বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮, ০৪:২০ অপরাহ্ন




কুলিয়ারচরে ব্যস্ত সময় পার করছে মৃৎশিল্পীরা

কুলিয়ারচরে ব্যস্ত সময় পার করছে মৃৎশিল্পীরা




জয়নাল আবেদীন রিটন, কুলিয়ারচর থেকে ফিরে : বৈশাখী উৎসবকে ঘিরে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের মৃৎশিল্পের কারিগররা এখন ব্যাস্ত সময় পার করছেন। আর মাত্র কদিন পরেই বাঙালির প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখ। আর এ প্রাণের উৎসবকে ঘিরে কুলিয়ারচরের মৃৎ শিল্পের কারিগররা মাটি ও ও রংয়ের মিশ্রনে বাহারী রঙের নানা খেলনা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছে তারা । যেন দম ফেলার ফুরসত নেই । মাটির তৈরী ঘোড়া, গরু, হাতি, ফুলদানি, পুতুল, হাড়ি পাতিল সহ নানা রঙ বেরঙের খেলনা তৈরী করে চলেছে তারা। আর তাদের এসব খেলনা কিনতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা বাড়ি থেকে এসব খেলনা কিনে দেশের বিভিন্ন বৈশাখী মেলা ও হিন্দু ধর্মবলম্ভীদের অষ্টমী অনুষ্ঠানে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে তারা ।

বংশ পরম্পরায় কুলিয়ারচরে দেয়ারা কান্দা গ্রামে গড়ে উঠেছে মৃৎশিল্প । আর এসব শিল্পে জড়িত ব্যবসায়ী ও কারিগরদের সারা বছর তেমন একটা কাজ না থাকলেও বাঙালির প্রানের উৎসব বৈশাখী মেলা ও অষ্টমীকে ঘিরে এখন দোয়ারা কান্দা গ্রামের মৃৎশিল্পের কারিগররা দিন রাত ব্যস্ত সময় পার করছে ।
সরেজমিনে দেখা যায়, কেউ মাটির তৈরী খেলনায় তুলির আচড় দিচ্ছে আবার কেউ আগুনে পোড়াচ্ছে আবার কেউ রোদে শুকিয়ে বিক্রির জন্য বাহারি রঙের খেলনা তৈরী করছে । আগামী ২/১ দিন পরেই পাইকাররা তাদের তৈরীকৃত এসব খেলনা দেশের বিভিন্ন মেলায় বিক্রি করবে। তাই দ্রুত এসব খেলনা পাইকারদের হাতে তুলে দিতে এবং নিজেরা তাদের তৈরীকৃত এসব মৃৎশিল্প মেলায় বিক্রির জন্য এখন তারা ব্যস্ত । আর এসব খেলনা বিক্রি করে লাভবান হবে বলে তারা মনে করছেন । মূলত এসব খেলনা বিক্রি করে তাদের সংসারের খরচ চালাতে হয় ।

ব্যবসায়ী ও কারিগর আরাধন পাল জানান, বৈশাখী মেলাকে ঘিরে তারা এখন দিন রাত পরিশ্রম করে বাহারী রঙের খেলনা তৈরী করছেন । আর এসব মালামাল বিক্রি করে লাভের আশা করছেন ।

কারিগর ও ব্যবসায়ী রতন পাল জানান অষ্টমী ও বৈশাখী মেলাকে ঘিরে কারিগররা এখন চরম ব্যস্ত সময় পার করছে । আশা করছি মেলায় এগুলো বিক্রি করে ভাল লাভ হবে ।

ব্যবসায়ী স্বদেশ পাল জানান, বংশপরম্পরায় তারা এ পেশাকে বেছেঁ নিয়েছেন । তবে বৈশাখী মেলা উপলক্ষে তারা মাটির তৈরী বাহারি রঙের খেলনা তৈরী করছেন । তাদের তৈরীকৃত এসব খেলনা কিনে নিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে তাদের বাড়ি থেকে এসব খেলনা কিনে নিয়ে যায়। এসব খেলনা বিক্রি করে তাদের কিছুটা লাভ হবে বলে তিনি আশা করছেন ।

পারুল রানী ও জানান, অষ্টমী ও বৈশাখী মেলাকে ঘিরে তারা মাটির তৈরী বাহারী রঙের বিভিন্ন খেলনা তৈরী করছেন । তবে এখন আধুনিক যুগে প্লাষ্টিকের তৈরী বাহারি রংয়ের চকচকে বিভিন্ন রকমের খেলনা মেলায় বিক্রি হওয়ার কারণে তাদের মাটির তৈরী খেলনা মানুষ খুব একটা কিনতে চায়না। তবে আশা করছেন এগুলো বিক্রি করে তারা কিছুটা হলেও লাভবান হবেন ।

খবরটি শেয়ার করুন..











© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com