শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০১:১৯ অপরাহ্ন



ফেসবুকে কী লিখবেন কী লিখবেন না: এস কে দোয়েল

ফেসবুকে কী লিখবেন কী লিখবেন না: এস কে দোয়েল



সময়ের দ্রুতগতির ও শক্তিশালী যোগাযোগমাধ্যম আজ তথ্যপ্রযুক্তি। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে মানুষ প্রতিমুহুর্তে জানতে পারছে বিশ্বের সকল খবরাখবর। এর সাথে যুক্ত হয়েছে সোস্যাল নেটওয়ার্ক কমিউনিকেশন। যার ফলে মানুষ তার যাপিত জীবনের ঘটে যাওয়া খন্ডখন্ড চিত্র-ঘটনাগুলো অতি সহজে শেয়ার করতে পারছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে। সোস্যাল নেটওয়ার্ক হিসেবে সারাবিশ্বের মানুষ আজ ফেসবুক, টুইটার, ইনস্ট্রাগ্রাম, লিংকডিন, হোয়াটঅ্যাপস, ইমো, শেয়ারচ্যাটের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো জেনে ও ব্যবহার করে আসছে। এসব সোস্যাল নেটওয়ার্কের মধ্যে ফেসবুকই হচ্ছে সর্বাধিক পরিচিত। সারাবিশ্বের একশো কোটিরও বেশি মানুষ ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক তথা ফেসবুক ব্যবহার করে। চলতি সালে এর সংখ্যা ৩শ কোটিতে পৌছবে এরকম বলা হয়েছে। তাই নীল চোখের এই ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক কেউ জেনে বুঝে ব্যবহার করছে, কেউ না জেনে ব্যবহার করে। ফেসবুক এখন শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নয়, এটা আজ বিশাল সংবাদ ও বিজ্ঞাপন মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ২০০৪ সালে সর্বপ্রথম ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করে মার্ক জুকারবার্গ। ধীরে ধীরে কমিউনিকেশন বাড়তে থাকলেও ২০১১ সালের হাতে হাতে মোবাইল আসায় ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠে এই ফেসবুক। এরপর হাতে হাতে স্মার্টফোন চলে আসায় ফেসবুকের অবস্থান এখন শক্তিশালী।

যা লিখবেনঃ
ফেসবুক যেহেতু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি থাকলে যেকোন তথ্য অতিদ্রুত শেয়ার করা যায়, তাই ভাবতে হবে আপনার ফেসবুকের একটি পোস্ট কতোটা গুরুত্ব বহন করতে পারে। অনেকে মনে করতে পারেন, ফেসবুকে যা ইচ্ছে তাই তো লেখা যায়। আমার অনুভূতি, আমার ঘুরাফেরা, আমার চোখের সামনে যেকোন ঘটনা তো ফেসবুকে শেয়ার করতেই পারি। এতে দোষের কী আছে? আপনার ভাবনা স্বাধীন হলেও ফেসবুক কিন্তু আপনাকে পোস্টের স্বাধীনতা দিলেও পরে আপনার শেয়ারকৃত পোস্টটি নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ জটিলতার দূর্ভোগ আপনাকেই ভোগ করতে হবে। এমনো হতে পারে এর দহনশীল দূর্ভোগ আপনার পরিবারও পেতে পারে।

কিভাবে লিখবেন :
কোথাও ঘুরতে গিয়েছেন, সেখানকার অনুভূতি প্রকাশ করতে পারেন। অচেনা-অজানাকে জানাতে পারেন। চোখের সামনে দূর্ঘটনা ঘটে, সে দূর্ঘটনার সংবাদ, আনন্দ সংবাদ, সাফল্য, শিক্ষামূলক, উন্নয়নসহ জনকল্যাণমূলক পোস্ট আপনি দিতে পারেন। তবে আপনি যদি অপরাধ বিষয়ক কোন পোস্ট করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে সেই অপরাধের সত্যতা জানতে হবে। তথ্য-প্রমান থাকতে হবে। তবে আপনি যদি সংবাদমাধ্যমের কোন ফেসবুক ইউজার হোন, তাহলে সেই অপরাধের সংবাদটি প্রথমত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর তা ফেসবুকে শেয়ার করতে পারেন। একটা কথা মনে রাখতে হবে, ফেসবুকে একটি পোস্ট মানেই সেটি মুহুর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এটার রিফেক্ট বেশি হয়ে থাকে। তাই সাধারণ ফেসবুক ব্যবহারকারী হিসেবে সচেতনতা থাকতে হবে লেখার মধ্যে যেন অপ্রাসঙ্গিকতা না থাকে। লেখাটি যেন সবার দৃষ্টিগোচরের মধ্যে শিক্ষামূলক, উন্নয়নমূলক এবং সবার কাছে আপনার ব্যক্তিত্বটুকু যেন বিকশিত হয়ে সম্মানজনক হয়।

