শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৯, ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন



যে কারনে মালদ্বীপ পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়

যে কারনে মালদ্বীপ পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়



বর্তমান সময়ে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপ। ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রটি শ্রীলঙ্কা থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ১১৯২টি ছোট ছোট দ্বীপ নিয়ে অবস্থিত। মালদ্বীপের মূল আকর্ষণ সরল, শান্ত ও মনোরম পরিবেশ ও আদিম সমুদ্র সৈকত। যেখানে পানির রং নীল আর বালির রং সাদা। বিশ্বের সবচেয়ে নিচু এ দেশটির সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড় উচ্চতা মাত্র ১ দশমিক ৫ মিটার।

বাংলাদেশকে ষড়ঋতুর দেশ বলা হলেও বিষুবরেখার কাছে অবস্থিত হওয়ায় মালদ্বীপের মাত্র একটিই ঋতু আছে। যেখানে বছরের গড় তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

২৯৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের মালদ্বীপের রাজধানী মালে, রাষ্ট্রভাষা ধিবেহী, জনসংখ্যা ৩,৯৩,৫০০। মালদ্বীপের প্রধান ধর্ম ইসলাম। দেশটির মাথাপিছু আয়  ৯,১২৬ ডলার। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে মালদ্বীপের মাথাপিছু আয় সবচেয়ে বেশি।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১২০০ খ্রিস্টাব্দে আবুল বারাকাত নামে একজন মরক্কান ধর্ম প্রচারক মালদ্বীপে আসেন। তার প্রভাবে দ্বীপের মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ১১৮৩ খ্রিস্টাব্দে ইবনে বতুতা মালদ্বীপ ভ্রমণ করেছিলেন। ১৯৬৫ সালের ২৬ জুলাই মালদ্বীপ ব্রিটিশদের কাছ থেকে পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে।

মালদ্বীপের সামুদ্রিক মাছ দেশটির অর্থনীতির মূলভিত্তি। সেখানকার মানুষের খাদ্যাভাসও মূলত মাছকেন্দ্রিক। তবে বর্তমানে দেশটির বড় শিল্প হলো পর্যটন। বৈদেশিক আয়ের ৬০ শতাংশই আসে পর্যটন থেকে।

বিধাতার নিজ হাতে সাজানো এই দ্বীপদেশটি অনেকের কাছেই হানিমুনের জন্য সবচেয়ে পছন্দের জায়গা। মালদ্বীপের উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য সহজেই এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে ঘুরে বেড়ানো যায়। একমাত্র মালদ্বীপেই বিশালাকার সাবমেরিনে করে সমুদ্রের ১২০ ফুট পর্যন্ত তলদেশে ঘুরে বেড়ানো যায়।

সমুদ্রের ৬ মিটার গভীরে স্বচ্ছ গ্লাস দিয়ে নির্মিত ‘ইথা আন্ডার সি রেস্টুরেন্ট’ দেশটির আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু। একসাথে ১২ জন অতিথি বসা যায় রেস্টুরেন্টটিতে। এখানে সবচেয়ে কম মূল্যে খাবার খেলেও গুণতে হবে ২০০ মার্কিন ডলার।

আপনি চাইলে মালদ্বীপে সমুদ্রের পানির উপর বিশেষভাবে নির্মিত বাড়িতেও থাকতে পারেন। যেখানে খাটের উপর শুয়ে সমুদ্রের বিভিন্ন রঙের মাছ খুব কাছ থেকে দেখতে পারবেন, শুনতে পারবেন সামুদ্রিক পাখির ডাক।

এছাড়া বিমানবন্দরের খুব কাছে ‘হলুমালে’ দ্বীপ আপনাকে বিমুগ্ধ করতে পারে। ‘ভাদহু’ দ্বীপের বালুময় সমুদ্র সৈকত ঘুরে আসতে পারেন অবাক বিস্ময়ে। যেখানে দাঁড়িয়ে জীবনানন্দ দাশের সেই পঙক্তিগুলো হয়তো মনে পড়ে যাবে- “সে কেন জলের মতো ঘুরে ঘুরে একা কথা কয়! অবসাদ নাই তার? নাই তার শান্তির সময়?”

খবরটি শেয়ার করুন..








© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com
Desing & Developed BY W3Space.net