বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:৪২ পূর্বাহ্ন



ভৈরবে ১২০ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু

ভৈরবে ১২০ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু



জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ১২০ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারি মাস থেকে ডিসেম্ভর মাস পর্যন্ত ২০১৮ সনের ১২ মাসে এ সকল অস্ভাবাবিক মৃত্যুর ঘঠনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ভৈরব-টঙ্গী ,ভৈরব – সরারচর রেলপথে গত বছরের ১২ মাসে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে নারী পুরুষ শিশুসহ ১২০ জন মারা গেছে। ভৈরব-টঙ্গী, ভৈরব-সরারচর রেল পথে গত ২০১৮ ইং সালের ১লা জানুয়ারী মাস হইতে ৩১ শে ডিসেম্ভর পর্যন্ত এ সকল মর্মান্তি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, ভৈরবে গত ২০১৮ইং সালের ১লা জানুয়ারি হইতে ৩১ শে ডিসেম্ভর পর্যন্ত ৩৬৫ দিনে নারী, পুরুষ ও শিশু মিলে মোট ১২০ জন রেলে কাটা পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নিহতদের অধিকাংশই অজ্ঞাত। ভৈরব-টঙ্গী, ভৈরব-সরারচর রেল পথে গত ১২ মাসে বিভিন্ন এলাকায় অসতর্কতার কারনে উল্লেখিতরা ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যায়। নিহতদের মধ্যে ৮৯ জন পুরুষ এবং ৩১ জন মহিলা ।

রেলওয়ে সুত্র জানায়, ভৈরব রেলওয়ে থানাধীন ভৈরব-টঙ্গী ৭০ কিলোমিটার ও ভৈরব-সরারচর পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার রেলপথ। ভৈরব রেলওয়ে থানা সীমানায় রয়েছে মোট ১৯টি রেলওয়ে ষ্টেশন। এ পর্যন্ত যারা মারা গেছে তারা চলন্ত ট্রেনে উঠানামা, রেলপথ পারপার, ট্রেনের ছাদে ভ্রমনরত যাত্রী, দুই বগীর সংযোগ স্থলে বসে যাতায়াত কিংবা ট্রেনের দরজার হাতলে ঝুলন্ত অবস্থায় যাতায়াতকালে অসাবধানতা বশত ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এ সকল মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ট্রেনের ছাদে ভ্রমন নিষিদ্ধ করলেও এইসব স্টেশন থেকে বিশেষ করে লোকাল ও মেইল ট্রেনের অসংখ্য যাত্রী ট্রেনের বগী সল্পতার কারনে ঝুকিপুর্ন ভ্রমন করায় এসকল মৃত্যু হয়।

অমৃত লাল দাশ , ভৈরব রেলওয়ে ষ্টেশন মাষ্টার জানান, বিরতিহীন ট্রেন আসার মুহুর্তে ষ্টেশনে মাইকিং করে জানানো হয় যাতে করে অপেক্ষমান যাত্রীরা নিরাপদ দুরত্ত বজায় রাখে। রেল লাইন পারাপারের সময় যাতে ওভারব্রীজ ব্যবহার করে। তাছাড়াও দেখা যায়, অনেক সময় বিরতিহীন ট্রেন থেকে অনেক যাত্রী এ ষ্টেশনে নেমে থাকেন। বিরতীহিন ট্রেন থেকে চলন্ত অবস্থায় নামতে গিয়েও অনেক যাত্রী ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মারা গেছে। চলন্ত অবস্থায় ট্রেনে উঠা নামা মোটেই উচত নয়। রেল ষ্টেশন কর্তৃপক্ষ সব সময়ই যাত্রীদের নিরাপদের জন্য সতর্কতা মূলক প্রচারণা করে থাকে।

মো ঃ জাহাঙ্গির আলম ( ওসি ) আর এন বি ভৈরব রেলওয়ে জংশন ষ্টেশন জানান, ট্রেনের ছাদে , ইঞ্জিনে, কিংবা দুই বগীর সংযোগস্থলে বসে যাত্রীরা ভ্রমন না করে সেজন্য আমরা নিযমিত অভিযান পরিচালনা করে থাকি। ট্রেন আসার আগ মুহুর্তে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সাইরেন বাজিয়ে যাত্রীদের সতর্ক করে দিই যে ট্রেন আসতেছে। যাত্রীরা সতর্কতা অবলম্ভন না করে ট্রেনে ভ্রমন করার ফলে অনেক সময় অনাকাঙ্খিত মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে থাকে।

মো ঃ আব্দুল মজিদ , অফিসার ইনচার্জ ভৈরব রেলওয়ে থানা বলেন , রেলওয়ে পুলিশ ট্রেনে ঝুকিপূর্ণ রেল ভ্রমনের দায়ে আর্থিক জরিমানা করে আদালতে সোপর্দ করা হলেও জরিমানা দিয়ে বেরিয়ে এসে তারা পুনরায় ঐ পথই বেছে নেয়।

এসব দুর্ঘটনা এড়াতে চলন্ত ট্রেনে ওঠানামা ত্যাগ এবং ষ্টেশনে ষ্টপেজ নেই এমন ট্রেনে ভ্রমন না করাসহ ওভারব্রীজ ব্যবহার করা হলে ওই সকল অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে। ট্রেনের বগীর ভিতরে বসে যাতায়াত ব্যতিত জুঁকিপুর্ন ভ্রমন অনেকটা রোধ করা গেলেও গত বছর ২০১৮ ইং সালে ১২০ টি অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসকল অপমৃত্যুর ঘটনায় ভৈরব রেলওয়ে থানায় ১২০ টি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে।

খবরটি শেয়ার করুন..








© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com
Desing & Developed BY W3Space.net