বুধবার, ১৬ জানুয়ারী ২০১৯, ১০:৩২ অপরাহ্ন



শিম চাষে স্বাবলম্বি জৈন্তাপুরের জয়নাল

শিম চাষে স্বাবলম্বি জৈন্তাপুরের জয়নাল



সিলেট ব্যুরো: জৈন্তাপুর উপজেলার কামরাঙ্গীখেল গ্রামের জয়নাল মিয়া। অন্যের জমি বর্গা চাষ নিয়ে নেমে পড়েন শিম চাষে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ছাড়াই স্বপ্ন পূরণ হয় জয়নাল মিয়ার। প্রতি বছর তিনি অন্যের জমি বর্গা নিয়ে পুরো বছরের অর্থ সঞ্চয় করেন৷ ৩ সন্তানকে পড়াচ্ছেন স্কুলে। সরেজমিনে ১নং নিজপাট ইউনিয়নের শিম ক্ষেতের মাঠ ঘুরে জয়নাল মিয়ার সাথে আলাপ করে জানা যায়- কৃষি বিভাগের পরমর্শ ছাড়াই প্রায় তিন একর জায়গায় ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে গড়ে তুলেছেন শিম ক্ষেতের মাঠ। বর্তমানে প্রতিদিন হাজার টাকার শিম বিক্রয় করেন তার শিম মাঠ হতে। তিনি জানান- এরই মধ্যে তিনি প্রায় ১৫-১৬ হাজার টাকার শিম বিক্রয় করেছেন।

যেভাবে ফলন এসেছে সঠিক ভাবে উত্তোলন করতে পারলে তিনি আড়াই থেকে ৩ লক্ষাধিক টাকার ফলন পেতে পারেন বলে তার আশা৷ জয়নাল মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন- সরকারি সুযোগ-সুবিধা তিনি কখনো পাননি। ৫ বছর পূর্বে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে কৃষি কার্ড করেছিলেন। কিন্তু কোন সুফল পাওয়া তো দূরের কথা, কেউই তার সাথে যোগাযোগ পর্যন্ত করেনি। কার্ডের মাধ্যমে কৃষক হয়েছি কিন্তু সুবিধা পাই না, তাই তিনি মনে করেন কার্ডটি রাখার প্রয়োজন নেই। তাই তিনি ২ বছর পূর্বে কৃষিকার্ড জমা দিয়েছেন। তিনি চলতি বছরে প্রায় ৭ বিঘা জায়গায় ইরি ধান রোপণ করছেন। তাছাড়া কামরাঙ্গী গ্রামের বিভিন্ন প্রান্তিক কৃষকরা ও বিভিন্ন প্রকারের সবজি এবং ইরি ধান চাষ করছেন।

জয়নাল আরও বলেন- যদি কৃষকরা হালের গরু এবং নিজের মেধা কাজে লাগিয়ে ২০-৩০ হাজার টাকা ব্যয় করে পতিত ভূমিতে খন্ড কালীন চাষাবাদ করে তাহলে ২-৩ লক্ষ টাকা খরচ করে বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে ভাল রোজগার করা সম্ভব হবে এবং অভাব-অনটন থাকবে না।

১নং নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুর এলাহী স¤্রাট বলেন- তার ইউনিয়নে ব্যাপক হারে কৃষি সবজি চাষ হয়েছে। তবে বিশেষ করে সরকারি ভাবে অনেক প্রান্তিক কৃষকরা সুবিধা পাচ্ছে না। আমি উপজেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানাই আমার ইউনিয়নে বেশির ভাগ কৃষক সুবিধা বঞ্চিত রয়েছে তাদেরকে বিনামূল্যে সার বীজ ক্রীট নাশক সরবরাহ করার। সরকারি সম্পদ সীমিত কিন্তু কৃষি অফিসাররা কৃষকদের মধ্যে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সাধারণ পরিচর্যা রোগ-বালাই ইত্যাদি সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা দিতেন তাহলে আমার ইউনিয়ন উপজেলার মধ্যে সেরা কৃষি নির্ভর ইউনিয়ন হিসাবে গণ্য হত৷ আমার ইউনিয়নে আগত কৃষকদেরকে সব সময় কৃষি বিপ্লবের জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকি। এক কথায় আমার ইউনিয়ন উপজেলার মধ্যে কৃষি বিপ্লবে এগিয়ে রয়েছে।

এব্যাপারে জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী মো:ফারুক হোসাইন জানান,কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে শিম চাষীদের প্রশিক্ষন দেওয়ার কারনে জৈন্তাপুর ভাটি এলাকার অনেকেই এখন স্বাবলম্বি। এখানের প্রায় ৫/৬ শ চাষী শিম চাষ করে থাকে। এবার জৈন্তাপুরে ১২০ হেক্টর জমিতে শিমচাষ হয়েছে।

খবরটি শেয়ার করুন..








© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com
Desing & Developed BY W3Space.net