রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:০০ অপরাহ্ন



মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে পালিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা!

মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে পালিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা!



কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছে রোহিঙ্গারা। বুধবার দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূল থেকে একটি নৌকা যাত্রা শুরু করলে তাদের আটক করে কোস্টগার্ড। এছাড়া রাখাইন থেকেও কয়েকটি নৌকায় মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গারা রওনা দিয়েছে বলে জানিয়েছে রোহিঙ্গা নেতা, ত্রাণ কর্মী ও পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর তারিখ সামনে চলে আসায় মিয়ানমারের ফিরে যাওয়া থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গারা পালাচ্ছে বলে মনে করছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম চ্যানেল নিউজ এশিয়ার এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

গত বছরের আগস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে পূর্ব পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওই অভিযানে জাতিগত নিধনযজ্ঞের আলামত পেয়েছে।

সম্প্রতি জাতিসংঘ মিয়ানমারের মানবাধিকার নিয়ে এক তদন্ত প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে। মিয়ানমার সরকার বারবারই দাবি করে এসেছে যে নিরাপত্তার স্বার্থে এই অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী।

কোনও নিধনযজ্ঞ চালানো হয়নি। তবে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রত্যাখ্যানের মাত্রায় তারা হতবাক। সামরিক অভিযানে কখনোই হত্যা, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, শিশু নিপীড়ন ও গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

টেকনাফ উপজেলায় কোস্টগার্ড প্রধান ফয়জুল ইসলাম মন্ডল বলেন, মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় ৩৩ জন রোহিঙ্গা ও ছয় বাংলাদশিকে গ্রেফতার করেছে কোস্টগাড্র্। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়র্নি। রাখাইনের উপপরিচালক কিয়াও সোয়ার তুন বলেন, তিনি এই বিষয়ে কিছু জানেন না।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৭ সালের নভেম্বরে ‘অ্যারেঞ্জমেন্ট অন রিটার্ন অব ডিসপ্লেসড পার্সন্স ফ্রম রাখাইন স্টেট’ নামে  বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। তবে এখন পর্যন্ত প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় একজন রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নেওয়ার সুনিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ বলছে, এখন পর্যন্ত কোনও রোহিঙ্গাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিরিয়ে নেয়নি মিয়ানমার। তবে চলতি মাসের মাঝামাঝিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে বলে ঘোষণা দিয়েছে দুই দেশ। তবে রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত না হলে যেতে চায় না।

জাতিসংঘও জানিয়েছে রাখাইনে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াং লি বলেন, রাখাইনের পরিস্থিতি আগের মতোই আছে। বৌদ্ধরা প্রত্যাবাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনও করেছে।

আরাকান প্রকল্পের পরিচালক ক্রিস লেওয়া বলেন, মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তে অনেক রোহিঙ্গা পাচারকারী চক্রের শরণাপন্ন হতে পারে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা ফাঁদে আটকে গেছে। তাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। তাদের কেউ আশ্রয় দিতে চায় না। আর এখন প্রত্যাবাসনের ঝুঁকিতে পড়েছে তারা।

খবরটি শেয়ার করুন..








© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com

Desing & Developed BY W3Space.net