সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:৪০ অপরাহ্ন



সাধারণ শসার অসাধারণ ১৫টি গুণ

সাধারণ শসার অসাধারণ ১৫টি গুণ



লাইফস্টাইল ডেস্ক : শসা আমাদের দেহের বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ অপসারণে দারুণ কাজ করে। নিয়মিত শসা খেলে দুর্গন্ধযুক্ত সংক্রমণ আক্রান্ত মাড়ির চিকিত্‍সায় কোন চিন্তা করার প্রয়োজন হবে না। গোল করে কাটা এক স্লাইস শসা জিহ্বার ওপরে রেখে সেটি টাকরার সঙ্গে চাপ দিয়ে আধ মিনিট রাখুন। শনার সাইটোকেমিক্যাল এর মধ্যে বিশেষ বিক্রিয়া ঘটিয়ে আপনার মুখের জীবাণু ধ্বংস করবে। সজীব হয়ে উঠবে আপনার নিঃশ্বাস।

ভিটামিনের চাহিদা পূরণে: প্রতিদিন আমাদের শরীরে যেসব ভিটামিনের প্রয়োজন, তার বেশির ভাগই শসার মধ্যে বিদ্যমান। ভিটামিন এ, বি ও সি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শক্তি বাড়ায়।

ক্যানসার প্রতিরোধে: শসায় সিকোইসোলারিসিরেসিনোল, ল্যারিসিরেসিনোল ও পিনোরেসিনোল নামে তিনটি আয়ুর্বেদিক উপাদান আছে। জরায়ু, স্তন ও মূত্রগ্রন্থিসহ বিভিন্ন স্থানে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে এই তিন উপাদানের জোরালো সম্পর্ক রয়েছে।

হজম ও ওজনহ্রাসে সহায়ক: শসায় উচ্চমাত্রায় জল ও নিম্নমাত্রার ক্যালরিযুক্ত উপাদান রয়েছে। ফলে যারা দেহের ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য শসা আদর্শ টনিক হিসেবে কাজ করে। কাঁচা শসা চিবিয়ে খেলে তা হজমে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। নিয়মিত শসা খেলে দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠ-কাঠিন্য দূর হয়।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে: শসা বা শসার রস ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, শসায় থাকা স্টেরল নামক উপাদান রক্তের কোলেস্টরলের আধিক্য কমাতে ভূমিকা রাখে

জলশূন্যতা দূর করণে: জলের তৃষ্ণা মেটাতে শসা খুবই কার্যকরী। একটি শসা প্রায় ৯০ শতাংশ জল ধারণ করায় খুব দ্রুত আপনাকে সতেজ করে তুলতে পারে। দেহের দুর্বলতা কাটিয়ে করতে পারে প্রাণবন্ত।

গেঁটেবাত থেকে মুক্তিতে: শসায় প্রচুর পরিমাণে সিলিকা আছে। গাজরের রসের সঙ্গে শসার রস মিশিয়ে খেলে দেহের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নেমে আসে। এতে গেঁটেবাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে: শসা একটি প্রাকৃতিক সবজি। আমরা কত সবজিই তো কাঁচা খাই, সুতরাং এটা খেতেও সমস্যা নেই। এই সরবত খাওয়ার ফলে মস্তিস্কসহ ধমনীতে জমে থাকা প্রচুর এল ডি এল তথা আণবিক ওজন অপসারণের কাজ করে। এর ফলে ব্যক্তির স্মৃতিশক্তিও বৃদ্ধি পায়। শসার আঁশ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রনের সাথে সাথে কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময় করতে সাহায্য করে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে: শসায় আছে ভিটামিন সি, সিলিকা, পটাসিয়াম, ম্যাগনিসিয়াম ও খাবার উপযোগী আঁশ। বিদ্যমান এসব উপাদান শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া শসায় আছে স্টেরল নামের একধরণের উপাদান, যা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

মাথাব্যথা দূর করণে: সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকের মাথাব্যথা করার অভ্যাস আছে। শরীর অবসাদ ভাব আসে। শসায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি ও সুগার আছে। তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে কয়েক স্লাইস শসা খেয়ে নিলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এ সমস্যা থাকে না।

চুল ও নখের সুস্থতাই: শসায় থাকা খনিজ সিলিকা আমাদের চুল ও নখকে সতেজ ও শক্তিশালী করে তোলে। এ ছাড়া শসার সালফার ও সিলিকা চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

কিডনির সৃষ্ট পাথর দূর করণে : শসার মধ্যে যে জল থাকে তা আমাদের দেহের বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ অপসারণে অনেকটা অদৃশ্য ঝাড়-র মতো কাজ করে। নিয়মিত শসা খেলে কিডনিতে সৃষ্ট পাথরও গলে যায়।

দেহ কলা উন্নয়নে: ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্যও শসা খুব ভলো কাজ করে। শসায় উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম ম্যাগনেশিয়াম ও সিলিকন আছে যা ত্বকের পরিচর্যায় বিশেষ ভূমিকা রাখে। ত্বক পরিস্কার রাখতে শসার স্লাইস, জুস প্রভৃতি বেশ কাজে দেয়।

চোখের যত্নে: সৌন্দর্য চর্চার অংশ হিসেবে অনেকে শসা গোল করে কেটে চোখের পাতায় বসিয়ে রাখেন। এতে চোখের পাতায় জমে থাকা ময়লা যেমন অপসারিত হয়, তেমনি চোখের জ্যোতি বাড়াতেও কাজ করে। এমনকি চোখের প্রদাহ প্রতিরোধক উপাদান প্রচুর পরিমাণে থাকায় ছানি পড়া, জরায়ু, স্তন ও মূত্রগ্রন্থিসহ বিভিন্ন স্থানে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমাতে শসা কাজ করে।

রূপচর্চায় শসা: সুলভ ও সহজলভ্য এই সবজিটির ব্যবহার শুধু খাবার টেবিলে স্যালাটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি শসা আমাদের ত্বক এবং চুলের জন্যও সমানভাবে উপকারী। রূপসচেতন নারীদের ডায়েট চার্টে শসা প্রধানতম উপাদান। এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী রূপচর্চার পার্লারগুলোতে শসা অন্যতম প্রধান উপাদান হিসাবে বিবেচিত।

খবরটি শেয়ার করুন..








© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com
Desing & Developed BY W3Space.net
Veritabanına bağlantı sağlanamadı