শনিবার, ২১ Jul ২০১৮, ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন




ঢাকাকে ডোবাচ্ছেন পুতিন!

ঢাকাকে ডোবাচ্ছেন পুতিন!




অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন নির্বাচনে সবদলই ভোট দেয়। প্রতিটি নির্বাচনের আগে বিরোধী নেতাকে কারাগারে রাখার জন্য আইন বানায়নি মার্কিন কংগ্রেস। এ দেশে ভোটাভুটি হয় পুলিশের ন্যূনতম উপস্থিতিতে।

অন্যদিকে, সর্বাধিনায়কদের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানে, ক্রেমলিন-বেইজিংয়ের রেডফ্ল্যাগ নির্বাচনে, ‘কর্তার ইচ্ছায় কর্ম।’ ১৮ বছর ধরে নিজেকেই ক্ষমতায় বসাতে নির্বাচনের আয়োজন করেন পুতিন। জিনপিং আমৃত্যু প্রেসিডেন্ট, জনগণের ভোটাধিকারের প্রশ্নই আসে না।

ঢাকার নির্বাচনে বেইজিংয়ের প্রভাব কম। ক্রেমলিনের প্রভাব পরোক্ষ। তবে ভারতের হস্তক্ষেপ সরাসরি বলেই দেখা গেছে। সেটাই হয়েছে বিগত দুই নির্বাচনে, ভবিষ্যতেও হতে পারে। বিষয়টি বোঝার জন্য ইন্দো-রুশ সম্পর্কের সংক্ষিপ্ত আলোচনা।

১৯৫৫ সালে রুশ নেতা ক্রুশচেভের ভারত সফরে সম্পর্কের নতুন মাত্রা। ভারতের কাশ্মির দখল করাকে সোভিয়েতের সমর্থন। ’৬২তে চীনের সঙ্গে ভারতের যুদ্ধ ছাড়াও, প্রতিটি ইন্দো-পাক যুদ্ধেই সোভিয়েতের সহায়তা।

মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে নতুন ট্রিটি। ‘পূর্ব পাকিস্তান’ বিচ্ছিন্ন করার পরেই ইন্দিরার অ্যাজেন্ডা পশ্চিমকে অ্যাটাক। সোভিয়েত রাজি হয়নি বলেই তা সম্ভব হয়নি। পারমাণবিক এবং প্রতিরক্ষাসহ, গুরুত্বপূর্ণ সব খাতে ভারতকে অভূতপূর্ব সহায়তা রাশিয়ার।

জাতিসঙ্ঘে বন্ধু দেশগুলোকে রক্ষা করে রাশিয়ার ভেটো (যে কারণে সিরিয়ায় খুনি আসাদ এখনো ক্ষমতায়)। যেকোনো বিষয়ে, ক্ষমতাসীনদের পক্ষে অভিন্ন মতামত উভয়পক্ষের। লৌহমানব যখন কোনো দেশের বিষয়ে মন্তব্য করেন, বিরাট ঘটনা।

ট্রাইব্যুনাল থেকে খালেদার জেল… ৯ বছর ধরেই বিতর্কিত প্রতিটি বিষয়ে দিল্লি-ক্রেমলিনের মতামত একই।

অনেকের মতে, বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক মানুষটির নাম পুতিন। তবুও তার সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা নেই বেশির ভাগেরই। কারণ উন্নয়নের নামে মাথা খারাপ হয়ে গেছে। না জেনেই বিএনপিকে দোষারোপ পরিণত হয়েছে চরিত্রদোষে। ট্রাম্পকে ডুবিয়েছেন পুতিন। ছলেবলে ঢাকাকেও ডোবাচ্ছেন পুতিন এবং তার বন্ধু।

ভোট চোরদের শাস্তি কী হওয়া উচিত? বাস্তবতা এটাই, ভোটচুরি করে ক্ষমতায় যাননি ট্রাম্প। অপরদিকে, নির্বাচনে প্রভাব খাটিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে প্রচণ্ড অস্থিরতার সৃষ্টি করেছেন পুতিন। তার কারণেই ২৪০ বছরের গণতন্ত্রের বাতিঘরে, প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ-বিএনপির ঝগড়াঝাঁটি।

