শনিবার, ২১ Jul ২০১৮, ০৫:৩৭ অপরাহ্ন




সাতছড়ি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় এ্যাডভেঞ্চার ট্রি এক্টিভিটি চালু

সাতছড়ি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় এ্যাডভেঞ্চার ট্রি এক্টিভিটি চালু




নুর উদ্দিন সুমনঃ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সাতছড়ি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় এ্যাডভেঞ্চার ট্রি এক্টিভিটি চালু করা হয়েছে। গতকাল সকাল ১১ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সাতছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো মাহমুদ হোসেন এ্যাডভেঞ্চার ট্রি এক্টিভিটি চালু করেন। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান পরিবেশ বান্ধব পর্যটন। এটি পর্যটকদের জন্য জেলায় একটি আকর্ষণীয় স্থান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, এলাকার মানুষদের সংগ্রামী ও ঝুঁকিপূর্ণ জীবন আর বিশাল বৃক্ষরাজি দেখতে চাইলে এখনই উপযুক্ত সময়। এখানে এ্যাডভেঞ্চার নিতে চাইলে রয়েছে ট্রি
এক্টিভিটি। এটি একটি মজাদার ও রোমাঞ্চকর আউটডোর এক্টিভিটি। একে হাই রোপ
এক্টিভিটিও বলা হয়। মাটি থেকে ৩০ ফুট উপরে এক গাছ থেকে আরেক গাছে বিভিন্ন
কঠিন ধাপ অতিক্রম করাই ট্রি এক্টিভিটি। অত্যন্ত নিরাপদ ভাবে তৈরী এই এক্টিভিটি, এটি উপভোগ করতে বেশ কিছু নিরাপত্তা সরঞ্জাম (সেফটি হার্নেস,
গ্লাভস, হ্যালমেট) ব্যবহার করা হয়। এই এক্টিভিটি করতে বেশ কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলতে হবে। মনে রাখতে হবে জীবনের জন্য রোমাঞ্চ, রোমাঞ্চের জন্য জীবন নয়। তাই যে কোন ধরণের রোমাঞ্চকর এক্টিভিটি সঠিক নিয়মেই করতে হবে।
জেলার চুনারুঘাট উপজেলার রঘুনন্দন পাহাড়ে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান অবস্থিত। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের একটি প্রাকৃতিক উদ্যান। ১৯৭৪ খিস্টাবব্দে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ/সংশোধন আইনের বলে ২৪৩ হেক্টর এলাকা নিয়ে ২০০৫
খিস্টাবব্দে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই উদ্যানে সাতটি পাহাড়ি ছড়া আছে, সেই থেকে এর নামকরণ সাতছড়ি । সাতছড়ির আগের নাম ছিলো “রঘুনন্দন হিল রিজার্ভ ফরেস্ট”। জাতীয় উদ্যানটি  কয়েকটি চা বাগান, গ্রাম, শহর এবং চাষাবাদকৃত জমি দ্বারা নিবিড়ভাবে
বেষ্টিত। সাতছড়ি উদ্যানের কাছাকাছি ৯টি চাবাগান অবস্থিত। উদ্যানের পশ্চিম দিকে সাতছড়ি চা বাগান এবং পূর্ব দিকে চাকলাপুঞ্জি চা বাগান
অবস্থিত।টিপরাপাড়া নামে একটি গ্রাম উদ্যানটির ভেতরে অবস্থিত। যেখানে ২৪টি
আদিবাসী উপজাতি পরিবার বসবাস করে। আশপাশের চৌদ্দটি গ্রামের মানুষ, বিশেষ
করে চা বাগানের শ্রমিক ও বনের মধ্যে বসবাসকারীরা বিভিন্নভাবে বনজ সম্পদের
ওপর নির্ভরশীল। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে রয়েছে ১৪৫ প্রজাতির গাছপালা ছাড়াও
১৯৭ প্রজাতির জীব। যার মধ্যে ১৪৯ প্রজাতির পাখি, ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী,
১৮ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ৬ প্রজাতির উভচর প্রাণী। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের
উল্লুকগুলোর এক গাছ থেকে অন্য গাছে লাফালাফি এবং পোকামাকড়ের বিচিত্র
ধরনের ঝিঁঝিঁ শব্দ পর্যটকদের মধ্যে দারুণ আনন্দ দেয়। এ বনের ২৪ প্রজাতির
