রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন



আইসিবির ৫ কর্মকর্তাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে ১২ মামলা

আইসিবির ৫ কর্মকর্তাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে ১২ মামলা



শেয়ারবাজারে জালিয়াতির মাধ্যমে ৬৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) পাঁচ কর্মকর্তাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কশিমন (দুদক)। গত সোমবার দুদকের সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় মামলাগুলো করেন।

মামলায় ২০০৯, ২০১০ ও ২০১১ সালে শেয়ার কারসাজি করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ৬৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে এ ১৫ জনের বিরুদ্ধে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারে জালিয়াতির মাধ্যমে ৩ কোটি ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর রমনা থানায় দুদক অপর একটি মামলা করে। ওই মামলায় আইসিবির ৫ কর্মকর্তাসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়।

মামলা দায়েরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আইসিবির সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) টিপু সুলতান ফারাজি, আইসিবির সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. এহিয়া মণ্ডল ও আইএফআইসি ব্যাংকের পল্লবী শাখার ব্যবস্থাপক মো. আবদুস সামাদকে গ্রেফতার করা হয়। তারা বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন। দায়েরকৃত ১২টি মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন, আইসিবির সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক টিপু সুলতান ফারাজি, আইসিবির সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. এহিয়া মণ্ডল, আইসিবির সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. শরিকুল আনাম, মো. শামসুল আলম আকন্দ ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ধনঞ্জয় কুমার মজুমদার, আইএফআইসি ব্যাংকের পল্লবী শাখার ব্যবস্থাপক মো. আবদুস সামাদ ও তার স্ত্রী নাসিমা আক্তার, আইসিবির গ্রাহক একেএম রেজাউল হক ও তার স্ত্রী পাপিয়া সুলতানা, গ্রাহক লাইলা নুর, একেএম আতিকুজ্জামান, কাজী মাহমুদুল হাসান, শেখ মেসবাহ উদ্দিন ও তার স্ত্রী সীমা আক্তার, মিসেস বুলবুল আক্তার। গত বৃহস্পতিবার দুদকের দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতারকৃত ৩ জন ছাড়া অপর তিন আসামি হলেন, আইসিবির সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. শরিকুল আনাম, মো. শামসুল আলম আকন্দ ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ধনঞ্জয় কুমার মজুমদার। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২০০৯, ২০১০ ও ২০১১ সালের শেয়ারবাজারে কারসাজি করে ৬৫ কোটি ৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯০৭ টাকা আত্মসাত্সহ বিশ্বাস ভঙ্গ করায় দণ্ড বিধির ৪০৯, ৪২০, ১০৯ ও দুদক আইন ৫(২) ধারায় অপরাধ করেছেন। দুদক সূত্র জানায়, ২০০৮ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে শেয়ারের দাম ক্রমাগত অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। তখন আইসিবির সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের (আইএসটিসিএল) কিছু কর্মকর্তা গ্রাহককে অনিয়মের মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগ করে দিয়ে অর্থ আত্মসাত্ করে। এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছরের শেষ দিকে এ সংক্রান্ত অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। দীর্ঘ অনুসন্ধানে এ ঘটনায় আইসিবির বেশ কিছু কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণসহ টাকা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পায় দুদক। সম্প্রতি এ অনুসন্ধান প্রতিবেদন কমিশনে জমা হলে কমিশন যাচাই-বাছাই করে মোট ১৩টি মামলা অনুমোদন দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১২ মামলা এবং গত ৩০ আগস্ট অপর একটি মামলাসহ ১৩টি মামলা দায়ের করা হয়।

খবরটি শেয়ার করুন..








© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com
Desing & Developed BY W3Space.net