শনিবার, ২১ Jul ২০১৮, ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন




‘খালেদা ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অসম্ভব’

‘খালেদা ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অসম্ভব’




নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপি ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া এদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অসম্ভব । একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচন অবশ্যই অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। আর খালেদা জিয়াকে ছাড়া সেটা কখনোই হতে পারে না।’

রবিবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি রাখার প্রতিবাদে ও তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ড. মোশাররফ বলেন, ‘বিএনপির মতো এত বড় একটি রাজনৈতিক দলের সমাবেশ এই ছোট জায়গায় করা সম্ভব না।’

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা ছোট জায়গা দিয়ে আমাদের সমাবেশ বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুরো রাজশাহী আজ সমাবেশে পরিণত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকার কথা ছিল। কিন্তু তার মায়ের মৃত্যুর কারণে তিনি আসতে পারেননি। আমরা তার মায়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।’

বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়া তথা ২০ দল ও বিএনপি নেতাদের বাইরে রেখে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আরও একটা নির্বাচন করতে চায় এই সরকার। কারণ তারা জনগণকে ভয় পায়। কারণ তারা ক্ষমতায় এসেই বিডিআর হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। শেয়ার বাজার লুট করে মানুষকে পথে বসিয়েছে। আজকে ১০ টাকার পরিবর্তে ৬০ টাকায় মোটা চাল কিনতে হচ্ছে।’

ড. মোশাররফ বলেন, ‘জনগণের ওপরে শেখ হাসিনার কোনও আস্থা ও বিশ্বাস নেই। তাই হাত উঁচিয়ে তিনি নৌকায় ভোট চান। জনগণকে ওয়াদা করাতে চান।’

গণতন্ত্রের মুক্তি মানেই খালেদা জিয়ার মুক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেই গণতন্ত্র মুক্তি পাবে। আজকে যদি নিরপেক্ষ ভোট হয় তাহলে আওয়ামী লীগকে জনগণ আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করবে। সেজন্য শেখ হাসিনা খালেদা জিয়াকে ভয় পান, জনগণকে ভয় পান।’

সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে ছাড়া কি অংশগ্রহণমূলক হতে পারে?’ এসময় জনগণ সমম্বরে ‘না’ সূচক উত্তর দেয়। তখন ড. মোশাররফ বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে ছাড়া এদেশে আর কোনও নির্বাচন হতে দেয়া হবে না ‘

কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কেউ জানতাম না। হঠাৎ করে একটা আন্দোলন হলো। আগামী দিনে গণতন্ত্রের আন্দোলন, জনগণের অধিকারের আন্দোলনও সেরকম হবে। জনগণ যখন রাস্তায় নামবে তখন তারা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেই ঘরে ফিরবে। সংসদ ভেঙে দিয়ে সেনাবাহিনী নিয়োগ করে একটা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ সংসদ নির্বাচন করবে। সেই আন্দোলনে রাজশাহীবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহবান জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরামর্শ নিয়ে এ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসচি দিয়ে আসছি। এতে যদি সরকারের বোধদয় না হয় তাহলে কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। সেই আন্দোলন সফল করতে আপনারা প্রস্তুত আছেন কি না।’ তখন জনতা হাত উঁচিয়ে সায় দেয়।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি রাসিক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনের পরিচালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বরকত উল্লাহ বুলু, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিনু, জয়নুল আবেদিন ফারুক, হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, কর্নেল (অব.) এম এ লতিফ, যুগ্ম মহাসচিব হারুন অর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত খালেক, চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান প্রমুখ।

খবরটি শেয়ার করুন..




Loading…








© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com