শনিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১৯, ০৪:৩২ অপরাহ্ন



সরকারি চাকরি আইন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক

সরকারি চাকরি আইন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক



ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেফতারের আগে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি গ্রহণের বিধান রেখে ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু সরকারি চাকরি আইন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

দক্ষ, জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন নিশ্চিতে খসড়া আইনটির এই বৈষম্যমূলক বিধান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মন্তব্য করে আইনটি পাশ না করারও আহ্বান জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী এ সংস্থাটি।

সোমবার (২২ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘প্রস্তাবিত ধারাটি বৈষম্যমূলক ও সংবিধান পরিপন্থি। কারণ একই অপরাধে সাধারণ নাগরিক ও জনপ্রতিনিধিদের জন্য যেখানে পূর্বানুমতির প্রয়োজন নেই সেখানে কোনো বিশেষ মহলের জন্য পূর্বানুমতির বিধান সংযুক্ত করা আইনের চোখে সব নাগরিকের সমান অধিকারের সাংবিধানিক বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি আরও বলেন, ‘আইনটি এভাবে পাশ হলে বর্তমান সরকারেরই আমলে প্রণীত ও বাস্তবায়নরত জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের সঙ্গেও এটি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী হবে। তাছাড়া উল্লেখিত ধারাটি ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ৫৪ ধারার সঙ্গেও সরাসরি সাংঘর্ষিক। জাতীয় সংসদে উত্থাপিত খসড়া ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেফতারে পূর্বানুমতি গ্রহণের যে বিধান সন্নিবেশিত হয়েছে তা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের সততা, স্বচ্ছতা, উন্নততর পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষ জনপ্রশাসন নিশ্চিতের পরিপন্থি ও উদ্বেগজনক হবে।’

উল্লেখিত বিধান রেখে আইনটি পাশ হলে বাস্তবে সরকারি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিরোধ দূরে থাকুক, আইনের ছত্রছায়ায় এ ধরনের অপরাধ সুরক্ষা পাবে এবং এর ব্যাপকতা বাড়ার ঝুঁকি আরও বাড়বে উল্লেখ করে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক বিধানটির পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি ও বিশেষ করে সংসদীয় কমিটির প্রতি আহ্বান জানান।

খবরটি শেয়ার করুন..








© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com
Desing & Developed BY W3Space.net