সোমবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ১০:৫৮ অপরাহ্ন




স্বাধীন বাংলাদেশের সুখ-দুঃখ

স্বাধীন বাংলাদেশের সুখ-দুঃখ




ফকির ইলিয়াস : বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি অনেক সুখ দুঃখের মধ্য দিয়ে ৪৭ বছর পেরিয়ে এসেছে। এই দেশটিকে অনেকেই ভোগ করেছেন। অনেকেই ভালোবাসেননি। ভালোবাসলে অবস্থা অন্য রকম হতো।

একটি উদাহরণ দিয়ে শুরু করি। গত কয়েকদিন আগে ট্যাক্সাস থেকে আমার পরিচিত এক বাঙালি ফোন করেছিলেন। তিনি জানতে চাইলেন, বাংলাদেশ নাকি স্বৈরাচারি দেশের তালিকায় উঠেছে। তিনি আরো জানালেন- বাংলাদেশ বসবাস যোগ্য নয়। এই মর্মে আমেরিকায় পলিটিক্যাল এসাইলাম চেয়েছেন। এই – ‘স্বৈরাচারের’ সংবাদ তার মামলায় কাজে লাগবে কী না! আমি সাফ জবাব দিলাম, ‘ভাই আমি জানি না। বলতে পারবো না’

আরো বললাম তা আপনার উকিলই ভালো বলতে পারবেন। তিনি আর বেশি কথা বাড়াতে চাইলেন না। আমিও চাইলাম না। কারণ বাংলাদেশকে বিক্রি করে কেউ ফায়দা লুটুক- তা আমি আগে যেমন চাইনি, আজও চাইনি। কারণ এই দেশ আমার মাতৃভূমি। আমি জন্মেছি এই মাটিতে। এই মাটির মিছে অসম্মান আমি মেনে নেবো না কোনো মতেই।

বিবিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশ এখন স্বৈরশাসনের অধীন এবং সেখানে এখন গণতন্ত্রের ন্যূনতম মানদন্ড পর্যন্ত মানা হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছে একটি জার্মান গবেষণা প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের ১২৯ টি দেশে গণতন্ত্র, বাজার অর্থনীতি এবং সুশাসনের অবস্থা নিয়ে এক সমীক্ষার পর জার্মান প্রতিষ্ঠান ‘বেরটেলসম্যান স্টিফটুং’ তাদের রিপোর্টে এই মন্তব্য করে। একশো উনত্রিশটি দেশের গণতন্ত্রের অবস্থা নিয়ে যে সূচক এই সমীক্ষার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের অবস্থান ৮০ নম্বরে। একই অবস্থানে আছে রাশিয়া।

এই হলো সংবাদ। হিটলারের দেশ জার্মানি এই রায় দিচ্ছে। আর আমাদের বাংলাদেশি বন্ধুরা নিজের ফায়দা তিলতে চাইছেন- রিপোর্টকে কেন্দ্র করে। হায় বাংলাদেশ! হায় আমার বঙ্গসন্তানেরা।

অতিসম্প্রতি বাংলাদেশ ঘুরে এসেছি। দেশে গেলে না না অসঙ্গতি দেখলে ব্যথা পাই। কুঁকড়ে উঠি। মেনে নিতে কষ্ট হয়। তারপরও দেশ ছেড়ে এলে,দেশকে এতো মিস করি কেন?কেন বার বার প্রণ কেঁদে উঠে? এবার যখন ঢাকা বিমানবন্দর ছেড়ে আসি, ঠিক একই প্রতিক্রিয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের ঘাস-মাটি ছেড়ে প্লেনটি যখন উপরে উঠছিল- মনে হচ্ছিল, আহা এই মাটি ছেড়ে আমি চলে যাচ্ছি! আহা! আমার বাংলাদেশ!

