শনিবার, ২১ Jul ২০১৮, ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন




ফের সংঘাতের পথে আমেরিকা-উত্তর কোরিয়া

ফের সংঘাতের পথে আমেরিকা-উত্তর কোরিয়া




আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নতুন করে আবার সংঘাতের রাস্তায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ংকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার প্রচেষ্টায় ওয়াশিংটন ‘গ্যাংস্টারের মতো’ আচরণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রকে এ ভাষাতেই আক্রমণ করল উত্তর কোরিয়া।

অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও উত্তর কোরিয়া সফর শেষে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে যাওয়ার পর ওয়াশিংটনের নিন্দা জানাল পিয়ংইয়ং।

এসব বৈঠকে পম্পেওর আচরণকে ‘অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক’ বলেও উল্লেখ করেছে উত্তর কোরিয়া। দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর শনিবার রাতে এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা যেসব বক্তব্য দিয়েছেন তার সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের মিল পাওয়া যায় না। পম্পেও বৈঠক শেষে দাবি করেছিলেন, তার দুদিনব্যাপী পিয়ংইয়ং সফরের আলোচনায় ‘অগ্রগতি’ হয়েছে।

গতমাসে সিঙ্গাপুরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে শীর্ষ বৈঠকের পর এই প্রথম পম্পেও পিয়ংইয়ং সফর করলেন। কিম ও ট্রাম্পের বৈঠকে উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার ব্যাপারে সমঝোতা হয় কিন্তু তা বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে কোনও মতৈক্য হয়নি।

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুরের শীর্ষ বৈঠকের চেতনা লঙ্ঘন করে উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ করার জন্য একতরফা চাপপ্রয়োগ করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা ধারণা করেছিলাম যুক্তরাষ্ট্র গঠনমূলক পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হবে। এবং আমরা বিনিময়ে কিছু পাব। কিন্তু ওয়াশিংটনের বর্তমান আচরণ অব্যাহত থাকলে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের প্রচেষ্টা ধাক্কা খেতে পারে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি ভেবে থাকে গ্যাংস্টারের মতো আচরণ করে উত্তর কোরিয়াকে তার দাবি মেনে নিতে বাধ্য করা যাবে তাহলে সে মারাত্মক ভুলের মধ্যে রয়েছে।’

মাইক পম্পেও শুক্র ও শনিবার দুদিনব্যাপী সফরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সাক্ষাৎ পাননি। তবে তিনি কিমের ডান হাত হিসেবে পরিচিত জেনারেল কিম ইয়ং-চোলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ ছাড়া, উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং হোর সঙ্গেও তার কথা হয়েছে।

ন্যাটোর ব্যয় বৃদ্ধি: মিথ্যা বলছেন ট্রাম্প!
ন্যাটো সামরিক জোটের ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে সদস্য দেশগুলো রাজি হয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দাবি করেছেন তা নাকচ করেছে ইতালি ও ফ্রান্স।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যা দাবি করছেন তা সঠিক নয়; বর্তমান ব্যয়ের চেয়ে ন্যাটো এই মুহূর্তে সামরিক বাজেট বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা করছে না।

গতকাল (বৃহস্পতিবার) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটো জোটের শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে ট্রাম্প টুইটার বার্তায় দাবি করেন, “ন্যাটো সদস্য দেশগুলো জোটের জন্য তাদের জিডিপি’র শতকরা দুই ভাগের জায়গায় চার ভাগ ব্যয় করতে রাজি হয়েছে।”

কিন্তু ম্যাকরন এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের এ বক্তব্যের বিষয়ে আপত্তি জানান। তিনি সুস্পষ্ট করে বলেন, এ ধরনের কোনো সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয় নি।

ম্যাকরন বলেন, সম্মেলনের যে চূড়ান্ত ঘোষণা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে ন্যাটো জোটের জন্য ২০২৪ সাল থেকে শতকরা দুই ভাগ ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে; এর চেয়ে বেশি কিছু না।

ট্রাম্প যে বাজেট বাড়ানোর ব্যাপারে চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন তা নিয়ে ম্যাকরন বলেন, “আমি জানি না যে, এটা কত ভালো পদক্ষেপ এবং আমাদের সম্মিলিত নিরাপত্তার জন্য কতটা দরকার।”

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জুসেপে কোন্তেও ফরাসি প্রেসিডেন্টের সুরে কথা বলেছেন। তিনি ন্যাটো সামরিক বাজেট বাড়ানোর কথা নাকচ করে বলেন, “ইতালি তার প্রতিশ্রুতি মতো অর্থ দিয়ে যাচ্ছে এবং ব্যয় বাড়নোর বিষয়ে তাকে কিছু বলা হয় নি।

ফলে নতুন বাড়তি ব্যয়ের প্রশ্নও নেই।” তিনি আরো বলেন, “আমার কান কখনো শোনে নি যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ন্যাটো জোট ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন। ফলে আমি খবরটি নিশ্চিত করতে পারছি না। যদি সম্মেলনের অবকাশে তিনি এমন কোনো কিছু বলে থাকনে তাহলে আমি তা জানি না।”

ন্যাটো সম্মেলনের সময় ট্রাম্প সদস্য দেশগুলোকে ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে খুবই চাপ সৃষ্টি করেন এবং আগামী জানুয়ারি থেকে প্রতিটি দেশের জিডিপি’র শতকরা আরো দুই ভাগ অর্থ ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিতে বলেন। সম্মেলন শেষে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টিতে সব দেশ একমত হয়েছে।

খবরটি শেয়ার করুন..




Loading…








© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com