সোমবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ১০:৫৯ অপরাহ্ন




রাজনীতির ঈর্ষা বিবাদ

রাজনীতির ঈর্ষা বিবাদ




গোলাম মাওলা রনি: এক বনের দুই বাঘ কিংবা একই সংসারে দুই সতীনের দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাত ও ঈর্ষার কাহিনী নিয়ে দেশ-বিদেশের সাহিত্যে কত যে গল্প ও উপন্যাস রচিত হয়েছে, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। আবহমান বাংলার গ্রামাঞ্চলে প্রভাবশালী দুই পরিবারের মতানৈক্য ও মারামারি-কাটাকাটি নিয়ে গল্প-উপন্যাস, নাটক-সিনেমা ও যাত্রাপালার সংখ্যা গুনে শেষ করা যাবে না। একটি অভিন্ন স্বার্থ নিয়ে যখন একাধিক ব্যক্তি, পক্ষ বা গোষ্ঠী পরস্পরের সাথে নীতিহীন প্রতিযোগিতা, কাড়াকাড়ি এবং শেষ অবধি মারামারি শুরু করে দেয়; তখন সেখানে গল্প-উপন্যাস অথবা রহস্যকাহিনীর মতো রোমাঞ্চকর ঘটনা ঘটতে থাকে একটার পর একটা। মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট হাজারো বাহারি বিবাদ-বিসম্বাদের মধ্যে রাজনীতি ও প্রেমের সঙ্ঘাতই অনাদিকাল থেকে মানুষের আলোচনা ও সমালোচনার বিষয়বস্তু হয়ে আসছে। আজকের নিবন্ধে আমরা রাজনীতির ঈর্ষা-বিবাদ, স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও সঙ্ঘাতের নেপথ্য কারণ নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব।

মানুষের আচার-আচরণ ও চিন্তা-চেতনার সর্বোচ্চ স্তরটির নাম রাজনীতি। কোনো সাধারণ মানুষ যেমন রাজনীতি করতে পারেন না, তেমনি রাজনীতির জটিল অঙ্ক এবং নানামুখী হিসাব-নিকাশ সাধারণ মানুষের মন-মস্তিষ্কে ঢোকে না। তারা কেবল রাজনীতিবিদদের প্রচার-প্রপাগান্ডা ও নেতৃত্বের মোহময় প্রভাবে রাজনীতি দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে রাজনীতির বৃত্তে ঢুকে পড়েন। তারপর পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুযায়ী হয় রাজনীতির সুফল ভোগ করেন নতুবা কুফলের কবলে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন। রাজনীতির নিয়ন্তা ও পরিকল্পনাকারী সব সময় রাজনীতিবিদেরাই হয়ে থাকেন। তাদের সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তারা কর্মী তৈরি করেন এবং কর্মীরা পরিশ্রম করে সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে সমর্থক ও অনুসারী জুগিয়ে নেন।

রাজনীতিকে অনেকে ‘নীতির রাজা’, অর্থাৎ সবচেয়ে ভালো কর্ম আখ্যা দিয়ে নানা ধরনের নীতিকথা বলে থাকেন। এ ব্যাপারে যে যাই বলুন না কেন, ব্যাকরণ মতে রাজনীতি হলো ‘রাজার নীতি’। বাংলা ব্যাকরণেও রাজার যে নীতি, তাকেই ‘রাজনীতি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। রাজনীতির বিজ্ঞান মতে, রাজার ইচ্ছা রাজনীতির গতি-প্রকৃতি যেমন নির্ধারণ করে, তেমনি যিনি রাজা নন কিন্তু রাজা হতে চান এবং রাজা হওয়ার উপযুক্ত; তার ইচ্ছাশক্তির মূল্যও রাজনীতিতে কোনো অংশে কম নয়। আপনি যদি প্রশ্ন করেন- কেন সাধারণ মানুষ রাজনীতি করতে পারেন না বা রাজনীতির জটিল অঙ্কের হিসাব জানেন না? এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনার আগে আপনার জেনে নেয়া উচিত, প্রকৃতিতে মানুষের ধরন ও প্রবৃত্তির কয়টি রূপ রয়েছে।

