শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০১:১২ অপরাহ্ন



চায়ের শহরে ১৪৩ রানেই অলআউট বাংলাদেশ

চায়ের শহরে ১৪৩ রানেই অলআউট বাংলাদেশ



স্পোর্টস ডেস্ক : প্রথম দিনের ৫ উইকেটে ২৩৬ রানের সঙ্গে আজ আর ৪৬ রান যোগ করতেই শেষ হয়েছে জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংস। ২১ রানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে তারা অলআউট হয়েছে ২৮২ রানে। জবাবে ব্যাটিং ধসে মাত্র ১৪৩ রানেই অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ।

সফরকারীদের পেসাররা ভালোই চেপে রেখেছিল স্বাগতিকদের। মাত্র ১৯ রানেই বাংলাদেশ হারিয়েছে চার টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান। দলীয় ৮ রানেই প্রথম ধাক্কা খেল বাংলাদেশ। ইনিংসের ৩.৫ ওভারে চাতারার বল ডিফেন্ড করতে গিয়ে বোল্ড হন ওপেনার ইমরুল কায়েস(৫)। দলীয় ১৪ রানে জার্ভিসের বলে চাকাভার ক্যাচ হয়ে ফেরেন লিটন দাস। দুই উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ এখন ব্যাকফুটে। এরপর দলীয় ১৯ রানে চাতারার বলে চাকাভার ক্যাচ হয়ে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত(৫)। যদিও প্রথমে নট আউটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ফিল্ড আম্পায়ার, তবে মাসাকাদজার রিভিওতে সাজঘরের পথ দেখতে হয়েছে শান্তকে।

এরপর মাহমুদউল্লাহ আসলেন আর গেলেন। দলীয় স্কোরকার্ডে কোন রান জমা না হতেই সেই চাতারার বলেই শূন্য রানে প্যাভিলিয়নের ফিরলেন তিনি। দলীয় ১৯ রানেই টপঅর্ডারের চার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ধুঁকতে থাকে বাংলাদেশ। সেখান থেকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন মুশফিক-মুমিনুল। তবে, দলীয় ৪৯ রানের মাথায় মুমিনুলের (১১) বিদায়ে আবারো বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। সিকান্দার রাজার বলে মাসাকাদজার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুমিনুল। চা-বিরতি থেকে ফিরে মাত্র দুই বল খেলতে পারেন মুশফিকুর রহিম। বিরতি থেকে ফিরে প্রথম বলে বাউন্ডারি হাঁকানোর পরের বলেই মুশফিককে ফিরিয়ে দেন কাইল জার্ভিস। ৫৪ বলে ব্যক্তিগত ৩১ রান করেন মুশফিক।

ইনিংসের ৩৯তম ওভারে বিদায় নেন মেহেদি হাসান মিরাজ। শেন উইলিয়ামসের বলে তারই হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে মিরাজ ৩৩ বলে করেন ২১ রান। দলীয় ১০৮ রানের মাথায় বাংলাদেশ সপ্তম উইকেট হারায়। দলীয় ১৩১ রানের মাথায় বিদায় নেন তাইজুল ইসলাম। ব্যক্তিগত ৮ রান করে রাজার বলে চাকাভার হাতে ধরা পড়েন তাইজুল। সিকান্দার রাজার তৃতীয় শিকারে বিদায় নেন নাজমুল ইসলাম অপু (৪)। ১৪৩ রানের মাথায় বাংলাদেশ নবম উইকেট হারায়। শেষ ব্যাটসম্যান আবু জায়েদ রাহি রানআউট হন। অভিষেক ম্যাচে অপরাজিত থাকেন ৯৬ বলে ৪১ রান করা আরিফুল হক।

আগের দিনের ৫ উইকেটে ২৩৬ রানের সঙ্গে আজ আর ৪৬ রান যোগ করতেই শেষ হয়েছে জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংস। ২১ রানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে তারা অলআউট হয়েছে ২৮২ রানে। স্পিনার তাইজুল ইসলাম একাই ৬টি উইকেট তুলে নেন। নাজমুল ইসলাম অপু দুটি উইকেট পান। একটি করে উইকেট তুলে নেন আবু জায়েদ রাহি এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। প্রথম ইনিংসে উইকেট শূন্য থাকেন আরিফুল হক এবং মেহেদি হাসান মিরাজ।

প্রথম দিনশেষে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের অভিষেক টেস্টে সফরকারীরা সংগ্রহ করে ৫ উইকেটে ২৩৬ রান। দ্বিতীয় দিনেও বাংলাদেশের বিপক্ষে সাবধানী ব্যাট চালিয়ে যাচ্ছিলেন আগের দিন শেষ করা দুই ব্যাটসম্যান। অবশেষে তাইজুলের বোলিংয়ে জুটি ভাঙলো বাংলাদেশ। ইনিংসের ১০২.১ ওভারে তাইজুলের ডেলিভারিতে শান্তর ক্যাচ হয়ে ফেরেন চাকাভা। সাজঘরে ফেরার আগে ৮৫ বল খেলে ২৮ রান তুলেছেন এই জিম্বাবুয়েন।

