রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:৩০ অপরাহ্ন



‘নির্বাচনে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে কিছুই নেই’: রিজভী

‘নির্বাচনে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে কিছুই নেই’: রিজভী



সকল রাজনৈতিক দলের মতামতকে উপেক্ষা করে শুধুমাত্র সরকারের নির্দেশে একাদশ সংসদ নির্বাচনের একতরফা তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে কিছুই নেই। বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের পাইকারী হারে গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে। পুলিশি তল্লাশির নামে বাড়িতে বাড়িতে তাণ্ডব চলছে। চারদিকে শুধু আতঙ্ক আর ভয়। দেশে আইন, বিচার সবই একজন ব্যক্তির হাতের মুঠোয় বলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নিম্ম আদালত সরকারের আজ্ঞাবাহী হওয়ার কারণে সারাদেশে লাখ লাখ নেতাকর্মীদেরকে প্রতিদিন হয় কোর্টের বারান্দায় না হয় কারাগারে থাকতে হচ্ছে। রাজনৈতিক সংকট সমাধান না হওয়ার আগেই আকস্মিকভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানেরই সুষ্পষ্ট ইঙ্গিত।

শুক্রবার (৯ নভেম্বর) সকাল ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘সকল বিরোধী দলের দাবি ছিল মাঠ সমতল এবং সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করে তফসিল ঘোষণা। এমনকি পর্যাপ্ত সময়ও রয়েছে কমিশনের হাতে। রাজনৈতিক দলগুলোর অনুরোধে নির্বাচনের পিছিয়ে দিলে আইনের কোন ব্যত্যয় ঘটতো না।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সংবিধানের বাইরে যাবেন না বলে প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী ও মহাজোটের নেতারা মুখস্থ কথাই আউড়িয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু নিজেরাই একের পর এক সংবিধান লঙ্ঘন করছেন। মন্ত্রী ও অন্যান্য সাংবিধানিক পদধারিরা পদত্যাগ পত্র জমা দিলেও তা কার্যকর হয়নি। সংবিধান অনুযায়ী সাংবিধানিক কোন পদে আসীন ব্যক্তি অথবা কোন মন্ত্রী রাষ্ট্রপতি বরাবরে প্রধানমন্ত্রীর নিকট পদত্যাগ পত্র জমা দেয়ার সাথে সাথে সেটি কার্যকর হয়। এক্ষেত্রে চাকরীজীবীদের মতো পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা বা না করার কোন বিধান নেই। আমরা দেখতে পাচ্ছি-টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীরা পদত্যাগ করলেন, কিন্তু আবার দায়িত্বও পালন করে যাচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক আওয়ামী কয়েকজন মন্ত্রী ও এমপি দন্ডিত হলেও তাদের মন্ত্রীত্ব ও এমপিত্ব বজায় থাকে। কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাবন্দি করে সুচিকিৎসার অধিকারকেও কেড়ে নেয়া হয়েছে।’

রিজভী বলেন, ‘আবারও একতরফা নির্বাচন করতে বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা না দিয়ে জোরপূর্বক কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। কি অদ্ভুত ব্যাপার! বেগম জিয়ার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের ছাড়পত্রের প্রয়োজন পড়েনি। ছাড়পত্রে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করানো হয়েছে পিজির চিকিৎসক নন এমন একজন শিক্ষার্থী-চিকিৎসক দিয়ে। এমনকি বেগম জিয়াকে হাসপাতাল থেকে কারাগরে নেয়া হয়েছে তাঁর মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা তা জানেনও না।’

‘বেগম খালেদা জিয়ার উপর নানামুখী চাপেরই এটি একটি অংশ। সরকার নিজ উদ্দেশ সাধনে বেগম খালেদা জিয়ার ওপর নিষ্ঠুর অমানবিক আচরণের মাত্রা দিনকে দিন বৃদ্ধি করছে। সুতরাং চিকিৎসা শুরু না হতেই তড়িঘড়ি করে তাঁকে বিনা চিকিৎসায় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। সরকারের প্রতিহিংসায় বেগম জিয়ার জীবন চরম নিরাপত্তাহীনতায়। অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।’

রাজশাহীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজশাহী ও আশপাশের জেলায় চলছে গ্রেফতার অভিযান এমন অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘নেতাকর্মীরা যেন সমাবেশে যোগ দিতে না পারে সেজন্য শহরে ঢোকার বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চৌকি বসিয়ে কম্বিং অভিযান চলছে। বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকতের বাসাসহ অসংখ্য নেতাকর্মীর বাসায় বাসায় গোয়েন্দা পুলিশ হানা দিয়েছে। বৃহত্তর রাজশাহী জেলায় পরিবহন ধর্মঘট করানো হয়েছে সুপরিকিল্পতভাবে। র‌্যাব, ডিবি ও পুলিশ হর্ন বাজিয়ে শহরজুড়ে মহড়া দিচ্ছে, আতঙ্ক ছড়িয়ে শহরকে ফাঁকা করার জন্য। বাড়ি বাড়ি গিয়ে নেতাকর্মীদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। আওয়ামী ক্যাডার’রা মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে গিয়ে বাস চালকদের কাছ থেকে জোর করে গাড়ির চাবি কেড়ে নিচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের বিপরীত কর্মকান্ডই চলছে। গতকাল সিইসি বলেছেন-নির্বাচনের ভুমি সমতল থাকবে। নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার হয়রানী, সমাবেশে বাধা প্রদানকে কি সমতল ভূমি বলে ? মূলত: রাজনৈতিক ময়দান সম্পূর্ণভাবে সরকারের অনুকুলে সমতল রাখার যাবতীয় বন্দোবস্ত করছে নির্বাচন কমিশন।’

এসময় তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘সময় অত্যাসন্ন, যে কারাগার অন্যের জন্য তৈরি করা হয় সেই কারাগারে নিজেদেরকে ঢুকতে হয়, এটাকেই বলে প্রকৃতির প্রতিশোধ। নিজের খোঁড়া গর্তে নিজেদেরকেই পড়তে হয়, এ বিষয়টি ভাবার জন্যও ক্ষমতাসীনদের অনুরোধ করছি। আসলে স্বাধীন বিচার বিভাগ ও আওয়ামী লীগ একসাথে চলতে পারে না। ’

ঢাকায় ঐক্যফ্রন্টের জনসভাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে গত চারদিনে ২৩০০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শাহিদা রফিক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

খবরটি শেয়ার করুন..








© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com

Desing & Developed BY W3Space.net