মঙ্গলবার, ১৬ Jul ২০১৯, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন



শ্রীপুরে পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই ফসলি জমিতে ইটভাটা

শ্রীপুরে পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই ফসলি জমিতে ইটভাটা



এমদাদুল হক,নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া ফসলি জমিতে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। গত কয়েক মাসে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের তালতলি গ্রামে বিএবি ব্রিক্স ও বরমী ইউনিয়নের বরকুল গ্রামের মেসার্স শ্রাবণ ব্রিক্স (এসবিএম) নামে ইটভাটা ২টি গড়ে উঠেছে। লোকালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি নির্মিত তালতলি গ্রামের ভাটায় ইট পোড়ানো চলছে পুরোদমে। বরকুল গ্রামে প্রায় ২৫ বিঘা ফসলি জমির ওপর অন্য ভাটাটিতে ইট পোড়ানোর কাজও শুরু হয়েছে।
জানতে চাইলে গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবদুল ছালাম সরকার বলেন, ওই দুটি ইটভাটা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে কোনো ছাড়পত্র নেয়নি। তাই সেগুলো অবৈধ। এসব ভাটার বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইট ভাটার অবস্থান হতে হবে লোকালয় ও এলজিইডির পাকা সড়ক থেকে ৩ কি:মি: দূরে। প্রস্তাবিত জায়গাটি আবাদি কি না সে ব্যাপারে কৃষি বিভাগের প্রত্যয়নপত্রসহ আনুষাঙ্গিক কাগজপত্রসহ আবেদনপত্র হাতে পেলে সরেজমিনে তদন্ত করে পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। কৃষি বিভাগ থেকে অনাবাদি জমির প্রত্যয়ন না দিলে পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদানের প্রশ্নই আসে না।


শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম মূয়ীদুল হাসান বলেন, উপজেলার বরকুল ও তালতলি গ্রামে আবাদি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ করায় কৃষি বিভাগ থেকে কোনো প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়নি। ২৬ জানুয়ারি বরকুল গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় ২৫ থেকে ২৬ বিঘা আয়তনের আবাদি কৃষি জমি নষ্ট করে ইটভাটা নির্মাণের করা হয়েছে। একেবারে লোকালয় ঘেঁষেই ভাটা। ফসলি জমির মাটি কেটে পাশে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। ইট ভাটার ব্যবস্থাপক কফিল উদ্দিন বলেন, ২৫ বিঘা জমির মধ্যে কিছু নিজের ও কিছু অন্যের কাছ থেকে ইজারা নেওয়া হয়েছে। এগুলো কৃষি জমি কৃষকরা ভাড়া দিছে।
বরকুল গ্রামের ৪/৫জন কৃষক বলেন, গত আমন মৌসুমেও ওই ২৫-২৬ বিঘা জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। অন্য বছর এ সময় বোরো চাষ হতো। কিন্তু এখন ফসল চাষের বদলে জমিতে ইটভাটা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে শুধু ওই ২৫-২৬ বিঘা জমিতেই কৃষি চাষাবাদ বন্ধ হচ্ছে না, ইটভাটার নির্গত ধোয়ায় পাশের গোটা মাঠজুড়ে শত শত বিঘা জমিতে ফসল চাষাবাদ হুমকির মুখে পড়ছে। তাঁরা আরো বলেন, লোকালয় ঘেঁষে আবাদি জমিতে এভাবে ইটভাটা নির্মাণের বিপক্ষে এলাকার কৃষকেরাও। কিন্তু ভাটার মালিক এলাকার খুব প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করতে পারছেন না।
অন্য দিকে তালতলি গ্রামের বিএবি ব্রিক্সের মালিক সাবেক ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদিন বলেন, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও প্রশাসন থেকে লাইসেন্স এখনো নেওয়া হয়নি, তবে ভাটা নির্মাণের পর এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবির বলেন, শ্রীপরে নতুন কোনো ইটভাটার লাইসেন্স প্রদান করা হয়নি। কৃষি জমিতে কোন ভাবে অবৈধ ভাটা নির্র্মাণ করতে দেয়া হবে না। কোথাও ইট প্রস্তুত ও ইটভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে কি না তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খবরটি শেয়ার করুন..








© All rights reserved 2018 somoyersangbad24.com
Desing & Developed BY W3Space.net