জিম্বাবুয়ের শিবিরে আবারো আঘাত হেনেছেন তাইজুল। ইনিংসের ১০৯.৩ ওভারে তাইজুলের বলে মুশফিকের ক্যাচ হয়ে ফেরেন ওয়েলিংটন মাসাকাদজা। দলীয় ২৭৩ রানে অপুর ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে এলবির শিকার হন মাভুতা। টেস্ট ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো পাঁচ উইকেট তুলে নিতে এরপর তাইজুল ফিরিয়ে দেন কাইল জারভিসকে (৪)। পরের বলেই তাইজুল ফিরিয়ে দেন তেন্দাই চাতারাকে। পিটার মুর ৬৩ রান করে অপরাজিত থাকেন।

সিলেটের অভিষেক টেস্টের টস ভাগ্যটা বাংলাদেশের পক্ষে যায়নি। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। এদিকে অধিনায়ক হিসেবে নিজের অভিষেক টেস্টে টস হারার স্বাদ পেলেন নতুন দলপতি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

প্রথম ইনিংসে শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলিংয়ের বিপক্ষে সাবধানী খেলছিলেন দুই ওপেনার ব্রায়ান চারি ও হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। ইনিংসের ১০.৪ ওভারে তাইজুলের ঘূর্ণিতে বোল্ড হয়ে ফিরে যান ব্রায়ান চারি(১৩)। ইনিংসের ১৬.২ ওভারে জিম্বাবুয়ে শিবিরে ফের আঘাত হানেন তাইজুল। এবার তার শিকারে পরিণত হলেন সফরকারী দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন টেইলর। মুমিনুলের ক্যাচ হয়ে ফেরার আগে ১৫ বল খেলে ৬ রান তুলেন তিনি।

দলীয় ৮৫ রানে ভয়ংকর হয়ে উঠা হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে (৫২) সাজঘর পাঠান আবু জয়েদ রাহী। এরপর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন জিম্বাবুয়ের মিডল অর্ডারের দুই তারকা শন উইলিয়ামস ও সিকান্দার রাজা। তবে তাদের সেই জুটি বড় হতে দিলেন না অভিষিক্ত নাজমুল ইসলাম অপু। দলীয় ১২৯ রান রাজাকে সরাসরি বোল্ড করে সাজঘরে পাঠিয়েছেন এই স্পিনার।

অধিনায়ক হিসেবে নিজের অভিষেক টেস্টে টসভাগ্য ভালো হয় নি মাহমুদউল্লাহর। সিলেট টেস্টে টস হেরেছেন জিম্বাবুয়ের দলপতি মাসাকাদজার বিপক্ষে। এবার অধিনায়ক হিসেবে নেমে উইকেটের দেখাও পেলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ইনিংসের ৭৬.৩ ওভারে মিরাজের ক্যাচ বানিয়ে ফেরালেন ভয়ঙ্কর শেন উইলিয়ামসকে। সাজঘরে ফেরার আগে ১৭৩ বল খেলে ৮৮ রান তুলেছেন এই ব্যাটসম্যান। দলীয় ২০১ রানের মাথায় জিম্বাবুয়ে পঞ্চম উইকেট হারায়। দিন শেষে অপরাজিত আছেন রেগিস চাকাভা (২০) এবং পিটার মুর (৩৭)।

এই টেস্টের মধ্যে দিয়ে অভিষেক হয়েছে আরিফুল হক ও নাজমুল ইসলামের। এছাড়া মূল একাদশে সুযোগ পেয়েছেন বাম-হাতি ব্যাটসম্যান নাজমুল হাসান শান্ত। অন্যদিকে ওপেনার হিসেবে থাকছেন ইমরুল কায়েস আর লিটন দাস। ওয়ান ডাউনে আছেন মুমিনুল হক। মিডল অর্ডারে রয়েছেন অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম।

এই টেস্ট দিয়েই অষ্টম ভেন্যু হিসেবে শুরু করলো সিলেট। এখন পর্যন্ত যে সাতটি ভেন্যুতে টেস্ট হয়েছে বাংলাদেশে, তার প্রতিটিতেই প্রথম ম্যাচে হেরেছে স্বাগতিকরা। এবার ইতিহাস বদলানোর অপেক্ষায় স্বাগতিকরা। সিলেটে প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে অবশ্য গত ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি।

টেস্টে দুই দলের শেষ চারটি লড়াইয়েই বাংলাদেশ জয় পেয়েছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সফরে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল জিম্বাবুয়ে। তবে অতীতের সাফল্যে এখনও এগিয়ে অতিথিরা। দুই দলের আগের ১৪টি টেস্টে বাংলাদেশ জিতেছে ৫টি, জিম্বাবুয়ে ৬টি, বাকি ৩ ম্যাচ ড্র।

বাংলাদেশ একাদশ:

লিটন দাস, ইমরুল কায়েস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ(অধিনায়ক), আরিফুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম, আবু জায়েদ।

জিম্বাবুয়ে একাদশ:

হ্যামিল্টন মাসাকাদজা (অধিনায়ক), ব্রায়ান চারি, ব্রেন্ডন টেলর, শন উইলিয়ামস, সিকান্দার রাজা, পিটার মুর, রেগিস চাকাভা (উইকেটরক্ষক), ব্র্যান্ডন মাভুতা, কাইল জারভিস, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, তেন্দাই চাতারা।

খবরটি শেয়ার করুন..








© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com

Desing & Developed BY W3Space.net