দুই সপ্তাহ সিলেটে কাটিয়ে নিউইয়র্কে ফিরেছি। খুব দরকারি কাজ ত্বরা করে আমাদের এই সফর। মা আমাকে ডাকলে মাঝে মাঝে আমি এভাবেই ছুটে যাই। তখন আমার অন্যান্য অনেক কাজই রহিত হয়ে যায়। আমি স্থগিত করে রাখি আমার বাকি সব পরিকল্পনা।

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। যারা এই দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন- তারা শ্রমজীবি মানুষ। এবারেও সিলেটে আমার ঘুম ভেঙেছে এসব ডাক শুনে- ‘এই সবজি কিনবেন তাজা সবজি’, ‘লাগবে দেশি মুরগি-এই মুরগি’, ‘আছে তাজা মাছ আছে- বিলের তাজা মাছ’।

এই যে ডাক দেন এরা কারা ? কোথা থেকে আসেন তারা? হ্যাঁ- এরাই গ্রাম থেকে ছুটে আসা সহজ-সরল মানুষ। এরাই গ্রামের মাঠ থেকে তুলে আনা সবজি বিক্রি করতে শহরে ছুটে আসেন ভোর বেলা। কিংবা নিয়ে আসেন ভারভর্তি তাজা মাছ। এই হলো আমার বাংলাদেশ। এই হলো আমার স্বাধীনতার ফসল। এই হলো আমার প্রেরণা।

এই মানুষদের না না ভাবে দাবায়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। হয়েছে পাকিস্তান আমলে। হয়েছে সামরিক যাতাকলে ফেলেও। তারপরেও বাংলাদেশের মানুষ সাহস নিয়ে যুদ্ধ করেছে,করছে। বিজয়ের যুদ্ধ জীবনের যুদ্ধ।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘স্বদেশী সমাজ’ প্রবন্ধের পরিশিষ্টে লিখেছেন- ‘য়ুরোপের যেখানে বল আমাদের সেখানে বল নহে। য়ুরোপ আত্মরক্ষার জন্য যেখানে উদ্যম প্রয়োগ করে আমাদের আত্মরক্ষার জন্য সেখানে উদ্যম প্রয়োগ বৃথা। য়ুরোপের শক্তির ভাণ্ডার স্টেট অর্থাৎ সরকার। সেই স্টেট দেশের সমস্ত হিতকর কর্মের ভার গ্রহণ করিয়াছে- স্টেটই ভিক্ষাদান করে, স্টেটই বিদ্যাদান করে, ধর্মরক্ষার ভারও স্টেটের ওপর। অতএব এই স্টেটের শাসনকে সর্বপ্রকারে সবল কর্মিষ্ঠ ও সচেতন করিয়া রাখা, ইহাকে অভ্যন্তরিক বিকলতা ও বাহিরের আক্রমণ হইতে বাঁচানোই য়ুরোপীয় সভ্যতার প্রাণরক্ষার উপায়।’