তদন্তের পর নির্বাচনে ট্রাম্প-রাশিয়া কানেকশন নাকচ করলেও, ভয়ঙ্কর ব্যক্তিত্ব পুতিনের প্রভাব বিস্তারকে নাকচ করেনি কংগ্রেস। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, রিপাবলিকান পার্টিকে অস্থিতিশীল করার পর, আগামী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকেও করবে। পুতিনকে যারা চেনেন না, অন্যদের সস্তা সমালোচনা শুধু তাদের জন্য।

ঢাকার মতোই নিজের ক্ষমতা নিয়ে ন্যূনতম দ্বন্দ্ব নেই লৌহমানবের। তিনি জানেন, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীকেই জায়গা দেবেন না (সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশের জন্য পাঁচ মাইল লম্বা আবেদন করা হলেও)। কখনো রাষ্ট্রযন্ত্র, কখনো আততায়ীর সাহায্যে একক ক্ষমতা নিশ্চিত করেন পুতিন। এভাবেই ২০১৫ এবং ২০১৭ সালে দুই প্রতিদ্বন্দ্বীকে উধাও।

সেপ্টেম্বর ২০১৭, ইউএসএ টুডে- ২০০৪ সাল থেকে ২৭টি দেশের নির্বাচনে পুতিনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ। নয়া দিগন্ত ১২ মার্চ। ‘৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে, তিনিই বিজয়ী হবেন… সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা অ্যালেক্সে নাভালিনকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অনুমতি দেয়নি কর্তৃপক্ষ।’ বিবিসি নিউজ ২৫/১২/২০১৭, সুপ্রিম কোর্টের ১৩ বিচারকের ১২ জনেরই অ্যালেক্সে নাভালিনের বিপক্ষে রায়।

২৫/১২/২০১৭, নিউইয়র্ক পোস্ট- পুতিন তার সর্বপ্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীকে নির্বাচনে লড়াই করার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ করেছেন। ৩০/১২/২০১৭, দ্য ইনডিপেনডেন্ট- ২০১৮ এর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে জনপ্রিয় নেতা অ্যালেক্সে নাভালিনকে নিষিদ্ধ করল রাশিয়া (যার রেটিং ৮০%)। সুপ্রিম কোর্ট এই নেতার আপিল খারিজ করে বলেছে, তাকে নিষিদ্ধ করা কমিশনের আইনসম্মত। (এখানেও ঢাকা?)

ওয়াশিংটন পোস্ট, ২৩/৩/২০১৭- গুম-ক্রসফায়ার-সাংবাদিক হত্যা, মানবাধিকার হরণে রেকর্ড ভাঙলেন পুতিন। ২/৫/২০১৭ ইউএসএ টুডে- রহস্যজনক মৃত্যুর হিড়িকের আঙুল পুতিনের দিকে।

সিনেটর মেককেইন- পুতিন একটা ঠাণ্ডা মাথার খুনি। ১৫/৩/২০১৮, প্রথম আলো যা লিখেছে, ক্ষমতা আমৃত্যু করতে ১৫তম সংশোধনীর মতোই সংবিধান অপব্যবহারের অত্যন্ত সুন্দর উদাহরণ। দ্য টাইমসের বরাত দিয়ে- ‘২০০০ সালের পর থেকে রাশিয়ার নির্বাচনে আর জয়পরাজয় নিয়ে ভাবা হয় না। এবারের নির্বাচনে জিতলে পুতিন চতুর্থ মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হবেন।

২০১২ সাল পর্যন্ত দুই দফায় প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তখন প্রেসিডেন্টের মেয়াদ ছিল চার বছর। এরপর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে, প্রেসিডেন্ট পদ থেকে নেমে প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর আবারো প্রেসিডেন্ট পদে ফিরে যান। তখনই আইনপ্রণেতাদের দিয়ে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়িয়ে ছয় বছর করালেন।

এরই মধ্যে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব শেষ করেছেন। এরপর চতুর্থ মেয়াদের অপেক্ষা। তাহলে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতা সংহত থাকবে পুতিনের। অর্থাৎ ২৪ বছর ক্ষমতায় থাকা হয়ে যাবে।

২০২৪ সালে পুতিনের বয়স হবে ৭১ বছর। ওই সময় সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মানতে হলে, আবার প্রধানমন্ত্রী হতে হবে পুতিনকে। তখন পুতিনের হাতে বিকল্প থাকবে তিনটি। ১. চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর মতো আজীবন ক্ষমতায় থাকার বিধান করতে পারেন। ২. প্রধানমন্ত্রী পদে এক মেয়াদ থেকে আবার প্রেসিডেন্ট হতে পারেন। ৩. একজন উত্তরসূরির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সাধারণ জীবনে ফিরতে পারেন।’ তৃতীয় বিকল্প নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

