বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন



শ্রীপুরে পাকা ধান ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষক

শ্রীপুরে পাকা ধান ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষক



এমদাদুল হক, নিজস্ব প্রতিবেদক :
গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্রমিক সংকটের কারনে কৃষকেরা তাদের প্রান্তিক চাষাবাদ শেষে জমির ফসল ঘরে উঠাতে পারছে না। একদিকে কৃষি শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে শ্রমের মজুরী বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকেরা পড়েছেন বিপাকে। এতে তাদের উৎপাদিত কৃষি পন্য সঠিক সময়ে ঘরে উঠাতে পারবেন কিনা এনিয়ে তাদের শংকা কাটছে না।

হামিদুল হক, শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের বাউনি গ্রামের কৃষক। নিজের জমি-জিরাত না থাকায় স্থানীয় এক মহাজনের কাছ থেকে আড়াই বিঘা জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। জমির পুরোটাই বোরো ধানের আবাদ করেছেন। এত তার গুণতে হয়েছে ১৭ হাজার টাকা। রেকবøস্টের আক্রমনে তার ফসলের ক্ষতি হলেও কপাল ভাল থাকায় অর্ধেকেরও বেশি ধান পেকেছে সপ্তাহখানেক হল। অতিরিক্ত মুজুরি দিয়ে ধান কাটার কামলা (শ্রমিক) না পওয়ায় পাকা ধান ঘরে উঠাতে পারছেন না। তার ওপর গত কয়েকদিন যাবত শীলা বৃষ্টি ও ঝড় তার দু’চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।

তেলিহাটি ইউনিয়নের গোদারচালা গ্রামে সাড়ে তিন বিঘা জমিতে বোরো আবদের চাষ করেছেন কৃষক মেহেদী হাসান। প্রায় ১০/১২ দিন হলো তার জমির ধান লাল (পাকা) হয়েছে। অতিরিক্ত মুজুরী ও শ্রমিক সংকট থাকার কারনে তিনি ধান কাটা শুরু করতে পারেননি।

এরকম অবস্থা শুধু কৃষক মেহেদী হাসান ও হামিদুলের ভাগ্যই জুটেনি। গাজীপুরের শ্রীপুরের প্রান্তিক কৃষকদের দু”চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে অতিরিক্ত শ্রমের মুজুরী। আর এই অতিরিক্ত শ্রম ও শ্রমিক সংকটের কারনে পাকা ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না তারা। আবার অনেকে অতিরিক্ত টাকায় শ্রমিক কিনতে না পারায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ধান কাটা শুরু করেছেন।

গোসিঙ্গা ইউনিয়নের দড়ি খোঁজেখানী গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, শ্রমিক সংকটের কারনে তার চার বিঘা জমির ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। যে টাকা খরচ করে শ্রমিকদের ধান কাটবেন, সেই ধান বিক্রি না করে শ্রমিকের টাকা পরিশোধ করা ছাড়া কোনো উপায় নাই।

এক বিঘা জমির ধান কাটার জন্য চার হাজার টাকা প্রয়োজন, টাকা জোগার করতে না পারায় এখনো ধান কাটা শুরু করতে পারিনি। এখন তার চোখে মুখে শুধুই অন্ধকার। কথাগুলো বলছেন তেলিহাটি গ্রামের কৃষানী উম্মে কুলসুম।

গত তিনদিন যাবত স্ত্রীকে সাথে নিয়ে ধান কাটছেন মাওনা ইউনিয়নের নিজ মাওনা গ্রামের ষাটোর্ধ কৃষক আহমদ আলী। তিনি জানান জমিতে পাকা ধান রেখে দু’চোখে ঘুম আসে না। যে কোন সময় শীলা বৃষ্টি ও ঝড়ের কারনে উৎপাদিত ফসলের ক্ষতি হতে পারে। অতিরিক্ত মুজুরী দিয়ে শ্রমিক না নিয়ে অসুস্থ শরীর নিয়েও ধান কাটা শুরু করেছি।
শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া গ্রামের কৃষক আজমল মিয়া জানান, এ এলাকায় অতি দ্রæত শিল্প-কারখানা গড়ে উঠায় কৃষি শ্রমিকের সংকট শুরু হয়েছে। কৃষকের ক্ষেতে ভালো ফলন হলেও উৎপাদনে অতিরিক্ত টাকা খরচ হওয়ায় কৃষকেরা লোকশানে রয়েছে। নিজের জমির ধান কাটতে কয়েকদিন ধরে হন্যে হয়ে তিনি শ্রমিক খোঁজেও ব্যর্থ হচ্ছেন।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৮ টি ইউনিয়নে ১২হাজার ১’শ ৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় ধানের ভাল ফলণ হলেও শেষ মুহুর্তে নেক বøাস্টের আক্রমনে ফলণ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে সঠিক সময়ে ধান ঘরে তুলতে পারলে সে ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে নিতে পারবে কৃষকরা। ধান পেকে আট দশদিন হয়ে গেলেও এখনও অধিকাংশ ধান মাঠেই রয়েছে শ্রমিক সংকটের কারনে।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মুয়ীদ উল হাসানের অভিমত, বর্তমান শ্রম বাজারে কৃষি শ্রমিক সংকট এখন অন্যতম একটি সমস্যা। এ সংকট মোকাবেলায় কৃষকদের কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ তাঁর। এছাড়াও বোরো মৌসুমের ফসল ঘরে তোলার সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এখন পর্যন্ত শ্রীপুরে দুর্যোগের কবলে কৃষকরা পড়েনি। তবে ধান পেকে গেলে সতর্কতার সহিত যত দ্রæত সম্ভব ঘরে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।

খবরটি শেয়ার করুন..








© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com
Desing & Developed BY W3Space.net