জেনে অবাক হবেন, দুনিয়ায় প্রতি ১০০ জন লোকের মধ্যে ৯৯ জনই নিজের জন্য জন্ম নেন- তারা সারা জীবন নিজের কথা ভাবেন, নিজের জন্য কাজ করেন এবং শেষ পর্যন্ত নিজের জন্যই মারা যান। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা এই শ্রেণীর মানুষকে আখ্যা দিয়েছেন- People like vegetable. অর্থাৎ সবজি বা তরিতরকারির মতো মানুষ। এরা জন্ম নেন এবং কারো খানাখাদ্যের উপকরণ হয়ে শেষ পর্যন্ত মারা যান। বাকি একজন, অর্থাৎ ১০০ জনের মধ্যে মাত্র একজন নিজের স্বার্থের বাইরে গিয়ে অন্যের জন্য চিন্তা করেন। অন্যের জন্য কাজ করেন এবং অন্যের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে গিয়ে কখনো কখনো নিজের জীবন পর্যন্ত দিয়ে দেন। মানুষের এই মনোবৃত্তির মূলে যে যোগ্যতা বা গুণটি তার মন-মস্তিষ্ক ও শরীরে জন্মগতভাবে সন্নিবেশিত থাকে; তার নাম ‘নেতৃত্ব’। মানুষের মধ্যে যাদের সহজাত বা জন্মগত কিংবা প্রকৃতিপ্রদত্ত নেতৃত্বের গুণ থাকে, কেবল তারাই রাজনীতি করতে পারেন। আবার এ শ্রেণীটির মধ্যে যারা অধিকতর গুণাবলি ও যোগ্যতার অধিকারী, তারাই রাজনীতির শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছে যান স্বল্প সময়ের মধ্যে এবং সময় ও সুযোগমতো ‘রাজা’ও হয়ে যান।

আধুনিককালে রাজনীতির সংজ্ঞা মোতাবেক ক্ষমতাধর প্রত্যক্ষ রাজার সংখ্যা খুবই কম। ইদানীং রাজনৈতিক ক্ষমতাধর ব্যক্তি যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন তখন স্থান-কাল-পাত্র অনুযায়ী বিভিন্ন নাম ধারণ করেন। কোনো দেশে তিনি হয়তো প্রধানমন্ত্রী, আবার কোথাও রাষ্ট্রপতি, রাজা-বাদশাহ, নেতা, রাইখ, সম্রাট ইত্যাদি নামে অভিহিত হয়ে থাকেন। কিন্তু ক্ষমতার ব্যাপ্তি ও প্রয়োগে তিনি যখন নিরঙ্কুশ আধিপত্য লাভ করেন তখন তাকে সবাই অনাদিকালের রাজা-মহারাজা, সম্রাট কিংবা শাহেনশাহ হিসেবেই মেনে নেন অথবা অভিহিত করেন। রাজার ক্ষমতার ইতিবাচক ও নেতিবাচক ক্রিয়া-প্রক্রিয়ার সারাংশ সর্বকালে যেমন একই রকম হয়ে থাকে; তেমনি রাজনীতির ভাষা, কৌশল, নীতিবোধ ও কূটকৌশল অনেকটা বেদবাক্যের মতো অনাদিকাল থেকে আজ অবধি প্রায় হুবহু রয়ে গেছে।

আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে রাজনীতি নিয়ে প্রাচীন গ্রিসে অ্যারিস্টটল, সক্রেটিস, প্লেটো প্রমুখ মহাজ্ঞানী যেসব বাক্য বলেছেন; তা প্রায় হুবহু বলে গিয়েছেন মহাচীনের বিস্ময়কর মহাপণ্ডিত কনফুসিয়াস এবং মধ্যযুগের যুগান্তকারী মুসলিম পণ্ডিত ইবনে খালদুন। তাদের কথাগুলোই রুশো, ভলতেয়ার প্রমুখের মুখে নবরূপে উচ্চারিত হয়ে আব্রাহাম লিঙ্কন, জন অ্যাডামস, বেঞ্জামিন, ডিজরেইলি হয়ে উইনস্টন চার্চিলের মুখ নিঃসৃত হয়ে পৃথিবীতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। অন্য দিকে, রাজনীতির কূটকৌশল সম্পর্কে চাণক্য যে কথা বলেছেন, তা প্রায় হুবহু এবং ক্ষেত্রবিশেষে বহুগুণ বাড়িয়ে বলেছেন মধ্যযুগের ইউরোপীয় পণ্ডিত ম্যাকিয়াভেলি।

রাজনীতির প্রধান হাতিয়ারটির নাম ক্ষমতা। আবার ক্ষমতার প্রধান হাতিয়ার হলো, যুদ্ধ করার সামর্থ্য এবং প্রতিপক্ষকে শাস্তি দেয়ার সক্ষমতা। রাজনীতি, ক্ষমতা, যুদ্ধ ও মৃত্যু সর্বকালেই এক জটিল রাসায়নিক যোগ সৃষ্টি করে রাজনীতির ময়দানকে ঈর্ষা, দ্বন্দ্ব-ফ্যাসাদ, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও চক্রান্তের নব নব ক্ষেত্রে পরিণত করেছে। রাজনীতির স্বার্থে সহসা কেউ ছাড় দেন না, রাজনৈতিক ক্ষমতাও কেউ ভাগাভাগি করতে চান না। সিংহাসনে একক কর্তৃত্ব অর্জনের জন্য রাজনীতির অংশীদারেরা যে কলহ-বিবাদ করে থাকেন, তা প্রায়ই দুই সতীনের ঝগড়াঝাটিকে অতিক্রম করে যায়। আমাদের সমাজ সংসারে দুই কিংবা দুইয়ের অধিক সতীনেরা মিলেমিশে সুখে শান্তিতে একই স্বামীর সংসার করে ভবলীলা সাঙ্গ করেছেন, এমন ভূরি ভূরি উদাহরণ রয়েছে। কিন্তু দুইজন রাজা যৌথভাবে একটি সিংহাসন চালিয়েছেন এমন একটিও উদাহরণ নেই। অন্য দিকে, অযোগ্য ক্ষমতাবান রাজনীতিবিদ নীতিনৈতিকতার কারণে স্বেচ্ছায় যোগ্যতম উত্তরাধিকারী অথবা প্রতিদ্বন্দ্বীকে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছেন, এমন দৃষ্টান্ত কোনো জাদুঘর বা ইতিহাসের বইতে আজ অবধি স্থান পায়নি। এখন প্রশ্ন হলো- আমাদের সমাজ সংসারের অনেক জায়গায় মানুষ নীতিনৈতিকতা, অনুশোচনা কিংবা জনকল্যাণের জন্য অনেক কিছু ত্যাগ করে; কিন্তু রাজনীতির ময়দানে এরূপ ত্যাগ-তিতিক্ষার নজির সৃষ্টি হয় না কেন?

