রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:৩১ অপরাহ্ন



চুল পাতলা হওয়ার জন্য দায়ী ১০ অভ্যাস?

চুল পাতলা হওয়ার জন্য দায়ী ১০ অভ্যাস?



লাইফস্টাইল ডেস্ক : চুল পড়া, খুশকি বা উকুন ছাড়াও চুলের বড় একটি সমস্যা হলো চুল পাতলা হয়ে যাওয়া। অনেকেই ভাবেন বয়সের সাথে প্রাকৃতিকভাবেই চুল পাতলা হচ্ছে। আসলে কিন্তু আপনার নিজেরই কিছু অভ্যাসের কারণে চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে।

১। বেশি বা কম শ্যাম্পু করা: মাথার তালু ও ত্বকের জন্য শ্যাম্পু করাটা জরুরী। মাথার তালু শরীরের অন্য জায়গার ত্বকের মতোই পরিষ্কার রাখা উচিত। সপ্তাহে কতবার শ্যাম্পু করবেন তা প্রত্যেকের জীবনচর্চা, ত্বকের ধরণ- এসবের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু একদিন পর পর অন্তত শ্যাম্পু করাই উচিত। নয়তো তালুতে তেল ও ময়লা জমে যায়, হতে পারে সেবোরিক ডার্মাটাইটিসের মতো সমস্যা। এ কারণে চুল পড়ে পাতলা হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে খুব ঘন ঘন শ্যামপু করাটাও ঠিক নয়। যাদের চুল ইতোমধ্যেই শুষ্ক এবং ভঙ্গুর, ঘন ঘন শ্যাম্পু করলে তাদের চুল পড়া বাড়তে পারে। তারা শ্যাম্পু কম করতে পারেন এবং ভালো মানের ময়েশ্চারাইজিং শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন।

২। চুলের সাথে রুক্ষ্ম আচরণ: শুনে হাসি আসতে পারে। তবে যাই করুন না কেন, চুল আঁচড়ানো, শ্যাম্পু করা বা চুল শুকানো- সব সময়েই সতর্ক থাকা উচিত এবং তাড়াহুড়া বর্জন করা উচিত। এ সময়ে চুল জোরে জোরে ঘষা বা টানাটানি করা উচিত নয়। অনেকে ভাবেন রাত্রে ঘুমানোর আগে চুল আঁচড়ানো স্বাস্থ্যকর। সেটাও উচিত নয়। দরকার ছাড়া চুল আঁচড়াবেন না। অনেকেই আনমনে চুল টানেন, মাথা চুলকান বা চুলের আগা আঙ্গুলে পেচাতে থাকেন। এসব কাজে চুলের ক্ষতি হয়।

৩। স্বাস্থ্যকর খাবার না খাওয়া: চুল ভালো রাখার জন্য সবচেয়ে উপকারী ডায়েট হলো মেডিটেরানিয়ান ডায়েট। অর্থাত্‍ আপনাকে খেতে হবে লিন প্রোটিন (যেমন মুরগীর মাংস ও মাছ), বাদাম, শাকসবজি, ফল, হোল গ্রেইন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। আপনি সঠিক খাবার না খেলে চুলে যাই মাখুন না কেন, উপকার পাবেন না। অনেকেরই চুল পাতলা হয়ে যায় আয়রনের অভাবে। সেক্ষেত্রে খাদ্যভ্যাস ঠিক করতে হবে বা আয়রন ট্যাবলেট খেতে হবে।

৪। চুল বেশি বেশি ব্লিচ করা: চুলে রং করলে আগের থেকে ঘন দেখায়। কিন্তু চুলের রং হালকা করতে ব্লিচ করলে উল্টো সমস্যা দেখা দেয়। ব্লিচ করার পর চুল পাতলা হয়ে যায় এবং সহজেই ছিঁড়ে যায়।

৫। চুলে তাপ দেওয়া: অনেকেই চুল কার্ল করেন, বা ফ্ল্যাট আয়রন ব্যবহার করেন। এগুলো চুল ও তালু দুইয়ের জন্যই খারাপ। এছাড়া দৈনিক হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করাটাও খারাপ। হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারের সময়ে তাপ কমিয়ে রাখার চেষ্টা করুন।

৬। ভুল হেয়ার ব্রাশের ব্যবহার: চিরুনি বা ব্রাশ প্রতিদিনই ব্যবহার করা হয়। তার মান ভালো না হলে চুলের ক্ষতি হতে পারে। মোটা দাঁতের চরুনি বা প্লাস্টিকের হেয়ার ব্রাশ ব্যবহার করতে পারেন।

৭। নিয়মিত ট্রিম না করানো: চুল লম্বা করতে গিয়ে অনেকেই নিয়মিত চুল ট্রিম করান না। এতে চুল লম্বা হয় বটে কিন্তু চুলের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতি আট সপ্তাহ পর পর একবার চুল ট্রিম করে নেওয়া ভালো।

৮। অতিরিক্ত স্ট্রেস: স্ট্রেসে থাকলেও অনেকে স্ট্রেস কমানোর চেষ্টা করেন না। যাদের স্ট্রেস বেশি হয়, তাদের চুলটাও পাতলা হয়ে যায়। স্ট্রেস কমাতে ব্যায়াম, ইয়োগা বা মেডিটেশন করতে পারেন।

৯। ধূমপান: ধূমপান কোনোভাবেই স্বাস্থ্যের উপকারে আসে না। তা চুলের জন্যেও ক্ষতিকর। তালুতে রক্ত সরবরাহের ক্ষতি করে ধূমপান, এ কারণে চুল পাতলা হয়ে যায়। ধূমপান ছেড়ে দিলে চুলের স্বাস্থ্য ভালো হতে পারে।

১০। চুল টাইট করে বাঁধা: পনিটেইল বা বেণী করার সময়ে অনেকে চুল খুব টাইট করে বাঁধেন। ছোটবেলা থেকে চুল টেনে বাঁধার অভ্যাসটিতে অনেকের কপাল বড় হয়ে যায় এবং চুল পাতলা হয়ে যায়। চুল পাতলা হয়ে গেলে এভাবে টেনে বাঁধার অভ্যাস বর্জন করুন এবং চুল বাঁধলেও আলগা করে বাঁধার অভ্যাস করুন।

এসএস/কেআই

খবরটি শেয়ার করুন..








© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com

Desing & Developed BY W3Space.net