শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:২০ অপরাহ্ন



হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী



চার বছর সংস্কার শেষে পাঁচ তারকা মানের অভিজাত হোটেল ‘রূপসী বাংলা’ উদ্বোধন হলো ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’ নামে। বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হোটেলটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর তিনি হোটেলের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে সারা বিশ্বের সাংবাদিকরা এই হোটেলে অবস্থান করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর সাংবাদিকরা এখানে সমবেত হন সংবাদ সংগ্রহের জন্য। জুলফিকার আলী ভুট্টো এই হোটেলে এসেছিলেন এবং এখান থেকে ২৫ মার্চ গণহত্যার নির্দেশ দেন। এসব দিক থেকে এই হোটেলটি অনেক স্মৃতি বহন করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় এই হোটেলে যে সাংবাদিকরা ছিলেন তাদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া হতো। সেখানে তাদের আটকে রাখা হতো। সায়মন ড্রিং একমাত্র সাংবাদিক যিনি সেখান থেকে বেরিয়ে ২৫ মার্চের গণহত্যার তথ্য সারা পৃথিবীকে জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় এই হোটেলে দুবার হামলা করা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের দিক থেকে হোটেলটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে হোটেলটির অবস্থানগত সুবিধার কারণে।

১৯৬৬ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিলো এ দেশের প্রথম পাঁচ তারকা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের। স্থপতি উইলিয়াম বি ট্যাবলারের চমৎকার নকশার এ হোটেলটি আজও চমৎকার স্থাপত্য শিল্পের নিদর্শন। এটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল নামেই চলে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত। এরপর স্টারউড কোম্পানির সাথে চুক্তি হওয়ায় ১৯৮৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ঢাকা শেরাটন হোটেল নামে এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলে।

শেরাটনের সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ‘রূপসী বাংলা হোটেল’ নামে এটি পরিচালিত হয়। ২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি হোটেলটির মালিক কোম্পানি বাংলাদেশ সার্ভিস লিমিটেড ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপ (এশিয়া প্যাসিফিক) প্রাইভেট লিমিটেডের (আইএইজি) সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে বন্ধের পর ২০১৫ সালের মার্চে সংস্কারকাজ শুরু হয়।

রূপসী বাংলা হোটেলে কক্ষ ছিল ছোট-বড় মিলিয়ে ২৭২টি। সংস্কারের পর করে সংখ্যা কমে ২৩১টিতে দাঁড়িয়েছে। আয়তনের দিক থেকে কক্ষের আকার দাঁড়িয়েছে ২৬ থেকে ৪০ স্কয়ার মিটার। বিশ্বমানের অতিথি সেবা নিশ্চিত করতে পরিবর্তন করা হয়েছে সুইমিং পুল ও ডাইনিং হলের স্থান। এর আগে হোটেলটির বলরুম ছিল একদিকে, উইন্টার গার্ডেন নামে সবচেয়ে বড় হলরুমের অবস্থান ছিল আরেক দিকে। এখন দুটি এক করে দেয়া হয়েছে। হোটেলটির মূল ফটকও সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ভেতরের সুইমিং পুলটিও স্থানান্তর করে সাজানো হয়েছে নতুন করে। গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় নিয়ে বাড়ানো হয়েছে সুযোগ-সুবিধা। সংস্কার কাজে প্রায় ৬২০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

১৯৭১’র ২৫ মার্চের কালোরাতে জীবন বাজি রেখে ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যার ছবি ধারণ করেছিলেন হোটেলে অবস্থানরত বিবিসির বিখ্যাত সাংবাদিক মার্ক টালি ও সাইমন ড্রিং, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) পাকিস্তান ব্যুরোর প্রধান আর্নল্ড জেইটলিন, ক্লেয়ার হলিংওর্থ, ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদক ডেভিড গ্রিনওয়ে। এসব ছবির মাধ্যমে বিশ্ব জানতে পেরেছিলো বাংলাদেশ কী নৃশংসতার স্বীকার হয়েছে।

খবরটি শেয়ার করুন..








© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com

Desing & Developed BY W3Space.net