রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৯, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন



ময়মনসিংহ-২ আসনে আ,লীগে একাধিক, বিএনপিতে ৩ প্রার্থী

ময়মনসিংহ-২ আসনে আ,লীগে একাধিক, বিএনপিতে ৩ প্রার্থী



মিজানুর রহমান, ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহ-২ আসনে ২টি উপজেলা,১টি পৌরসভা, ২০টি ইউনিয়ন গঠিত তারাকান্দা- ফুলপুর নির্বাচনী এলাকা। আসনটি আওয়ামীলীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনায় ভোটের হাওয়া লেগেছে। আওয়ামীলীগের একাধিক, বিএনপিতে ৩ প্রার্থী। 

 মরহুম এম শামছুল হক এ আসন থেকে ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।এখানে আওয়ামী লীগে গ্রুপিং থাকলেও দলের স্বার্থে ঐক্যের জায়গাটি সুসংহত করার নজির আগেও দেখিয়েছে দলটি। আসন্ন নির্বাচনেও তা ফুটে উঠবে বলে দৃঢ় আশাবাদী তৃণমুলের নেতাকর্মীরা। আর দলীয় ঐক্যের পথ ধরে আসনটি আগামীতেও আওয়ামীলীগের কব্জায় থাকবে বলে মনে করেন নেতারা। অপরদিকে  মামলার কারণে সুবিধা করতে পারছেনা বিএনপি। 

বিভিন্ন সূত্র ও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, ময়মনসিংহ-২ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, বর্তমান এমপি ফুলপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক শরীফ আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সাবেক এমপি হায়াতোর রহমান খান বেলাল, কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ব্যারিস্টার আবুল কালাম আজাদ, সলিমুল্ল্যাহ কলেজে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান, ফুলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ স¤পাদক শাহ কুতুব চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম ফেরদৌস জিলু।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ময়মনসিংহ (উঃ) জেলা বিএনপির  সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও তারাকান্দা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার, ফুলপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক এম.পি শাহ শহীদ সারোয়ার, ময়মনসিংহ (উঃ) জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও ফুলপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এড. আবুল বাসার আকন্দ।

আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, সম্ভাব্য  প্রার্থী তৃণমূলে গণসংযোগের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সবুজ সংকেতের অপেক্ষা করছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা, পাঁচবার নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য ও একবার নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান জননেতা মরহুম এম. শামছুল হকের জ্যেষ্ঠ পুত্র শরীফ আহমেদ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় এমপি নির্বাচিত হন। বর্তমানে ফুলপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের আহŸায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উঠতি বয়সের তরুণ যুবক আর সদ্য ভোটার হওয়া তারুণ্যের ঝলকে তিনি উদ্ভাসিত। তিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে এবারো মনোনয়ন প্রত্যাশী। মনোনয়ন পেলে  সুষ্ঠু নির্বাচনে আবারো এমপি হবেন বলে তিনি আশাবাদী হয়ে দলীয় মনোনয়ন ক্রয় করেছেন।

 ২০০৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন হায়াতোর রহমান খান বেলাল। ২০১৪ সালে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি অনেকটাই নিশ্চুপ হয়ে যান। ইদানীং নির্বাচনী আলোচনায় নৌকা মার্কায় মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে নতুন করে আলোচনায় উঠে আসেন তিনি। দলীয় মনোনয়ন পেলে সুষ্ঠু নির্বাচনে তিনি আবারো এমপি হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জাতীয় শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি,সলিমুল্ল্যাহ কলেজে  ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান মনোনয়ন প্রত্যাশা করে ব্যাপক গনসংযোগ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের মনযোগ আকর্ষন, সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংগ্রহন। মনোনয়নের আশায় কৈন্দ্রয়ী নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে চলছেন।

২০০৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হয়ে মাঠে পোস্টার, হ্যান্ডবিল ও লিফলেট ছড়িয়ে ব্যাপক প্রচার শুরু করেছিলেন তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক শাহ কুতুব চৌধুরী। কিন্তু মনোনয়ন পাওয়ায় তিনি। তবে এবার আগামী জাতীয় নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য জোর লবিং চালাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তিনি গণসংযোগ চালিয়ে জনমত গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। মনোনয়ন পেলে তিনি এমপি হবেন বলে আশাবাদী।

এলাকার উচ্চ শিক্ষিত ও সদালাপী হিসেবে পরিচিত ব্যারিস্টার আবুল কালাম আজাদ গত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রথম দিকে খুবই মজবুত অবস্থানে থাকলেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন বঞ্চিত হন। তিনি এবার মনোনয়ন পাওয়ার আশায় দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যন্ত পলীতে নির্বাচনী গণসংযোগ চালিয়ে আসছেন। তিনি ২০টি ইউনিয়নের প্রতিটি হাট-বাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সাথে নিয়ে নৌকার পক্ষে জনমত গঠনের প্রয়াস চালাচ্ছেন। তৃণমূল পর্যায়ে রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা।

সব প্রার্থীই দলীয় মনোনয়ন ক্রয় করেছেন বিএনপি সূত্র জানায়, সারোয়ার জাতীয় পার্টি থেকে ২০০১ সালে বিএনপিতে যোগদান করে জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পান সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ শহীদ সারোয়ার।এ নির্বাচনে এম.পি নির্বাচিত হন তিনি।২০০৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা হায়াতোর রহমানের কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হন তিনি। স্থানীয় বিএনপি ও তার সাথে যোগ দেয়া জাতীয় পার্টি কর্মীদের মধ্যে দ্ব›দ্ব দেখা দেয়ায় কোণঠাসা হয়ে পড়েন  শাহ শহীদ সারোয়ার।এবং ১/১১ তে সংস্কার প্রন্তীতে নাম লেখান।বিএনপি’র চেয়ারপারর্সন বেগম খালেদা জিয়া’র মুক্তির আন্দোলন কর্মসূচিতে ভূমিকা না নিলেও তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী করছেন। 

সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা বর্তমান ময়মনসিংহ (উ:) জেলা বিএনপির  সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও তারাকান্দা উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার রাজপথের লড়াকু সৈনিক হিসেবে পরিচিত । এবারও রাজপথে সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে ১৪ মামলার আসামি হন ও উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে বরখাস্ত হয়ে ছিলেন। এর আগে জাতীয় নির্বাচনে একাদিক বার প্রার্থী হয়েও মনোনয়ন পাননি তিনি। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে তিনি বার বার মনোনয়ন বঞ্চিত হলেও কখনো বিদ্রোহী অবস্থান নেননি। তৃণমূল পর্যায়ে রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা, তরুণ নেতা হিসাবে জনসাধারণের মধ্যে রয়েছেন আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে, এবারো মনোনয়নে রয়েছেন কৈন্দ্রীয় তালিকায়। আগামী নির্বাচনে তিনিই মনোনয়ন পাবেন দৃঢ়ভাবে আত্মবিশ্বাসী বলে তিনি এবার মনোনয়ন পাওয়ার আশায় দীর্ঘদিন ধরে ফুলপুর ও তারাকান্দার প্রত্যন্ত পলীতে নির্বাচনী গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এড. আবুল বাসার আকন্দ,গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী হিসেবে ফুলপুরে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনিও আগামী জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী।

খবরটি শেয়ার করুন..








© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com
Desing & Developed BY W3Space.net