May 26, 2018, 7:47 pm




বাহুবলে গণধর্ষণের ঘটনায় আটক দুই লম্পটের জামিন না’মঞ্জুর

বাহুবলে গণধর্ষণের ঘটনায় আটক দুই লম্পটের জামিন না’মঞ্জুর




নিজস্ব প্রতিনিধি ॥ নারায়নগঞ্জ থেকে বাহুবলের জয়পুরে এসে গণধর্ষণের শিকার যুবতী মামলায় উপজেলা পরিষদের পিয়ন আলম মিয়াসহ ২ লম্পটের জামিন না মঞ্জুর করেছেন আদালত। এদিকে তাদের বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের নিয়োজিত আইনজীবি জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করেন। প্রসঙ্গত নারায়নগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার দিঘিবরাবর গ্রামের মৃত মনোয়ার হোসেনের কন্যা নাজমা আক্তার আখির স্বামী মারা যায় ৬ মাস আগে। পিতার অভাব অনটনের সংসারে সে গার্মেন্টেসে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো। এ সময় এক অনুষ্ঠানে বাহুবল উপজেলার পূর্ব জয়পুর গ্রামের তৈয়ব খার কন্যা লিপি আক্তারের সাথে তার পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মাঝে বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। লিপি তার ভাই বাহুবল উপজেলা পরিষদের পিয়ন আলম ও তার দুলা ভাই এমরান মিয়ার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে আলমের সাথে নাজমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত সোমবার দুপুরে আলম ওই যুবতীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে বাহুবলে তার বাড়িতে নিয়ে আসে। নাজমা তাকে বিয়ের কথা বললে আলম জানায়, রাতে তাদের বিয়ে হবে। কিন্তু রাতে নির্জন একটি বাড়িতে নাজমাকে নিয়ে যায় আলম। সেখানে নিয়ে রাতভর আলমসহ বেশ কয়েক যুবক তাকে গণধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জ্বলন্ত সিগারেট দিয়ে ছ্যাকা দেয়। গত মঙ্গলবার সকালে তাকে রাস্তায় ফেলে দিলে লোকজন তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। ঘটনাটি প্রচার হলে গত মঙ্গলবার রাতেই বাহুবল থানার ওসি মাসুক আলীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে লিপি আক্তার (২৫), লিপির ভাই উপজেলা পরিষদের পিয়ন আলম মিয়া (২২) ও পূর্ব জয়পুর গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের পুত্র ছায়েদ আলী (৪৫) কে আটক করে। মঙ্গলবার রাতে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে লিপি জানায়, তার স্বামী এমরান ও ভাই আলমের সাথে নাজমার বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। লিপি এ ঘটনার সাথে জড়িত নয়। পরে পুলিশ লিপিকে ছেড়ে দেয়। পুলিশের অভিযান টের পেয়ে ঘটনার মূলহোতা এমরান মিয়া পালিয়ে যায়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ধর্ষনের শিকার নাজমা আক্তার বাদী হয়ে বাহুবল মডেল থানায় তিন জনের নাম উল্লেখসহ একজনকে অজ্ঞাত আসামী করে মামলা দায়ের করে। গত বুধবার দুপুরে বাহুবল মডেল থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। এদিকে বাহুবল থানার ওসি মাসুক আলী জানান, পুর্ব জয়পুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা তৈয়ব খার পুত্র বাহুবল উপজেলা পরিষদের পিয়ন আলম মিয়া ও মকবুল হোসেনের পুত্র সায়েদ আলীর বিরুদ্ধে আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হচ্ছে। রিমান্ডে এনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে মুলহোতা পলাতক এমরানের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া যাবে।

খবরটি শেয়ার করুন..











© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com