই গুনতে হবে অতিরিক্ত অর্থ ও ১৪দিনে মাস।

১৪ দিনে মাস কেন এ কিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক সায়েদুল জানান, কিছুই করার নেই। ১০দিনেও মাস চলছে অন্য জাগায়। আমাদের এখানে ১৪দিনে মাস। মনে চাইলে কেউ পড়বে আর না চাইলে কিছুই করার নেই? এরপর তিনি ঢাকার সাথে গ্রামের তুলনা করে বলেন, ঢাকা শহরে ১০দিনে মাস হিসেবে এক হাজার টাকায় পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। তার তুলনায় আমাদের অনেক কম।

এসব দেখার যেন কেউ নেই ? কথা আছে যে, অর্থ সম্পদের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চরিত্র । যে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন করার কথা তাদের চরিত্র এমন বিচিত্র। শিক্ষক নিয়মানুবর্তিতার শিক্ষা দেন যে জীবন নিয়মের সুতায় বোনা। কিন্তু তাদের মধ্যে কিছু নামধারী অর্থলোভী শিক্ষক সরকারী নিয়ম নীতিমালা লঙ্ঘন করছেন।

এসব শিক্ষকদের মনোযোগ এখন আর শিক্ষাদানের দিকে নয়। স্বচ্ছল অভিভাবকের সন্তানদের প্রাইভেট কোচিং পড়ানোর দিকে তাদের দৃষ্টি। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ভাল করে না পড়িয়ে দায়সারা ক্লাস নিয়ে প্রতারণা করছেন। টকাচ্ছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট এ কুপ্রভাব পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর। শ্রেণীকক্ষে শিক্ষা গ্রহণের বদলে সহ্য করতে হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। নৈতিকতা ভুরে গিয়ে এসব শিক্ষক বৈষম্য নৈরাজ্য করছেন অসচ্ছল সুবিধা বঞ্চিত দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে।

যে সব শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়ে তাদের প্রতি এসব শিক্ষকদের এক ধরণের আচরণ এবং আদুরে আদুরে ব্যবহার। অন্যদিকে যে সব শিক্ষার্থী স্কুলের কোন শিক্ষকের নিকট প্রাইভেট পড়ে না ওই সব শিক্ষার্থীর প্রতি শিক্ষকদের অমনোযোগিতা, তাদের এড়িয়ে চলা এবং অস্বাভাবিক আচরণ করা হয়।

শিক্ষকরা প্রাইভেট বাণিজ্য করান বলেই অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের প্রাইভেট পড়ান । এসব শিক্ষকের ক্লাসে মনোযোগ নেই, তাই ছাত্র-ছাত্রী স্কুলে যায় না। আর গেলেও মনোযোগহীন। কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীরা প্রাইভেট মিস করে না। প্রাইভেট শিক্ষক পড়ান অতন্ত যতœ সহকারে। সচেতন অভিভাবকরা এপ্রতিনিধিকে জানান, এটা প্রশাসনের গাফিলতি। প্রইভেট বাণিজ্য এর সাথে জড়িত শিক্ষদের আজ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করার কোন দৃষ্টান্ত নেই।

সাধারণ মানুষের দাবী প্রাইভেট বানিজ্যর সাথে জড়িত শিক্ষকদের খোজেঁ বের করে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা। তা না হলে ক্ষমা সব শিক্ষা প্রতিষ্টান হয়ে পড়বে সার্টিপিকেট বিক্রির ব্যবসা প্রতিষ্টান। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, ভাল ফলাফলের জন্য সন্তানদের প্রাইভেট অবশ্যই পড়াতে হয়। কাজেই এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।

খবরটি শেয়ার করুন..











© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com