স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে উল্লুক, মেছোবাঘ, শুকুর, সাপ, মুখপোড়া হনুমান, চশমা হনুমান, লজ্জাবতী বানর, প্রজাতির উল্লেখযোগ্য। ১৪৯ প্রজাতির পাখির মধ্যে ধনেশ, লাল মাথা ট্রগন এবং বিরল উদ্ভিদের মধ্যে বিষলতা, পিতরাজ,
কানাইডিঙ্গা, আগর ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ২০ প্রজাতির বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হতে চলছে। বিলুপ্ত প্রায় এসব প্রজাতির মধ্যে রয়েছে চিতা বাঘ, মেছো বাঘ,
লজ্জাবতি বানর, মায়া হরিণ, উল্লুক, ময়না পাখি, ঘুঘু পাখি, টিয়া পাখি, ঈগল
পাখিসহ উল্লেখযোগ্য বন্যপ্রাণীর কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে। কিভাবে যাবেন  সাতছড়ি ঢাকা থেকে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হল সিলেটগামী যে কোনও বাসে মাধবপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে নেমে সেখান থেকে বাস কিংবা ম্যাক্সিতে
সাতছড়ি। এছাড়া ঢাকা থেকে রেল ও সড়কপথে হবিগঞ্জ গিয়ে সেখান থেকেও সাতছড়ি
যাওয়া যায়। এছাড়া ঢাকার সায়দাবাদ থেকে অগ্রদূত পরিবহন, দিগন্ত পরিবহন ও
বিছমিল্লাহ পরিবহন সরাসরি হবিগঞ্জ যায়। ভাড়া এসি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। ট্রেনে হবিগঞ্জ যেতে হলে নামতে হবে সায়েস্তাগঞ্জ স্টেশন। এখান থেকে শহরের দূরত্ব প্রায় ১৪ কিলোমিটার। ঢাকার কমলাপুর থেকে মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের
প্রতিদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যায় আন্তঃনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস।
দুপুর ২টায় প্রতিদিন ছাড়ে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস। বুধবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন রাত ১০টায় ছাড়ে উপবন এক্সপ্রেস। শ্রেণীভেদে ভাড়া ১০০ থেকে ৬৭৩
টাকা। চট্টগ্রাম থেকে সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে যায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেস। শনিবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ৯টায় উদয়ন এক্সপ্রেস। ভাড়া ১২৫ থেকে ৮৫৭ টাকা।
আর যারা হবিগঞ্জ সদর থেকে যেতে চান তারা হবিগঞ্জ টু মাধবপুর ভায়া
চুনারুঘাট বাসে করে অথবা সিএনজি বা মাইক্রোবাস রিজার্ব করে যেতে পারেন।
সাতছড়ি উদ্যানের তথ্য কেন্দ্র থেকে গাইড পাবেন। ট্রেইল অনুযায়ী গাইড ফি
যথাক্রমে ২০০-৫০০ টাকা। যদিও অফিস চত্বরে ম্যাপ দেয়া আছে, তবুও গাইড নেয়া
উচিত। কারণ শুরুতে ট্রেইল বিষয়ে নির্দেশনা থাকলেও বনের মধ্যে কোথাও এই
বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া নেই। ফলে বনের মধ্যে পথ ভুল করার সম্ভাবনা রয়ে যায়।
ব্যবস্থা বা রান্না ক্যাম্পেইনকারী নিজেদের ব্যবস্থাপনায় করতে চাইলে
প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে এবং রান্নার সরঞ্জামসহ সবকিছু ভাড়া নিতে
পারবে। রান্নার ঝামেলা করতে না চাইলে স্বল্প মূল্যে মানসম্মত খাবার সরবরাহের ব্যবস্থাও রয়েছে। পিকনিক করার জন্য সাতছড়ি পিকনিক স্পট একটি আদর্শ স্থান। এখানে পানি, বিদ্যুৎ, গাড়ী পার্কিং, বসার জায়গা, অনুষ্টান
আয়োজন করার জন্য স্থান, পর্যাপ্ত ওয়াশ রুম ও রান্না-বান্নার সু-ব্যবস্থা রয়েছে। এতে খরচ পড়বে এন্টি ফিঃ ১০ টাকা। ট্রি এ্যাডভেঞ্চার এক্টিভিটি ফিঃ  ১০০টাকা।

খবরটি শেয়ার করুন..




Loading…








© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com