১৯ বছর বয়সী ইরিনা নামের রুশ নারীর বরাত দিয়ে, ‘ভোটের ফলাফল অনেক আগেই চূড়ান্ত হয়ে গেছে, তাই অনেকেই ভোটকেন্দ্রে যাবেন না, ভোট দেবেন না। (১৬/৩/২০১৮, প্রথম আলো তুলনীয় নির্বাচনে বিজয় আনুষ্ঠানিকতা মাত্র -কাদের। ১৭/৩/১৮ যুগান্তর- সহসা মুক্তি পাচ্ছেন না খালেদা। … নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপির কোনো প্রতিনিধি থাকবে না-মুহিত। তাহলে, ইরিনা কি ঢাকার কথা বলছেন?)

রয়টার্সের বরাত দিয়ে, ‘মাঝে মাঝেই বেশ ক্লান্ত অনুভব করার কথা বলেন, রাশিয়ার এই নতুন ‘জার’।” ‘জারের’ ব্যাখ্যা প্রয়োজন। কুখ্যাত লেনিন ও স্টালিনের পূর্বসূরি ‘জারদের’ অভিশাপে অভিশপ্ত দেশটি।

সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার পর, বড় অংশটির নাম রাশিয়া। কুখ্যাত সম্রাট পিটার দ্যা গ্রেট একজন জার, যিনি নিজের পুত্রকে ক্ষমতার হুমকি মনে করে, শিরচ্ছেদ করান। পুতিনের কার্যকলাপে জনমনে প্রশ্ন, তিনি কি নব্য জার?

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ রুশ ভোটারই মনে করেন, পুতিন হচ্ছেন, ফিরে আসা ‘জার’। এবার তাদের কিছু মন্তব্য। … পুতিনের কিছু পালিত ভোটার দিয়ে নির্বাচন হবে (এরশাদ মার্কা?)। ভোট যতই কম পড়–ক, তার কাছে এটা কোনো বিষয় নয়।

আসল কথা, যেকোনো মূল্যে তাকেই ক্ষমতায় থাকতে হবে (ভোটচোর ৫ জানুয়ারি)। … যাকে হুমকি মনে করে তাকেই খুন করে। সুতরাং কেন ভোট দেবে মানুষ? ‘এটা নির্বাচন নয়, বরং নতুন করে আবারো রাজার সিংহাসন গ্রহণ।’

গণতন্ত্র ধ্বংসের সর্বাধিনায়কের অন্যতম কাজ, দেশে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ক্ষমতা প্রদর্শন। সাইবার অ্যাটাক, নার্ভ গ্যাস, পারমাণবিক বিষক্রিয়া, গুপ্তচর বাহিনী, হ্যাকার বাহিনী প্রভৃতি হাতিয়ার।

লৌহমানবের আমলে গুম-খুন আর সাংবাদিক হত্যার লোমশিহরিত তালিকা ইন্টারনেটে। ইউএসএ টুডে, ২/৫/২০১৭ তারিখে এই রকমই একটি তালিকা প্রকাশ করে, ৩৮টি হত্যাকাণ্ডের জন্য আঙুল তুলেছে এই প্রাক্তন কেজিবি প্রধানের দিকেই।

কী পারেন না পুতিন? বাদ ছিল মার্কিন নির্বাচন। সেখানেও হানা! ইউক্রেন দখল। আসাদকে ক্ষমতায় রেখে গণহত্যা চলতে দেয়া। দ্বিতীয় বৃহত্তম নিউক্লিয়ার সুইচ দিয়ে এক ঘণ্টায় বিশ্ব উড়িয়ে দেয়ার হুমকি।

দুর্বল দেশগুলোতে পারমাণবিক শক্তি বিক্রি করে পরস্পরকে শত্র“ বানানো। পূর্বকে পশ্চিম থেকে বিচ্ছিন্ন করে অনুন্নত দেশগুলোর ক্ষমতার অদল-বদলে, ক্ষমতা প্রয়োগ। ভৌগোলিক কারণে এ তালিকার শীর্ষে বাংলাদেশ।