আলোচনার শুরুতে বলেছিলাম, রাজনীতি হলো মানুষের আচার-আচরণ ও চিন্তা-চেতনার সর্বোচ্চ স্তর। মানুষ যখন এই স্তরে পৌঁছে তখন বেশির ভাগ মানুষের বিবেকবোধ নষ্ট হয়ে যায়। দাম্ভিকতা, অসদাচরণ, মানুষকে অপমান করে কিংবা কষ্ট দিয়ে হীনতর আনন্দ লাভের অভিপ্রায়, ভোগবিলাস, বিকৃত যৌনাচার, মদ্যপান, ধনলিপ্সা, অতি ভোজন, সঞ্চয় করার লোভ এবং রঙ-তামাশা করার মতো বাজে অভ্যাস ক্ষমতাবান রাজনীতিবিদদের অক্টোপাসের মতো আঁকড়ে ধরে। তাদের ইন্দ্রিয়গুলো সব সময় মন্দকথা শোনার জন্য এবং মন্দবস্তুর রূপ-রস-গন্ধ লাভের জন্য উথালপাথাল করতে থাকে। তারা হন্যে হয়ে মন্দলোকের সাহায্য এবং মন্দ-মাহফিলের সোহবত লাভের জন্য অকাতরে ধনসম্পদ, সময় ও শ্রম ব্যয় করতে থাকেন। প্রকৃতির ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ, পোকামাকড়, রোগজীবাণু ইত্যাদি যেমন ফুলের সুগন্ধ, নির্মল বাতাস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সূর্যালোক সহ্য করতে পারে না; তেমনি এক ধরনের ক্ষমতাবান রাজনীতিবিদ সাধু-সজ্জন, নীতিকথা, শুভকর্ম, ধর্ম-কর্ম ইত্যাদির নাম শুনলে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন। রাজনীতির ময়দানে সাধারণত কেউ কাউকে ছাড় দেন না।

বনাঞ্চলে বাঘ-সিংহের মতো শিকারি এবং রাজসিক প্রাণী যেমন নিজেদের শিকারের অধিক্ষেত্রে স্বগোত্রীয় কাউকে ঢুকতে দেয় না; তেমনি রাজনীতির ময়দানে আপন-পর, শত্রু-মিত্র, প্রতিদ্বন্দ্বী ইত্যাদি সব কিছুকে একাকার করে ক্ষমতাবান রাজনীতিবিদ তার সব শক্তি নিয়োগ করেন সবাইকে নির্মূল, নির্বিষ অথবা নির্জীব করার জন্য। ক্ষমতার অধিকারী পিতা যেমন তার পুত্র-কন্যাকে জীবিতাবস্থায় ক্ষমতার ভাগ দিতে চান না; তেমনি পুত্র-কন্যাও পিতা কিংবা মাতার সাথে ক্ষমতার প্রশ্নে একই আচরণ করে থাকেন। পৃথিবীর নামকরা বহু সাম্রাজ্যের ইতিহাসে পিতা কর্তৃক পুত্র-কন্যা হত্যা এবং পুত্র-কন্যা কর্তৃক পিতামাতা হত্যার ঘটনা রয়েছে। অন্য দিকে, আপন রক্তের বাইরের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে ক্ষমতাবানেরা যে কতটা নির্মম ও নিষ্ঠুর হতে পারেন, তা সাধারণ মানুষের মন-মস্তিষ্ক কল্পনাও করতে পারে না।
আলোচনার এই পর্যায়ে রাজনীতির ক্ষমতাবানদের আরো একটি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা দেয়া অবশ্যক।

কোনো নেতা, মন্ত্রী, এমপি, প্রধানমন্ত্রী, রাজা-বাদশাহ কিংবা সম্রাটের পদে থাকা মানুষ সাধারণত সেই শ্রেণীর লোককে কাছে ঘেঁষতে দেন না; যারা স্বভাবে স্পষ্টবাদী এবং মানবীয় গুণাবলিতে তাদের চেয়ে উত্তম। তারা কেবল তাদের চেয়ে নিকৃষ্টমানের ও নীচু মন-মানসিকতার অযোগ্য লোকদের যোগ্যতার উপযুক্ত- এমন পদে বসিয়ে এক ধরনের স্বস্তি ও নিরাপত্তা বোধ করেন। তারা তাদের চার পাশের লোকজনকে উঠতে-বসতে, চলতে-ফিরতে অপমান করে সেসব লোকের মন-মানস ও চরিত্র গৃহপালিত, অবোধ, অসহায় ও দুর্বল পশুর পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা নিরন্তরভাবে করতে থাকেন। তারা যখন বিশ্বাস করেন আশপাশের লোক তাদের ইচ্ছানুযায়ী পশুতে রূপান্তরিত হয়েছে, তখন তারা নিজেদের অভিলাষ ও গোপন কথা তাদের নিকট ব্যক্ত করেন এবং নিজেদের খাদ্য, ভোগবিলাস ও ধনসম্পদের একটি অংশ তাদের মধ্যে বিতরণ করে তাদেরকে অন্দরমহলে টেনে নেন।

