শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০১:১৮ অপরাহ্ন



গ্রামীণফোনের ৬৫০ কর্মীর চাকরি থাকছে না!

গ্রামীণফোনের ৬৫০ কর্মীর চাকরি থাকছে না!



মোবাইলফোন অপারেটর গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ তাদের প্রযুক্তি বিভাগকে (টেকনোলজি) ম্যানেজড সার্ভিসে (তৃতীয় কোনও পক্ষ তথা প্রতিষ্ঠানকে) দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এজন্য তারা সম্প্রতি ঘোষণা করেছে ‘কমন ডেলিভারি সেন্টার’ প্রকল্পের নাম।

আর এই প্রকল্প নিয়েই শঙ্কা তৈরি হয়েছে গ্রামীণফোনের প্রযুক্তি বিভাগের ছয় শতাধিক কর্মীর। তাদের আশঙ্কা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে কর্মীদের চাকরি থাকবে না। এ আশঙ্কা থেকে গ্রামীণফোনের প্রযুক্তি বিভাগের পাঁচ শতাধিক কর্মী গত ৫ অক্টোবর রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে দিনভর প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। বর্তমানে অপারেটরটির প্রযুক্তি বিভাগে ৬৫৪ জন কর্মী কাজ করছেন।

কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে বিস্তারিত জানিয়ে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিতে স্মারকলিপি দেবেন তারা। ওই স্মারকলিপিতে ‘কমন ডেলিভারি সেন্টার’ প্রকল্প চালু হলে কর্মীদের ও দেশের ক্ষতি, সরকারের রাজস্ব আয় কমে যাওয়াসহ অন্যান্য বিষয় তুলে ধরা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কোনও অপারেটর ম্যানেজড সার্ভিস চালু করতে গেলে আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে অনুমোদন নিতে হয়।

এ বিষয়ে গ্রামীণফোন এক বিবৃতিতে বলেছে, গ্রামীণফোনের অত্যাধুনিক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা এবং এ সম্পর্কিত প্রক্রিয়া উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন উপায় বিবেচনা করা হচ্ছে। আমাদের সর্বোন্নত নেটওয়ার্ক এবং সর্বোন্নত গ্রাহকসেবা নিশ্চিতকরণে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কৌশলগত উদ্যোগটি সব সময় পরিবর্তনশীল, বৈশ্বিক ব্যবসায় ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে এটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাব পড়তে পারে, এমন কোনও সিদ্ধান্তই গৃহীত হয়নি। গ্রামীণফোন সবসময়ই তার কর্মীদের প্রতি দায়িত্বশীল।

জানা গেছে, গ্রামীণফোনে দুটি ইউনিয়ন রয়েছে। একটি এম্লয়িজ ইউনিয়ন, অন্যটি জেনারেল এম্লয়িজ ইউনিয়ন। সমাবেশে দুই ইউনিয়নের সদস্যরাই উপস্থিত হয়ে সংস্থাটির নতুন উদ্যোগের বিরোধিতা করেন। প্রযুক্তি বিভাগের একাধিক কর্মী বলছেন, প্রযুক্তি সেকশন বন্ধ করে সেই দায়িত্ব এরিকসন, নকিয়া সিমেন্স বা হুয়াওয়ের মতো কোনও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে দিতে চায় গ্রামীণফোন। এখন সেই প্রক্রিয়া চলছে। বিডিং প্রক্রিয়া শেষ হলে এর যেকোনও একটি প্রতিষ্ঠান পাবে গ্রামীণফোনের প্রযুক্তি বিভাগ দেখভালের দায়িত্ব। এই দায়িত্ব অন্যদের দেওয়া হলে গ্রামীণফোনের প্রযুক্তি শাখায় কোনও কর্মী রাখার প্রয়োজন হবে না। ফলে কর্মীদের চাকরি হারাতেই হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) গ্রামীণফোন ‘কমন ডেলিভারি সেন্টার’ প্রকল্পের জন্য আরএফকিউ (রিকোয়েস্ট ফর কোটেশন) আহ্বান করেছে।

গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি ও প্রযুক্তি বিভাগের লিড স্পেশালিস্ট মনজুরুদ্দৌলা জানান, বলা হচ্ছে নতুন যে প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব নেবে, আমাদের চাকরি ওখানে চলে যাবে। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন হলো— ওরা যে আমাদের ছাঁটাই করবে না, এই নিশ্চয়তা কে দেবে।

জানা গেছে, গ্রামীণফোন চেষ্টা করছে, যে প্রতিষ্ঠান তাদের প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব নেবে তারা দুই এক বছরের মধ্যে কোনও কর্মীকে ছাঁটাই করতে পারবে না।

এমন তথ্যেও সংগঠনটির সভাপতি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে এই ধরনের উদ্যোগের উদাহারণ ভালো নয়।

একটি প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের চাকরি আরেকটি প্রতিষ্ঠানে গেলে সেখানে কর্মীরা ৫-৬ মাসের বেশি টিকতে পারেনি। ফলে আমাদের বিষয়টাও যে এমনই হবে— তা নিশ্চিত করে বলা যায়।

মনজুরুদ্দৌলা আরও বলেন, ‘প্রকল্প (সিডিসি) চালু হতে মাস তিনেক লেগে যেতে পারে। এই হিসেবে ধরে নিতে পারি আগামী জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে আমাদের ওপর একটা চাপ আসতে পারে। আমরা আশঙ্কা করছি, সেসময় আমাদের বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ অফার করা হবে চাকরি ছাড়ার জন্য। যারা সুবিধা নেবে তাদেরকে প্যাকেজ সুবিধা দিয়ে বিদায় করে দেওয়া হবে। আর যারা থেকে যাবে তাদেরকে হয়তো ম্যানেজড সার্ভিস কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

তিনি আর জানান, গ্রামীণফোন এখন যে লাভজনক অবস্থায় রয়েছে, তাতে করে কর্মী ছাঁটাইয়ের জন্য আইনগত যত পদ্ধতি আছে, তার কোনোটাই প্রয়োগ করতে পারবে না।

এক প্রশ্নের জবাবে মনজুরুদ্দৌলা বলেন, ‘প্রযুক্তি বিভাগে যেসব কর্মী রয়েছেন, তাদের চাকরির বয়স ১০-১৪ বছরের। এই বয়সে এসে চাকরি হারালে কোথায় তারা চাকরি পাবেন’ প্রশ্ন করেন তিনি। তাদের চাওয়া হলো— গ্রামীণফোনে চাকরির নিশ্চয়তা এবং সিডিসি প্রকল্প বন্ধর ঘোষণা।

তিনি বলেন, ‘চাকরির সময় আমরা গ্রামীণফোনকে পছন্দ করেছি। অন্যকোনও কোম্পানিতে যাওয়ার কোনও ইচ্ছা আমাদের নেই। অন্য কোম্পানিতে গেলে তো আমরা গ্রামীণফোনের সুযোগ সুবিধা পাবো না, কর্মীও থাকবো না। আর অন্য কোম্পানিতে গেলে ৫-৬ মাসের বেশি আমাদের কারও চাকরি থাকবে না। এরকম কোনও অনিশ্চয়তার মধ্যে আমরা যেতে চাই না।’

গ্রামীণফোনের প্রযুক্তি বিভাগের কর্মীরা বলছেন, এর আগে গ্রামীণফোন তার কাস্টমার কেয়ার ও কলসেন্টার ম্যানেজড সার্ভিসের মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষকে দেওয়া গ্রাহকসেবার মান খারাপ হয়েছে।

জানা যায়, সিটিসেল কর্তৃপক্ষ তাদের প্রযুক্তি বিভাগ ম্যানেজড সার্ভিসের জন্য হুয়াওয়েকে দিয়েছিল। শর্ত ছিল সিটিসেল থেকে যাওয়া কোনও কর্মীকে তিন বছরের মধ্যে ছাঁটাই করা যাবে না। কিন্তু হুয়াওয়ে সেই শর্ত রাখেনি। এক বছরের মধ্যেই কর্মীদের বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ছাঁটাই করে দেয়। গ্রামীণফোনের প্রযুক্তি বিভাগের কর্মীরাও এই আশঙ্কাটাই করছেন।

খবরটি শেয়ার করুন..








© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com

Desing & Developed BY W3Space.net