ঢাকার প্রয়োজন একটাই। সবকিছুর বিনিময়ে ক্ষমতা চাই। ক্ষমতাসীনেরা নাম দিয়েছেন ‘উন্নতি’। এক বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ক্রয় দিয়ে শুরু। পরে বিভিন্ন প্রকল্পে বিলিয়ন-বিলিয়ন ডলারের দীর্ঘমেয়াদি ঋণের জাল। ‘রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে’ দায়মুক্তি আদায় করে, দিল্লিকেও ঢোকালেন পুতিন। রূপপুর নিজেই একটা ক্রেমলিন, চার দিকেই দুর্গ।

পারমাণবিক প্রকল্পের নিরাপত্তা নিয়ে তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির যথেষ্ট সন্দেহ সত্ত্বেও ড. আনু মোহাম্মদসহ সবার হাড় ঢিলা করে দিল পেটোয়া বাহিনী।

একই ঘটনা সুন্দরবন ধ্বংসকারী ভারতের তাপ-বিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রেও। যে পরিমাণ ঋণ দিয়েছে, সরকার বদল হলে তারাই মহাবিপদে। জনগণের বিরুদ্ধে এ যেন ঢাকা-দিল্লি-ক্রেমলিনের হামলার শামিল। পুতিনের মতো আমাদেরও সুবিধা, বৈধ পার্লামেন্ট নেই (সুপ্রিম কোর্টের রায়)। এটাই কর্তার ইচ্ছায় কর্ম। ফলে অ্যালেক্সে নাভালিনের ভাগ্য খালেদারও।

মেনিনজাইটিস একটি মারাত্মক ব্যাধি। প্রধান উপসর্গ, প্রচণ্ড জ্বর। সময়মতো চিকিৎসা না দিলেÑ জ্বর, ঠসা, বোবা- এমনকি মৃত্যুও তাৎক্ষণিক।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন, ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য ‘রাবিশ’। আমি বলব, রাবিশ নয় ওটা জ্বর। মেনিনজাইটিসের চিকিৎসা না দিলে, জ্বরের তাপমাত্রা শুধুই বাড়বে। কান টানলেই ঘাড়।

নির্বাচনের কলকাঠি কারা নাড়ছে, বিএনপি মহাসচিবের আয়ত্তে না থাকারই কথা। কারণ তারা সবসময়ই জ্বর নিয়েই ব্যস্ত। মেনিনজাইটিসের চিকিৎসার সুযোগ যখন ছিল, দেননি। এখন রাবিশ নিয়ে মন্তব্য ছাড়া কাজ নেই। নেত্রীর কারাভোগের জন্য নিজেরাও কি কম দায়ী? এটাই বাঙালির চরিত্র।

বাঙালির চরিত্র সম্পর্কে উপনিবেশবাদী ব্রিটিশের মন্তব্য। অধিকাংশই নারী চরিত্রের; তাই চিন্তার কারণ নেই। সত্যিই তাই। অন্যেরা যখন যুদ্ধে যায়, ব্রিটিশ আমল থেকেই বাঙালিদের কাজ যুদ্ধ এবং সংগ্রাম নিয়ে কবিতা।

কবি হেলাল হাফিজ লিখেছেন, ‘এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাওয়ার তার শ্রেষ্ঠ সময়।’ বুঝলাম, কিন্তু যতবারই যুদ্ধ লাগে, নির্মলেন্দু গুণদের সংখ্যাও ততই বাড়ে।

ইন্দিরাকে হত্যার পরেও শিখ সৈন্যদের বাদ দিয়ে, অন্য কোনো গোষ্ঠীকে প্রতিরক্ষা বাহিনীর মেরুদণ্ড বানাতে পারেনি ভারত। ব্রিটিশবিরোধী যুদ্ধে, জাপান-জার্মানির মতো দেশগুলোকে রাজি করালেও, নেতাজী কিন্তু আজাদহিন্দ ফৌজের জন্য বাঙালি সৈন্যদের সাড়া পাননি। বরং এক্সপ্যাট্রিয়ট সৈন্যদের বেশির ভাগই শিখ।

একইভাবে সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের ঔদ্ধত্য আচরণ সত্ত্বেও জিডিপির ৬ শতাংশ ব্যয় করা (দ্যা ডিপ্লোমেট ১০ মার্চ, ৩.২ বিলিয়ন ডলারের বাজেট সত্ত্বেও জল-স্থল-আকাশে প্রতিবেশী মিয়ানমারের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শন করেনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী) সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানোর বদলে, প্রতিটি ব্যর্থতার জন্যই কিভাবে বিএনপিকে দায়ী করে? এটাই ‘বাঙাল’ চরিত্রনামা।

এবার লিখব রেডফ্ল্যাগ দেশগুলো কিভাবে আমাদের নির্বাচনকে কলুষিত করছে। জিনপিংকে আজীবন প্রেসিডেন্ট ঘোষণার পর, নিউইয়র্কের সাপ্তাহিক ‘ঠিকানা’র হেড লাইনের সারমর্ম, হাসিনাও বেইজিং-এর পথে কিনা!’