যা লিখবেন নাঃ
ফেসবুকে যেমন আপনার লেখার স্বাধীনতা রয়েছে, তেমনি এমন কিছু না লেখারও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কারণ ফেসবুক কর্তৃপক্ষ চান না তার কোন ইউজার পোস্ট করে বিপদে পড়ুক। শুধু ফেসবুক কেন, কেউ চান না আপনি বিপদে পড়ুন। কারণ আপনার একটি পোস্ট বা লেখা সর্বাধিক মানুষের যেমন উপকার হতে পারে, আবার তার বিপরীতে চরম বিপদও ডেকে আনতে পারে। রাষ্ট্র ও সরকার বিরোধী, কুটুক্তি, নগ্ন ছবি প্রকাশ, ব্যক্তিগত আক্রোশ, আবেগতাড়িত কোন পোস্ট, মিথ্যা প্ররোচনা, তথ্য বিম্ভ্রাট জাতীয় কোন পোস্ট ফেসবুকে শেয়ার করবেন না।

সতর্ক থাকতে অনুভূতি প্রকাশেঃ
হয়তো মনে হতে পারে ফেসবুকে আবার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কেন সতর্ক থাকতে হবে? প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে আইন রয়েছে। সাইবার ক্রাইম সম্পর্কে যেমন ধারণা থাকতে হবে, তেমনি তথ্যপ্রযুক্তি আইন সম্পর্কেও আপনাকে প্রাথমিক ধারণা থাকতে হবে। তা নাহলে আপনাকে যেকোন সময় বিপদে পড়তে হতে পারে। ফেসবুকে যে আপনি কমেন্ট, লাইক, শেয়ার, রিয়েক্ট বাটন ব্যবহার করে নিজের ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করছেন। এ বিষয়ে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। কেননা, অন্যের পোস্টে কমেন্ট, লাইক, শেয়ার ও রিয়েক্ট এর মাধ্যমে আপনার রূচিবোধ ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায়। কোন ধরণের পোস্ট বা লেখা আপনি পছন্দ করেন। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, কোন বিতর্কিত পোস্ট আপনি লাইক,শেয়ার কিংবা রিয়েক্ট দিয়ে সমর্থন করলেন। এই পোস্টের সমর্থণের কারণেও আপনার বিপদ ডেকে আনতে পারে।

অসতর্কতায় ফেঁসে যেতে পারেন সাইবার অপরাধেঃ
ফেসবুকে মানহানিকর বা বিভ্রান্তিমূলক কিছু পোস্ট করলে, ছবি বা ভিডিও আপলোড করলে, কারও নামে একাউন্ট খুলে বিভ্রান্তমূলক পোস্ট দিলে, কোন স্টেটাস দিলে কিংবা শেয়ার বা লাইক দিলেও সাইবার অপরাধে ফেঁসে যেতে পারেন। আবার মেসেঞ্জারে মেসেজ, ভিডিও কল, অডিও কলে অশালীন বাক্যালাপ, হুমকি, দেশবিরোধী কোন কিছু করলে, ভাইরাস ছড়ালে সাইবার অপরাধ হতে পারে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৩)-এর ৫৭ ধারায় বলা আছে, কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইট বা অন্য কোন ইলেকট্রনিক বিন্যাসে কোন মিথ্যা, বা অশ্লীল কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, যার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃংখলার অবনতি হয় অথবা রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়, তাহলে সাইবার বা তথ্যপ্রযুক্তি আইনে অভিযুক্ত হবে। যার শাস্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছর এবং সর্বনিম্ন ৭ বছর এবং ১ কোটি টাকা পর্যন্ট জরিমানা দিতে হবে।

কী করবেন সাইবার অপরাধে ফেঁসে গেলে
আপনি যদি সাইবার অপরাধে গুরুতর শিকার হন এবং এর প্রতিকার চান তাহলে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আশ্রয় নিতে হবে আপনাকে। এ জন্য আপনাকে আপনার নিকটস্থ থানায় এজাহার/জিডি দায়ের করতে পারেন। আপনার ফেসবুক একাউন্ট কেউ হ্যাক করলে, ফেসবুক কিংবা অন্যকোন মাধ্যমে হ্যাক হলে এবং আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করলে কিংবা অন্য কোন অপরাধের শিকার হলে দেরি না করে নিকটস্থ থানায় জানিয়ে রাখতে হবে। যদি সাইবার অপরাধের অভিযোগে মিথ্যাভাবে ফেঁসে যান, তাহলে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বুঝিয়ে বলতে হবে আপনি পরিস্থিতির শিকার। যদি আদালতে আপনাকে প্রেরণ করা হয় তাহলে নিজেকে নির্দোষ পমাণের চেষ্টা করে যেতে হবে। # ০১.১০.১৮

এস কে দোয়েল
সাংবাদিক, কলামিস্ট ও সাহিত্যিক
এবং প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান
মোবাইল জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (মোজাব)।

খবরটি শেয়ার করুন..








© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com

Desing & Developed BY W3Space.net