কবি গুরু লিখেছেন- ‘আমাদের দেশে কল্যাণশক্তি সমাজের মধ্যে। তাহা ধর্মরূপে আমাদের সমাজের সর্বত্র ব্যাপ্ত হইয়া আছে। সেই জন্যই এতকাল ধর্মকে সমাজকে বাঁচানোই ভারতবর্ষ একমাত্র আত্মরক্ষার উপায় বলিয়া জানিয়া আসিয়াছে। রাজত্বের দিকে তাকায় নাই, সমাজের দিকেই দৃষ্টি রাখিয়াছে। এই জন্য সমাজের স্বাধীনতাই যথার্থভাবে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা। কারণ, মঙ্গল করিবার স্বাধীনতাই স্বাধীনতা, ধর্মরক্ষার স্বাধীনতাই স্বাধীনতা। এতকাল নানা দুর্বিপাকেও এই স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন ছিল। কিন্তু এখন ইহা আমরা অচেতনভাবে, মূঢ়ভাবে পরের হাতে প্রতিদিন তুলিয়া দিতেছি। ইংরেজ আমাদের রাজত্ব চাহিয়াছিল, রাজত্ব পাইয়াছে, সমাজটাকে নিতান্ত উপরি-পাওনার মতো লইতেছে- ফাও বলিয়া ইহা আমরা তাহার হাতে বিনামূল্যে তুলিয়া দিতেছি। তাহার একটা প্রমাণ দেখো। ইংরেজের আইন আমাদের সমাজরক্ষার ভার লইয়াছে। হয়তো যথার্থভাবে রক্ষা করিতেছে, কিন্তু তাই বুঝিয়া খুশি থাকিলে চলিবে না। পূর্বকালে সমাজবিদ্রোহী সমাজের কাছে দণ্ড পাইয়া অবশেষে সমাজের সঙ্গে রফা করিত। সেই রফা অনুসারে আপসে নিষ্পত্তি হইয়া যাইত। তাহার ফল হইত এই, সামাজিক কোনো প্রথার ব্যত্যয় যাহারা করিত তাহারা স্বতন্ত্র সম্প্রদায়রূপে সমাজের বিশেষ একটা স্থানে আশ্রয় লইত। এ কথা কেহই বলিবেন না, হিন্দুসমাজে আচারবিচারে কোনো পার্থক্য নাই; পার্থক্য যথেষ্ট আছে, কিন্তু সেই পার্থক্য সামাজিক ব্যবহারগুণে গণ্ডিবদ্ধ হইয়া, পরস্পরকে আঘাত করে না।’

কবিগুরুর কথাগুলো আজও আমাদের সমাজের জন্য প্রযোজ্য। সমাজ প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে। এগোচ্ছে মানবিক স্বাধীনতার দিকে। এই সত্যকে মানতে হবে। মননে, মনীষায় মানুষকে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে হবে। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি যে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিল, তা হলো মৌলিক অধিকারের স্বাধীনতা। ধর্ম-বর্ণের স্বাধীনতা। এই সত্যটি যদি আমরা অনুধাবন করতে না পারি, তবে শান্তি বারবারই পরাহত হবে আমাদের সমাজে।

এবারে বাংলাদেশে গিয়েও আমি যে বিষয়টি লক্ষ্য করেছি, তা হলো দলীয় কিংবা ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য, প্রেসক্লাব, আইনজীবী সমিতি, শিক্ষক সমিতি, প্রকৌশলী সমিতি, চিকিৎসক সমিতিসহ উচ্চ আয়ের পেশাজীবীদের কেউ কেউ মহান স্বাধীনতার মূল্যবোধকে দলিত করে মিথ্যার বেসাতি ছড়ান। তখন সাধারণ মানুষ দ্বিধাগ্রস্ত না হয়ে পারে না। এদের কেউ কেউ মিথ্যে ইতিহাসও শোনান।

এই প্রজন্মের মাঝে স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা তাই আজ জরুরি বিষয়। নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত না হলে দেশপ্রেম প্রতিষ্ঠা হয় না। আর দেশপ্রেম প্রতিষ্ঠিত না হলে দেশের কল্যাণে কাজ করার মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না। বাঙালি জাতির স্বাধীনতার স্বপ্ন ছিল। স্বাধীনতা এসেছে। কিন্তু পরাজয়ের মৌন ধারাবাহিকতায় ক্রমশ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে সেই স্বপ্নসৌধ। বলতে দ্বিধা নেই,কঠোর দেশপ্রেম ছাড়া এই জাতিকে এগিয়ে নেয়া কঠিন কাজ।