যেভাবে ঘর গোছাচ্ছেন হাইকমান্ড, নিন্দুকদেরও একই শঙ্কা। এভাবে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকলে, একটি পশমও ছিঁড়তে পারবে না বিরোধী দল। তবে বিজয় যেভাবে সম্ভব- ১. কবিতা লেখা দ্রুত বন্ধ করতে হবে। ২. A-to-Z মতভেদ ভুলে সব বিরোধী দলকেই এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিএনপিকেই সমর্থন দিতে হবে।

কারণ বিএনপি ছাড়া আর কারোই গণনার মতো ভোট নেই। ৩. যাদের কয়েক লাখ ভোট আছে, জোটের প্রধান শরিকের বিরুদ্ধে রেডফ্ল্যাগ দেশগুলোর ছড়ানো গুজব পুড়িয়ে ফেলে, শেষ সুযোগ লুফে নিতে হবে। ৪. বিচ্ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন মঞ্চে থেকে এই অপশক্তিকে মোকাবেলা অসম্ভব। ৫. ড. কামাল হোসেন থেকে বঙ্গবীর- প্রতিটি দলের বেলায় প্রযোজ্য।

আমেরিকানরা বলে, ‘United we stand.’ বিচ্ছিন্ন মঞ্চের কারণেই অ্যালেক্সের পরিণতি খালেদারও। ’৭১ সে কথা বলে না। বরং পাকশত্র“দের বিরুদ্ধে সব দলের মঞ্চ তখন একটাই। এই যুক্তিতেই একমঞ্চে না আসার কারণ শেষ।

জনপ্রিয় প্রতিদ্বন্দ্বীকে বন্দী করে কিংবা কলমের খোঁচায় ক্ষমতা পাওয়া সম্ভব। এভাবেই চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় পুতিন। গণতন্ত্রের মুখে রেডফ্ল্যাগ দিয়ে আজীবন প্রেসিডেন্ট হলেন জিনপিং। খালেদাকে ফাঁসিয়ে, কোন পথে ঢাকা?

সারমর্ম

হিরোশিমা-নাগাসাকিতে বোমাবর্ষণের পর, হাজার হাজার লাশের স্তূপ আর কান্নার রোল। তিন হাজার পদার্থ বিজ্ঞানীর সমন্বয়ে গঠিত ‘ম্যানহাটন প্রজেক্টের’ অধিনায়ক, পারমাণবিক বোমা প্রস্তুতকারক পদার্থবিজ্ঞানীর নাম রবার্ট ওপেনহেইমার।

বোমাবিধ্বস্ত পৃথিবীর মাটিতে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের কাছে বলেছিলেন- “আমি জানি, পৃথিবী আর একইরকম থাকবে না। কিছু লোক কেঁদেছে, কিছু হেসেছে, অধিকাংশই নীরব থেকেছে। আমি ভগবত গীতার কয়েকটা লাইন মনে করছি, যুদ্ধে যেতে ভগবান বিষ্ণু তার যোদ্ধাদের প্রবৃত্ত করতে বহু হস্ত ছড়িয়ে দিয়ে বলেছেন- Now I become death, the destroyer of the world. I suppose, we all thought that one way or other.

৫ জানুয়ারির পর কিছু লোক হেসেছে, কিছু লোক কেঁদেছে, অধিকাংশই নীরব থেকেছে।

নেতাজী অবশ্য বলেছিলেন, ‘রক্ত দিলে তিনি স্বাধীনতা এনে দেবেন।’ রক্ত ভারতীয়রা দেয়নি, তাই প্রকৃত স্বাধীনতাও আসেনি। বরং দেশ বিভাগের ৭০ বছর পরেও কলোনিমুক্ত হয়নি মানসিকতা।

২০১৮-এর নির্বাচনের পর আবারো কান্নাকাটির বদলে, রেডফ্ল্যাগের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার সময় এখনই। অন্যথায় আম-ছালা দুটোই যাবে। সূত্র: আরবিয়ান জার্নাল

খবরটি শেয়ার করুন..




Loading…








© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com