রবিবার, ২২ Jul ২০১৮, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন




মেঘের দেশে নীল পরী

মেঘের দেশে নীল পরী




জামাল উদ্দিন জীবন: জীবনের নিত্য দিনের প্রয়োজন মিটাতে যখন সর্বদা ব্যস্ত থাকতে হয়।নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব কর্তব্য শিকল হাতে পায়ে বেড়ি পড়িয়ে দেয় তখন অন্য সবার মত বিলাসিতা করা আমায় মানায় না।সংগত কারণেই অন্য দশজন ছেলে মেয়েরথেকে একটু আলাদা জীবন যাপন করে  মাহমুদুল হাসান মেঘ।পরিবারে বেশ দায়িত্ব কাঁধে তার পর নিজের লেখাপড়াতো আছেই।তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে যখন সারা বিশ্ব আপন হাতের মুঠোয় সবার তখনও ফেজইবুক,ভাইবার,মেসেঞ্জার,মতজিনিসগুলোর সাথে পরিচয় ঘটেনি মেঘ নামের ছেলেটির।একটি প্রাইভেট কোম্পনীতে চাকরি করে লেখাপড়া,আর পরিবার সব মিলিয়ে খুব ব্যস্ততার মধ্যেই মেঘের জীবনের দিনগুলো অতিবাহিত হয়।বন্ধু বান্ধব হাতেগুণা দুই/চার জন আছে তারাওসবার কাজে ব্যস্ত থাকে।অন্যরা কিছু যোগাযোগ করতে চায় তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে আর মেঘ সে দুনিয়ার বাহিরে অবস্হান করে।বন্ধুরা সর্বদা তাকে বলে তুই শালা ব্যাগডেটেড মানুষ।এই কথাটা শুনতে শুনতে এক সময় অসহ্য হয়ে মেঘ একটাফিইজবুক আইডি খুলে।ধীরে ধীরে সকলের সাথে আলাপ পরিচয় হতে থাকে।পরিচিত অপরিচিত অনেকের সাথেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে।বেশ ভালোই চলছে বন্ধুদের সাথে আড্ডা।অনেক দিন আইডিতে যায়নি পরীক্ষা থাকার কারণে।আজমাসখানেক পর আসলো নিজের ফেইজবুক আইডিতে।অনেকগুলো বার্তা আছে আবার অনেক বন্ধু হবার অনুরোধ দিয়ে রেখেছে।সবার বার্তার যথা সম্ভাব উত্তর দিয়ে নতুন বন্ধু হবার তালিকাটি দেখছে।অনেকে পরিচিত আর অপরিচিতরাও আছেতালিকায়।হটাৎ একটি নাম দেখে তার চোখজোড়া আটকিয়ে গেলো।ছানাম হোসেন বৃষ্টি।তাকে বন্ধু করে নিলো।সময়টা 2014 সালের 5‌ই মে বিকালে তাদের মধ্যে প্রথম আলপ পরিচয় হয়।ধীরে ধরী সম্পর্কটা গভীর হতে থাকে দুজনেই দুজনারপ্রতি বিশ্বাস স্হাপন করে।এমনি ভাবে সামনের দিকে এগিয়ে চলছে তাদের জীবনের গতি ধারা।মেঘ একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে এডমিন এক্সকিউটিভ হিসাবে কাজ করে।মা,বাবা,তিন ভাই নিয়ে মেঘের পরিবার।বাবা সরকারি চাকরি করতোএখন অবসর নিয়েছে আর মা গৃহিনী।ভাইয়েরা লেখাপড়া ও চাকরিকরে।আলাপ পরিচয়ে দুজনার পরিবার ও নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্যগুলো আদান প্রদান ও খোঁজ খবর নেয়া হতো।অনেকটা গভীরে অবস্হান করছে দুজন।মেঘ অনেকবার জানতেচেয়েছে বৃষ্টির কাছে তার মায়ের কথ।মায়ের কথা আসতেই বৃষ্টি অন্য প্রসঙ্গ তুলে এড়িয়ে গেছে বিষয়টি।বৃষ্টি পাকিস্তানের একটি মার্কেটিং কোম্পানীতে কাজ করে।মা বাংলাদেশি বাবা পাকিস্তানী।ভালোবেসে বিয়ে করে ছিলেন দুজন, সুখের স্বপ্নেবিভোর হয়ে।সুন্দর একটা জীবনের স্বপ্ন নিয়ে সুখের বাসর গড়তে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন।তাদের বিয়ের বছর খানেক পর নাহিদা বেগম স্বামীর হাত ধরে বাংলাদেশ ছেড়ে স্বামীর কথা বিশ্বাস করে  পাকিস্তানে পারি জমান।দেখতে দেখতে দুটি বছর পারহলো।দুছর পর সোহানুর রহমানের ঘর আলোকিত করে তাদের প্রথম সন্তান বৃষ্টি জন্ম গ্রহন করে।মেয়েকে পেয়ে নাহিদা অনেকটা খুশি হয়।স্বামীর মনে অতটা আনন্দ নেই যেটা প্রথম সন্তানের বাবা হওয়ার মধ্যে থাকে।এই একটি বিষয় নিয়েনাহিদার স্বামীর সাথে সম্পর্কের অনেকটা টানাপোড়া চলে বেশ ভালোভাবেই।মেঘ বার বার জ্বালাতন করে বলে বৃষ্টি এই কথাগুলো শেয়ার করে তার সাথে।কথা শেষে অনেকটা সময় নিরব ছিলো বৃষ্টি।মেঘের কোন বার্তার আর প্রতি উত্তর করেনি।এর পর সে আরো জানতে পারে বৃষ্টির বয়স যখন পাঁচ বছর তখন তার বাবা তাদের সাথে সব সম্পর্ক চুকিয়ে দিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়।নাহিদা বেগমকে নিজের জীবনের সিদ্ধান্তটা একাই নিয়েছেন তাই তার পরিবারের সাথে তেমন যোগাযোগ রক্ষাকরতে পারেনি।

খবরটি শেয়ার করুন..




Loading…








© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com