জাতির পিতা শেখ মুজিব সেই পথই দেখিয়েছিলেন জাতিকে। বাঙালির সামনে এখন আর বিশেষ কোনো স্বপ্ন গন্তব্য নেই। শুধু আছে একটি পরিশুদ্ধ, ইতিহাস অন্বেষী প্রজন্ম গঠনের প্রত্যয়। যারা সত্যের ওপর শক্তিশালী বুক নিয়ে দাঁড়াবে। বাঙালি জাতি যদি এই স্বপ্নটি পূরণেও ব্যর্থ হয় তবে জাতির যাযাবরত্ব আরো দীর্ঘায়িত হতে পারে। স্বপ্ন এখন একটিই এই প্রজন্ম জাগবে। সেই জাগ্রত বিবেকই শাণিত করবে আমাদের জাতীয়তাবাদের একান্ত অহংকার।

আজকের এই প্রজন্মকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়তে হবে। জানতে হবে ১৯৭১ এর গৌরবগাঁথা।

আমরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের দিকে তাকালে কিংবা তা পড়লে অনেক কিছুই জানতে পারি। স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে নিয়মিত ‘দৃষ্টিপাত’ নামে একটি অনুষ্ঠান প্রচারিত হতো। সেখানে ভাষ্য লিখতেন বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। অধ্যাপক আবদুল হফিজ রচিত নীচের এই ভাষ্যটি প্রচারিত হয় ২০ জুলাই, ১৯৭১।

তিনি লিখেন- ‘পাকিস্তান সরকার শিক্ষিত সেনাবাহিনীর নিয়মিত মৃত্যু রোধ করতে আরও কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে? যেমন- রাজাকার বাহিনী তৈরী করেছে বিভিন্ন অঞ্চলে। আকাশ থেকে নিক্ষেপ করেছে রাশি রাশি প্রচারপত্র। তাতে বলা হয়েছেঃ হে দেশপ্রেমিক জনগণ দুষ্কৃতকারী ও অনুপ্রবেশকারীরা বড্ড খারাপ কাজ করছে। আপনারা তাদেরকে ধরিয়ে দিয়ে দেশপ্রেমের পরাকাষ্ঠা দেখান। বাংলাদেশে ইয়াহিয়া খাঁ সাহেবদের জন্য এখনও দেশপ্রেমিক আছে, এ কথা ভাবলে হাসি পায়। তবে একটা কথা বলতেই হয়, বাংলাদেশের মানুষ দেশপ্রেমের বাস্তব পরাকাষ্ঠার প্রমাণ দিয়েছেন হাতে হাতে।

একজন কৃষক ভাইয়ের সাথে আলাপ করছি। তিনি জমিতে রোয়া লাগাচ্ছিলেন। বললাম- কেমন আছেন? বললেন-ভাল আছি, খুব ভাল আছি। বলেই মাথার টোপরের ভেতর থেকে একখানা কাগজ বের করে দিলেন। বললেন, এই এক্ষুণি ফেলেছে বিমান থেকে। ওখানেই বসে বসে পড়লাম। সেই প্রচারপত্র যাতে দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতি আবেদন জানানো হয়েছে। কৃষক ভাইটি জানালেন, মুক্তিবাহিনীকে বলবেন তাদের জন্য আমরা ধান-চাল আটা-গম সব মজুদ করে রেখেছি। এমন জায়গায় রেখেছি, খান সেনাদের চোঁদ্দপুরুষও খুঁজে পাবে না। অবাক লাগলো। একজন সাধারণ চাষী মুক্তিবাহিনীর জন্য সর্বস্ব পণ করেছেন। অবশ্য এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশে ইয়াহিয়ার দস্যু সেনাবাহিনী যা করছে, তা সমস্ত অত্যাচারের ইতিহাসকে স্নান করে দিয়েছে। প্রতিটি কৃষক, শ্রমিক, মধ্যবিত্ত, বুদ্ধিজীবী প্রতিদিন অনুভব করছেন, পশ্চিম পাকিস্তানের পুঁজিবাদী ধনিকদের দালাল পাকিস্তানী হানাদার সেনার হাত থেকে মুক্ত করতেই হবে স্বদেশকে তাই দেশের সমস্ত অঞ্চলে মুক্তিবাহিনীকে সাহায্য করছেন। দেশের সাধারণ মানুষ। মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে জনগণের আন্তরিক সহযোগিতাই মুক্তিবাহিনীর সাফল্যের কারণ। রাজাকার বাহিনী কিংবা শান্তি কমিটি করেও কূল পাওয়া যাচ্ছে না। জনগণের ব্যাপক অংশে বিরাজ করছে অসন্তোষের তীব্র দাবদাহ।

