September 21, 2018, 5:54 pm

শিরোনাম :
চুনারুঘাটে সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ দুদকের তদন্ত শুরু, বেরিয়ে আসছে অজানা কাহিনী সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে নবাগত পুলিশ সুপার হবিগঞ্জকে সুশৃংখল জেলায় রূপান্তর করতে সক্ষম হব আইসিবির ৫ কর্মকর্তাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে ১২ মামলা ‘সরকারের চাপে পদত্যাগ ও নির্বাসিত হতে বাধ্য হয়েছি’ আপত্তি সত্বেও সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কারও মান-অভিমান ভাঙানোর ইচ্ছে নেই: প্রধানমন্ত্রী সাভারে পুলিশ সোর্স নয়নকে পিটিয়ে হাত-পা ভাঙ্গলো সন্ত্রাসীরা শ্রীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ প্রতিবন্ধী কোটা রাখতে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ



৫২ বছরে ৬৬ হাজার হেক্টর জমি পদ্মায় বিলীন

৫২ বছরে ৬৬ হাজার হেক্টর জমি পদ্মায় বিলীন






১৯৬৭ সাল থেকে পদ্মা নদীর ভাঙনে ৬৬ হাজার হেক্টরের (২৫৬ বর্গমাইল) বেশি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। যা অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহরগুলোর একটি-শিকাগোর সমান। ২০১৮ সালের আগস্টের শেষে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র-নাসা আর্থ অরজারভেটরি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

কাসা প্যাটেল’র করা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনের দু’টি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত এটি প্রাকৃতিক, মুক্ত প্রবাহিত নদী সুরক্ষার তেমন ব্যবস্থা নেই। দ্বিতীয়ত নদীর তীরে একটি বড় বালুচর রয়েছে যা দ্রুতই ভেঙে যেতে পারে।

বিজ্ঞানীরা স্যাটেলাইট ছবিতে পদ্মা নদীর প্রস্থ, গভীরতা, গঠন এবং সামগ্রীক আকার পার্থক্য উল্লেখ করে ভাঙন পরিমাপ করে। নাসার ‘ভাঙনের আকৃতি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে প্রাকৃতিক-রঙের স্যাটেলাইট ছবিগুলোর সাথে ১৯৮৮ সাল থেকে পদ্মার আকৃতি এবং প্রস্থের পরিবর্তনগুলো তুলনা করেছে।

বহু বছর ধরে, গবেষকরা নদীর বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করেছে। প্রত্যেক ‘টুয়িস্ট এন্ড জিগজ্যাক’ স্যাটেলাইট ছবি নদীর একটি ভিন্ন কাহিনী তুলে ধরছে। নাসার ল্যান্ডস্যাট স্যাটেলাইট থেকে ধারণকৃত ছবিগুলো শুষ্ক মৌসুমে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে তোলা হয়েছে।

নদীর নিচে পলি মাটি বিভিন্ন উৎস থেকে আসতে পারে। এক তত্ত্বমতে, কিছু পলিমাটি ১৯৫০ সালে সৃষ্ট ভূমিকম্পের ফলে ভূমিধসের অবশিষ্টাংশ। গবেষকরা মনে করেন, এসব বালির মতো ক্ষুদ্র উপাদান নদীর মধ্য দিয়ে অর্ধ শতাব্দী ধরে সৃষ্টি হয়েছে।

প্যাটেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন দশক ধরে পদ্মা নদী তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ, সোজাসুজি অবস্থান পরিবর্তন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আঁকাবাঁকা হয়ে গেছে। স্যাটেলাইট ছবিতে, সবচেয়ে লক্ষণীয় পরিবর্তন হয়েছে হরিরামপুর উপজেলার অঞ্চলের নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে, যেখানে সবচেয়ে বেশি ভাঙন হয়েছে। ১৯৯৮ সালে ভারতে ফারাক্কা বাঁধ উদ্বোধনের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে বন্যা দেখা দেয়, যা বাংলাদেশে আরো বেশি পানি ঢুকে পড়ে।

এর আগে, ‘চর জানাজাতের’ কাছে জায়গা-জমি ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৯৫-৯৬ সাল থেকে নদীর রেখাচিত্র তীব্রভাবে বেঁকে যায়। বক্ররেখাটি ১৯৯২ সাল থেকে বিকশিত হতে শুরু করে, ২০০২ সালে পতন শুরু হয়, এবং এরপর থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়।

নাসা আর্থ অবজারভেটরির অ্যানিমেশনটির মাধ্যমে ১৪টি রঙিন স্যাটেলাইট ছবির মাধ্যমে ১৯৮৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে পদ্মা নদী কিভাবে তার আকৃতি ও পথ পরিবর্তন করেছে তা দেখানো হয়েছে।

পদ্মা সেতু নির্মাণের কথা এবং নদী ভাঙনের ফলে এটি কিভাবে প্রভাবিত হতে পারে সেদিকটিও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নির্মাণ প্রকল্পগুলির একটি পদ্মা নদীর সেতু। যা দেশের পূর্ব ও পশ্চিমাংশের সাথে সংযোগ স্থাপন করবে। এর ফলে দেশের পূর্ব ও পশ্চিমের সাথে সরাসরি যোগাযোগে ভ্রমণের সময় ১৩ থেকে ৩ ঘন্টায় কমে আসবে।

অবশ্য পদ্মা সেতু নির্মাণে নদীর ভাঙন কিছু হুমকি সৃষ্টি করতে পারে এমন উদ্বেগের কথা রয়েছে। যদিও কিছু গবেষকরা আশা করছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে জমি প্রকৃতপক্ষে স্থির হতে পারে এবং এটি শেষ হওয়ার পর নদী ভাঙন হ্রাস পেতে পারে।

খবরটি শেয়ার করুন..


Loading…






© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com