মঙ্গলবার, ২৫ Jun ২০১৯, ০৮:০০ অপরাহ্ন



শীতে আচমকা গলায ব্যথায় করণীয়

শীতে আচমকা গলায ব্যথায় করণীয়



লাইফস্টাইল ডেস্ক: সর্দি-কাশি নেই। অথচ, সকালে ঘুম ভাঙার পরেই বুঝলেন যে, আপনার গলায় ব্যথা। ঢোক গেলার সময় কষ্ট হচ্ছে। অথবা, মনে হচ্ছে, গলায় যেন কিছু একটা বিঁধে রয়েছে। অথচ, ঘুমাতে যাওয়ার আগেও এই ধরনের কোনও সমস্যা ছিল না আপনার। তা হলে!! কোন কারণে এই ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হলেন আপনি?

বিশেষজ্ঞ চিকিত্‍সকরা বলছেন, কখনও ঠান্ডা, কখনও আবার গরম। শীতের সময় আবহাওয়ার এমন খামখেয়ালিপনার কারণেই জীবাণুদের বাড়বাড়ন্ত হয়। যে কারণে, গলার সংক্রমণ বাড়ছে। যার পরিণতি গলায় ব্যথা। শীতের সময় এই ধরনের সমস্যায় আক্রান্তদের সংখ্যাও বাড়ছে। একই সঙ্গে অবশ্য ওই সব চিকিত্‍সক বলছেন যে, সতর্ক থাকলেই শীতের সময় সুস্থ থাকাটা অসম্ভব কোনও বিষয় নয়।

কেননা, শীতে সাধারণত সুস্থ থাকা যায়।যদিও, শিশু, বয়স্ক এবং অ্যাজমা সহ অন্য কয়েকটি ক্ষেত্রে আক্রান্তদের জন্য অপেক্ষাকৃত বেশি সতর্ক থাকা জারুরি। তবে, শীতের সময় সাবধান না থাকলে যে কোনও বয়সি-ই যে সর্দি-কাশির সমস্যায় আক্রান্ত হবেন না, তারও কোনও নিশ্চয়তা নেই।

আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার সঙ্গে বিছানা এবং চাদর-লেপ-কম্বল অথবা অন্য কোনও শীতবস্ত্রের মধ্যে লুকিয়ে থাকা জীবাণুরাই আচমকা এই গলায় ব্যথার জন্য দায়ী বলেও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিত্‍সকরা। ইচ মাইট নামে ওই জীবাণু স্বরযন্ত্রে প্রবেশ করার কারণে আচমকা এ ভাবে গলায় ব্যথার সমস্যা দেখা দেয়।ওই সব চিকিত্‍সক বলছেন, আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার কারণে জীবাণুরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে ঘরের ধুলোকণার জন্যও সমস্যা বেড়ে যায়। বিছানার মধ্যে বাসা বাঁধে ইচ মাইট।

যে কারণে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না থাকাটাও গলা ব্যথার কারণ।শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে দরজা, জানলা বন্ধ রেখে দেওয়ার কারণে স্বাভাবিক কারণে ঘরে হাওয়া চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নিয়মিত রোদ না পাওয়ায় চাদর-লেপ-কম্বল অথবা অন্য কোনও শীতবস্ত্রের ভিতর লুকিয়ে থাকা ইচ মাইট স্বরযন্ত্রে প্রবেশ করে রোগের বিস্তার ঘটায়। এই ধরনের সমস্যার জন্য বায়দূষণের কারণও দায়ী রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই সব বিশেষজ্ঞ চিকিত্‍সক।

তবে, শুধুমাত্র আবার আচমকা গলার ব্যথাও নয়। এই একই কারণে হতে পারে খুশখুশে কাশি। ওই কাশির জন্য আবার গলা বসেও যেতে পারে। এমনকী, জ্বর জ্বর ভাব অথবা জ্বর কিংবা সর্দি লাগার উপসর্গ হিসেবে নাক দিয়ে জল-ও বের হতে পারে। তা হলে এই ধরনের সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কীকী করণীয়?

বিশেষজ্ঞ চিকিত্‍সকরা বলছেন, ঘরে যাতে নিয়মিত আলো-বাতাস পৌঁছয়, সেই বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। কভার পরিয়ে চাদর-লেপ-কম্বল অথবা অন্য কোনও শীতবস্ত্রের ব্যবহার করতে হবে। খাওয়ার আগে হাত ধুয়ে নিতে হবে। বাইরের ধুলোর থেকে ঘরের ধুলো অনেক বেশি ক্ষতিকর। যেকারণে, বিছানার চাদর, বালিশের ওয়াড় এবং লেপ-কম্বলসহ অন্যান্য শীতবস্ত্র সপ্তাহে অন্তত একদিন ফুটন্ত জলে কাচতে হবে।

শোওয়ার ঘরে কার্পেট রাখা উচিত নয়। পোষ্য হিসেবে কুকুর, বিড়াল, পাখি এবং কোনও বনসাই শোওয়ার ঘরে রাখা উচিত নয়। একই রকমভাবে তাপমাত্রার তারতম্যও সামলাতে হবে, বাইরের খুব গরম থেকে ঘরের বা অফিসের ভিতরে chilled air conditioner-এ ঘনঘন যাতায়াত বন্ধ করতে হবে। খাওয়ার অব্যবহিত পরেই শুতে যাওয়া উচিত নয় বলেও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিত্‍সকরা।

খবরটি শেয়ার করুন..








© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com
Desing & Developed BY W3Space.net