আজ পাকিস্তান বলতে যা বোঝায়- তা হল পশ্চিম পাকিস্তান। পশ্চিম পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কোনো অভিযোগ নেই। পশ্চিম পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ আমাদের মতই শোষিত, বঞ্চিত, নির্যাতিত। কিন্তু পাকিস্তানী শাসকচক্র পশ্চিম পাকিস্তানের সাধারণ মানুষকে মিথ্যে ভাঁওতায় ভুলিয়ে, কাশ্মীরে নিয়ে যাওয়ার নাম করে বাঙালীকে হত্যা করবার কাজে লাগাতে চেয়েছে। সিন্ধু থেকে কৌশলে এভাবে স্বল্পমেয়াদী ট্রেনিংপ্রাপ্ত লোক আনা হয়েছে সীমান্ত অঞ্চল রক্ষার জন্যে মুক্তিবাহিনীর হাতে এরাও প্রচণ্ড মার খাচ্ছে।

গোড়াতে সেই যে চাষী ভাইয়ের কথা বলেছিলাম। তিনিই বলছিলেন- একটা মজার ব্যাপার দেখেছেন? মজার ব্যাপার? আমি অবাক হলাম- চারিদিকে হত্যাকাণ্ড, লুটতরাজ এবং অত্যাচারের মধ্যে মজার ব্যাপারটা কি? তিনি বলছিলেন, সিন্ধু থেকে আনা একদল সেনা রাস্তার ধারে বসে নিজেদের ভাগ্য নিয়ে আলোচনা করছে। তারা এ হত্যাকাণ্ডে নিজেদের হাত রক্তাক্ত করতে চায় না। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দেশে ফিরে যেতে চায়। আর কেউ বা বসে বসে কাঁদে। এরা যুদ্ধ করতে চায় না, মরতে চায় না। পাকিস্তানী শাসকচক্র সিন্ধুর শোষিত জনগণকে লেলিয়ে দিয়েছে শোষিত বাঙালীদের বিরুদ্ধে। মানুষ যুদ্ধ নয়- মানুষ ভাবে, মানুষ চিন্তা করে, মানুষেরই শুধু বিবেক রয়েছে। তাই সিন্ধী, বেলুচী এবং সীমান্ত প্রদেশের লোকেরা লড়তে চায় না। একজন কম্যাণ্ডিং অফিসার তার অধীনস্থ সেনাদেরকে বাঙালীদের বাড়ি ঘর লুট করতে বললে তারা রাজী হয়নি। উল্টো তারা কম্যাণ্ডিং অফিসারকেই হত্যা করে।…’

এমন ইতিহাস অনেক আছে। এসব আজকের প্রজন্মকে জানা দরকার। মহান মুক্তিযুদ্ধের বইগুলো তাদের পড়া দরকার।

আমাদের বিজয় সহজে আসে নি। আমরা যারা আজ এই দেশ নিয়ে গর্ব করি- তারা কতটা মনে রাখি অমর শহিদদের! আমি আজো মনে করি যারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন এরা এই দেশের আপামর কৃষক সন্তান। আমরা যেন তাদের ঋণের কথা ভুলে না যাই। কারণ এরাই আমাদের জাতিসত্তার পাঁজর।তাই বলি, বন্ধুগণ বাংলাদেশের দুঃখের সময় পাশে দাঁড়াতে না পারলেও, দেশটিকে নিজেদের হীনস্বার্থে ব্যবহার করবেন না-প্লিজ।-নিউজজি

খবরটি শেয়ার করুন..











© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com