সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০১৯, ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন



স্বামীর দা’য়ের কোপে নির্মমভাবে খুন হল রুমা!

স্বামীর দা’য়ের কোপে নির্মমভাবে খুন হল রুমা!



সাইফুর রহমান শামীম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের চিলমারীর থানার আকন্দ পাড়ার রহিদুল হকের একমাত্র মেয়ে রুমা (১৯) গত বৃহস্পতিবার পাষন্ড স্বামীর দা’য়ের কোপে নির্মমভাবে খুন হয়েছে। এ বিষয়ে উলিপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে মামলা নম্বর: ০১ তারিখ: ০৪/০১/২০১৯। এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২ বছর পূর্বে উলিপুর উপজেলার নারিকেল বাড়ী পূর্ব ছড়ার পাড় গ্রামের মৃত চান্দ উল্যা হাজীর ছেলে আ. ছালাম (৩০) এর সহিত বিবাহ হয় রুমার। আ. ছালাম বিবাহের পূর্বে তার ভাবীর সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়েছিল বলে পারিবারিকভাবে বিষয়টি তার এলাকাতে জানাজানি হয়। তড়িঘরি করে রুমার সাথে বিবাহে আবদ্ধ করেন আ. ছালামের পরিবার। বিবাহের পরও ছালামের পরকিয়া চলতে থাকলে রুমা বিষয়টি জানতে পারায় প্রতিনিয়তই রুমার উপর পাশবিক অত্যাচার শুরু করে তার রুমার স্বামী । এ অবস্থায় ঘর সংসার চলাকালিন রুমা অন্তঃসত্তা হলে ১ বছর পর একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।
জানা যায়, গত ০২ জানুয়ারি সকাল অনুমান ১০ টায় ছালাম রুমার উপর নির্যাতনের একপর্যায়ে লোহার দা’য়ের উল্টো দিক দিয়ে ঘাড়ে স্বজোড়ে আঘাত করে এবং লাঠি দিয়ে পেটে আঘাত করায় রুমা মারাত্মকভাবে আহত হয়। এ সময় মৃত্যু যন্ত্রনায় রুমা মাটিতে গড়াগড়ি করতে থাকলে স্থানীয় কোন ব্যক্তির মাধ্যমে পার্শ্ববাড়ি রুমার খালা বিলকিস বেগম তাকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। ঐ দিনেই ছালাম তার পরিবারের লোকজনসহ পরিকল্পিতভাবে রুমাকে চিকিৎসার নামে তার খালার বাড়ি থেকে নিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে আসে এবং আবারো তার উপর নির্যাতন চালায়।
রুমার অবস্থার চরম অবনতি হলেও তারা চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে বাড়িতেই রেখে দেয়। অপর দিকে বিলকিসের মাধ্যমে রুমার মা খবর পেয়ে রুমার বাড়িতে আসলে রুমাকে মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় দেখে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উলিপুর হাসপাতালে নিয়ে আসলে রুমার অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ০৩/০১/২০১৮ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় রুমার অবস্থার চরম অবনতি হলে ঐ দিনই রাত ৮.২০টায় মৃত্যু হয়। গত শনিবার রাতে পোস্ট মর্টেম শেষে চিলমারী আকন্দপাড়ায় রুমার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
পাষন্ড আ. ছালাম ও তার সহযোগিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করেন মৃত্যের আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী। উলিপুর থানা পুলিশ ঘাতকসহ কাউকেই এখনো পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি বলে জানা গেছে।

খবরটি শেয়ার করুন..








© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com
Desing & Developed BY W3Space.net