দুই শ্রেণীর মানুষ সাধারণত ক্ষমতাবান রাজনীতির অন্দরমহলে যেতে পারেন। এক শ্রেণীর মানুষ অবস্থার চাপে সত্যি সত্যিই নিজেকে ক্ষমতাবানের চাহিদা, রুচি ও হুকুম অনুযায়ী পরিবর্তন করে ফেলেন। এদের মেরুদণ্ড বা স্বাতন্ত্র্য বলতে কিছু থাকে না। তাদের পছন্দ-অপছন্দ, রূপ-রস-গন্ধ অনুভবের ক্ষমতা, মানবিক সত্তা এবং বেঁচে থাকা বা না থাকার আগ্রহ-উদ্দীপনা ইত্যাদি সব কিছু ক্ষমতার পদতলে বিসর্জন দিয়ে এক ধরনের অদ্ভুত প্রাণীতে পরিবর্তিত হয়ে যান। আরেক শ্রেণীর মহাধুরন্ধর লোক অনায়াসে ক্ষমতার অন্দরমহলে ঢুকে পড়েন এবং অনেক কিছুর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন।

এরা যথাসম্ভব কৌশল অবলম্বন করে নিজেদের মানসম্মান, জ্ঞানবুদ্ধি, রুচি-আভিজাত্য ও ক্ষমতাকে ক্ষমতাসীন রাজনীতিবিদের আশা-আকাক্সক্ষার পর্যায়ে নামিয়ে আনেন অথবা উঁচু করে ধরেন। তারা চাটুকারিতা দ্বারা ক্ষমতাবানদের মনে কৌতুক সরবরাহ করেন এবং তাদের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জনের জন্য নানা অভিনয় ও ছলাকলা প্রদর্শন করে থাকেন। তারা অতি সতর্কতার সাথে ক্ষমতাবানদের দুর্বলতা ও লোভলালসার অনুসন্ধান করে এবং পরবর্তীকালে সময় ও সুযোগ বুঝে দুর্বলতায় আঘাত করে এবং লোভলালসার সামগ্রী উপহার হিসেবে প্রদান করে বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করে নেন।
ক্ষমতার রাজনীতির সবচেয়ে বড় বিপত্তি হলো- তারা কাউকে অন্তর থেকে বিশ্বাস করেন না। স্বার্থ ছাড়া কাউকে ভক্তিশ্রদ্ধা ও সম্মান দেখান না। তাদের জীবনের সবচেয়ে করুণ অধ্যায় হলো, তাদেরকেও কেউ বিশ্বাস করে না। ফলে রাজ্যের অবিশ্বাস, সন্দেহ ও অনাস্থার মধ্যে থেকে তারা সব সময় প্রচণ্ড অস্থিরতায় দিন কাটান এবং ঈর্ষা-বিবাদের মধ্যে বিনোদন খুঁজে বেড়ান। সৃষ্টিকর্তার হেদায়েত, পর্যাপ্ত শিক্ষা, উন্নত চরিত্র ও মহান মানবিক গুণসম্পন্ন নেতা যখন রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভ করেন; তখন সেখানে রাজনীতির চিরাচরিত ঈর্ষা-বিবাদ, দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাত ও রক্তপাতের পরিবর্তে স্বর্গীয় আবহাওয়া বিরাজ করে। ইসলামের খলিফা হজরত উমর রা: কিংবা উমাইয়া খলিফা দ্বিতীয় উমরের মতো আরো অনেক মহান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ক্ষমতাধর রাজা-মহারাজা ছিলেন; যারা প্রচলিত রাজনীতির দুর্গন্ধময় কাদা ও রক্তের ইতিহাস দ্বারা নিজেদের কলঙ্কিত করেননি।
লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য

খবরটি শেয়ার করুন..











© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com